আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফেসবুক থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবো। প্রথমত, ফেসবুক এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমের কাতার থেকে উঠে প্রচার মাধ্যমে পরিনত হয়েছে। নিউজ ফিড স্ক্রল করার সময় প্রচুর পরিমানে অনাকাঙ্খিত বিজ্ঞাপন চলে আসে। যা আমাদের কর্মঘন্টা থেকে শুরু করে বিনোদন ও অবসর কাটানোর যৌক্তক মূহুর্তগুলোকে নষ্ট করে একঘেয়েমিতে পরিনত করছে। যেটা নানান ধরনের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক-পারিবারিক মেলবন্ধনে ফাঁটল ধরাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এটা অপ-প্রচার ও মিথ্যাচারের অন্যতম কুরুক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। যা মানব সভ্যতায় নানা অমানবিক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। ভুয়া একাউন্টের যন্ত্রনা তো আছেই। এছাড়া আরো একটি কারন রয়েছে। সেটা হচ্ছে, ফেসবুকে এখন ত্যাঁনা প্যাঁচানো, ল্যাঁদানো, কুরুচিসম্পন্ন লোকজনে ভরে গেছে। তারা প্রতিনিয়ত অসভ্য ও অজ্ঞতাপূর্ণ (জাত-চেনানো) আচরণ করে চলেছে ফেসবুকের ন্যায় ভার্চুয়ালি একটি খোলা যায়গায়। কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কথা আর নাই বলি। সবাই নিজের মতকে অকাট্য মনে করে। অন্যের মতকে সম্মান করা দূরে থাক, হিংস্রতায় ভরা গালিগালাজ করতেও কসূর করে না। কুরান-হাদিস পড়া দূরে থাক, এক ওয়াক্ত নামজও পড়ে না, তারাই ধর্মের কর্নধার ফেসবুকে। বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছি, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন এবং হোয়াটস-অ্যাপকে। চতুর্থত, গত কয়েকদিন আগে ফেসবুক একাউন্টের তথ্য-উপাত্তের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে। যেট নিজের অজান্তে নিজেকে মাফিয়াচক্র বা ডাকাত ইত্যকর হস্তে সমার্পন করার সামিল। পঞ্চমত, এখানে মত প্রকাশের অবাধ প্রবাহের কারনে সংযম, সম্মানবোধ হারিয়ে ভাষাগত দৈন্যতায় পতিত হচ্ছে। প্রাণের বিনিময়ে রক্ত দিয়ে কেনা ভাষা ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে কতিপয় বখাটের করাল-গ্রাসে। ষষ্ঠত, লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারবাজদের যাতনায় অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। সবাই লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের আশায় দিনাতিপাত করে। সেলফিবাজ ছবিয়ালদের কথা আর নাই বললাম! মনে হয় এটাই জীবনের ক্লাইমেক্স। কিন্তু, ক্লাইমেক্স যে পতন ডেকে আনে তা কেউই মনে হয় জানে না।
জীবন ও সময়-সম্পদ ক্ষয় করে এত বেশি ভার্চুয়ালি-সামাজিক হওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজন-অতিরিক্ত যে কোন জিনিসই ক্ষতিকারক।
(বোধ থাকলে বুঝে নিন কি বলতে চাই। না বুঝতে পারলে কতৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। কারো অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্খিত।)