আপনি আমার সমালোচনা করে ধুয়ে-মুছে ছাপ করে দিতে পারেন। তাতে আমার কোন সমস্যা নাই। তবে, অপ-প্রচার চালানোটা অন্যায় এবং একই সাথে অপরাধ। সেটা বরদাশত করা যাবে না।
আপনি আমাকে গালি-গালাজ করতে পারেন। তাতে আমার বিশেষ কিছু হবে না। বরঞ্চ, এটা আপনার অস্বাভাবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। আপনি যে একজন ব্যক্তিত্বহীন নর-পিশাচ তার প্রমান বহন করবে।
আধুনিক সভ্যতায় সমালোচনা একটি অনন্য শিল্প-সত্ত্বা লাভ করেছে। তবে, এই শিল্প-সত্ত্বায় পৌছানোর জন্য সমালোচনাকে অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে। একপেশে সমালোচনা হলে সেটা গঠনমূলক হবে না। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন বজায় রেখে তথ্য-প্রমান, পর্যবেক্ষন সাপেক্ষে গঠনমূলক সমালোচনার ভিত্তি রচিত হয়।
একপেশে সমালোচনায় থাকে ব্যক্তি স্বার্থ কিংবা গোষ্ঠী-চেতনার পূর্ণরূপ। সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বময় মঙ্গল-চিন্তা হেথায় অনুপস্থিত থাকে। সমালোচনার সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ যোগসুত্র রয়েছে। অনেকে রয়েছে নিজের মতপ্রকাশ করার ক্ষমতাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মনে করে। অন্যরা যখন তার বা সম্পর্কিত কোন বিষয়ের সমালোচনা করে তখন সহ্য করা তার পক্ষে মুশকিল হয়ে যায়।
এটা অন্যায়বোধের সামিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে সব মানুষই মানুষ হিসেবে নিজস্ব মত প্রকাশ করা অধিকার রাখে। এখানে অন্য ব্যক্তি দ্বারা তার মত প্রকাশ করার ক্ষমতাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা এটা প্রকৃতির বিরুদ্ধ আচরণ। কারন, প্রকৃতিগতভাবে মানুষ কথা বলার অধিকার সংরক্ষন করে।
কোন কিছুর দোহায় দিয়ে যৌক্তিক মত প্রকাশে বাঁধা দেয়া নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করে। ঠিক তেমনি অন্যের স্বাধীন, যৌক্তিক মত প্রকাশের কারনে হত্যা, ক্ষয়ক্ষতি বা হুমকি প্রদান করাও নিজের চারিত্রিক ও জ্ঞানের দূর্বলতা প্রকাশ করে এবং এটা শাস্তিযোগ্য বড় ধরনের অপরাধ।
অনেককে এমন সমালোচনা করতে দেখেছি যে, নিজের মতের বিরুদ্ধে গেলে জনসমাবেশে গালিগালাজ করে যাচ্ছে-তাই-ভাবে বলতে। কিন্তু, তার বা তার মতের সমালোচনা করলে রেহায় নেই। অনুভূতিতে আঘাত পেয়ে রীতিমত হাঙ্গামা বাধিয়ে দেয়।
একটি সুস্থ্য-সুন্দর গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানে গঠনমূলক-সমালোচনা অত্যন্ত কার্যকরী মাধ্যম। তার জন্য সবার পারস্পরিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য। সহনশীলতা, সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ পারে গঠনমূলক সমালোচনার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।