সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জঘন্য সৌদি আরব

আমি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলাম এক সময়। পড়ালেখার খাতিরে সৌদি আরব সম্পর্কে বেশ উচ্চ-মার্গীয় কথা-বার্তা শুনেছি হুজুরদের কাছ থেকে। এমনকি নবীর দেশ বলে, সেখানকার সম্পর্কে অতিশায়ন অনেক কথাও পড়তে হয়েছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। তাও আবার ইতিহাস পড়তে। তখন নানা ধরনের ইতিহাস পড়তে শুরু করলাম। সৌদি আরবের ইতিহাস পড়ার প্রতি আগ্রহটা অনেক বেশিই ছিল। কারন, নবীর দেশ। একটু অন্য রকম ভালো লাগা থেকে।

পড়ার শুরুতেই মারামারি। আমি ছোটবেলায় মারামারি করতে পারতাম না। তাছাড়া, আমার দিয়ে ঝগড়াও হতো না। বাবা-মার কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিলো মারামারি এবং ঝগড়া-ঝাটির ব্যাপারে। তারা বলতো এগুলো মানুষের জন্য না। যারা অমানুষ তারাই করে। তারা কি বুঝে বলেছিলো তাদের ব্যাপার কিন্তু আমার কাছে বিষয়গুলো ছিলো মান্যতার শিখরে। শরীরে রাগ না থাকলে যা হয়। এগুলো আমাকে মানবিক হতে শিখিয়েছে। সে কারনে, যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারামারি এগুলো ভালো লাগে না।

যাহোক, যুদ্ধ আর মারামারি দিয়ে শুরু। তার কোন শেষ নেই। এভাবে দিনদিন সৌদিসহ মধ্য-প্রাচ্যের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হতে শুরু হলো। মধ্য-প্রাচ্য আর সৌদির বিষয়ে পড়তে গেলে শরীর ঘিনঘিন করে। মনে হয় যেনো মানুষ মারার যন্ত্র তারা। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য স্বাধীনতা আন্দোলনকে তারা প্রতি পদে পদে দমন করে। এমনকি ইহুদি মৌলবাদী ইসরাইলকে তারা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। কয়েকদিন আগে তারা নিজেদের বিমান-বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়েছে ইসরাইলকে।

বর্তমান সময়ে, সৌদি আরবে যারা কাজ করতে যায় তাদের ভাষ্যমতে সৌদি আরবে নাকি মানুষ থাকে না সবই অমানুষের কারখানা।

একটা সময় ছিলো সৌদি আরবের মানুষ না খেয়ে থাকত। না খেয়ে দিনাতিপাত করত। সমগ্র মধ্য-প্রাচ্যের লোকজন ভারতসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে কাজের সন্ধানে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতো, যাযাবরের মত জীবন-যাপন করতো। বিংশ শতকে তেলের আবিষ্কারের পর তাদের জীবন-যাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। যদিও এই তেল অাবিষ্কার তাদের কৃতিত্ব নয়। এটা আমেরিকান কোম্পানী করেছিলো।

আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ক্লাসে একটি গল্প বলেছিলেন, এক ব্যক্তি তিনটি মাথা বিক্রি করার জন্য নিলাম ডাকলেন। সেখানে ব্রিটিশ মাথার দাম ৩০ ডলার আর আমেরিকান মাথা ৭০ ডলার। শেষ মাথাটি সৌদি আরবের তার দাম ৫০০ ডলার। একজন ক্রেতা বললেন, আমি সৌদির মাথাটায় কিনবো। তবে তার আগে বলতে হবে এত দাম কেনো, অন্যগুলোর তো এত না? তখন বিক্রেতা বললেন, এটা এখনো ব্যবহার হয়নি তাই!

যাহোক, ইদানিংকালে সৌদি আরবে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকও পাঠানো হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার পর নারীরা কিছুদিন পর দেশে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে। খোজ-খবর নিয়ে জানা যায়, যে সকল নারী সেখানে কাজ করতে যায় তাদের সাথে খুবই দূর্ব্যবহার করে সৌদিরা। এমনকি যৌন কাজেও ব্যবহার করে। সকালে বাবা, বিকালে ছেলে। কতটা জঘন্য হতে পারে মানুষ! ভাবতেই ঘৃনা লাগে। এমনকি তারা ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশের মুসলমানদের মুসলমান মনে করে না এবং দাস-দাসী হিসেবে ব্যবহার করে।

আমার পরিচিত অনেকে সৌদি আরবসহ মধ্য-প্রাচ্যের দেশে থাকে। তাদের কাছ থেকে এ সকল ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তাছাড়া, ইউটিউবেও অনেক ভিডিও দেখেছি নির্যাতনের।

অনেক দিন-কানা রয়েছে, যাদের সামনে সৌদিরা নির্যাতন করলেও তারা এগুলো বিশ্বাস করবে না বা নবীর দেশ বলে চালিয়ে দেবে। ভাই! কান্ডজ্ঞান বন্ধক রাখবেন না। একটু চিন্তা-চক্ষে খোলা আকাশের নিচে তাকান। মানুষকে মানুষ ভাবুন। সৌদিদের মত দাস-দাসী বা ইত্যকার প্রাণী ভেবে শ্রেণীকরণ করবেন না।

যদিও সৌদি আরবের বাদশা-নামদারের ছেলে সৌদি আরবকে একটি মধ্যপন্থী দেশের স্তরে উঠানোর চেষ্টা করছে। না জানি ক'দিন পর তারা উদার-পন্থীর ঘোষনা দিয়ে বসে! কারন, স্বাধীনতার স্বাদ অন্যরকম। অবদমিত মন ছাড়া পেলে যা হয় আর কি!

তারা তাদের দেশে বানিজ্যিক সিনেমা মুক্তির অনুমতি দিয়েছে। নারীদের মাঠে খেলা দেখার, সাইকেল চালানো, গাড়ী চালানোর অনুমতি দিয়েছে। আরো কিছু বিষয়ে তার কট্টর-পন্থা ত্যাগ করেছে। তবে, এটা মনে করা ভুল হবে যে, তাদের মানসিকতার কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। বংশগতির দিক থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে কট্টর ইসলামিক ছিলো। কাজেই, এক লাফে তারা ছাদে উঠে গেছে ভাবাটা বাঁতুলতা ছাড়া কিছু হবে না।

আমাদের দেশের কিছু অতি-উৎসাহী লোক আছে তারা মনে করে সৌদি আরব নবীর দেশ, তারা কখনো ভুল করতে পারে না। ওখানে আল্লার বিশেষ রহমত রয়েছে। বলি কি ভাই! সৌদি আরব কিন্তু অন্ধ-কুটির থেকে বাহির হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। নিজেকে আর কতদিন অন্ধ-কুটিরে বন্ধি করে রাখবেন।

সৌদিতে শরীয়া আইন শিথিল হচ্ছে। আর আপনারা সেটার প্রতি অন্ধ-মোহ নিয়ে চাঁতক-পাখির মত চেয়ে আছেন। বর্তমান সময়ে টিকে থাকাটাই আসল সংগ্রাম। এটা সৌদি বুঝতে পেরেছে। এই সংগ্রামে পিছুটান বলে কিছু নেই। তাই সৌদিরা নিজেদেরকে সংস্কারের পথে ধাবিত করেছে। আর আপনি নিজের ক্ষুদ্র-স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতিকে চরম বিপন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন! ধিক্কার জানাই আপনার নিচু পিরপিত্তির জন্য।

শরীয়া আইন আরো অনেক দেশে চালু ছিলো। তারা সংস্কার করে নিজেদের আধুনিক আইন-কানুনের পথে ধাবিত করেছে। যে সকল দেশে এখনো আছে খোজ নিয়ে দেখুন তারা বের হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।

শরীয়া আইনের সবচাইতে বড় সমস্যা প্রাচীন হওয়ার কারনে আধুনিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। এটা তো সহজ একটি কথা, সময়ের সাথে সাথে সব কিছু পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ-খাওয়াতে না পারলে মানুষ অনায়াসে পিছিয়ে পড়ে।

শরীয়া আইনকে আমরা বড়জোর প্রাচীন একটি আইন হিসেবে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারি। তবে, এর উপযোগিতা বেশিরভাগটাই হারিয়ে গেছে। সে কারনে আমাদেরকে নতুন করে সময়ের দাবি মেনে চলতে হবে। তা'না'হলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবনে যোজন যোজন পিছিয়ে পড়বো।

নারী প্রগতির প্রতি আমাদের আরো বেশি সহনশীল হতে হবে। নারীরা যাতে সমানাধিকার পায় সেটার কার্যকর বন্দোবস্ত করতে হবে। নারীর চলার পথকে আরো মসৃণ করতে হবে। সেটার জন্য আমরা সকলে মিলে কাজ করবো।

শিশু-কিশোরদের শিক্ষকদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। শিক্ষকরা যাতে শিশু-নির্যাতন বন্ধ করে সঠিক শিক্ষা দিয়ে মানুষ এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক একমূখী শিক্ষার বন্দোবস্ত করতে হবে। সব নাগরিকই যেন এই শিক্ষা-ব্যবস্থার আওতায় আসে সেটার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। বহুমূখী শিক্ষা-ব্যবস্থা একপ্রাণ-একজাতি গঠনের প্রধান অন্তরায়।

সর্বোপরি, আমার দেশ সোনার বাংলাদেশ। এদেশের প্রত্যেকটা মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করুক। যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারামারি যেন এখানে আঘাত না হানে। সবাই সবার অধিকার ভোগ করুক নিজস্বতায়।