০১. একটি ইতিবাচক প্রজন্মই পারে সুন্দর একটি জাতি গঠন করতে। তাই, একটি ইতিবাচক জাতি গঠনে একটি ইতিবাচক প্রজন্ম প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে একটি কথা, ভাংড়ি দিয়ে ভালো কিছু প্রত্যাশা করাটা বোকামী।
০২. প্রেম একটি ব্রান্ডি জিনিস হয়ে গেছে। এক বয়সে, সবাই প্রেম করার চেষ্টা করে; না পারলেও। আর শেষমেষ যদি না পারে তাহলে হা-হুতাশ করে বলে, আমার কপালে প্রেম নাই! যে ব্যক্তি প্রেমকে অবৈধ বা ঘৃন্য বলে অপপ্রচার চালায়, সেও প্রেম করে বা সুযোগ খোজে। হাঁস্যকর বঁটে!
০৩. মানুষ যখন ভালো মানুষের প্রশংসা করে তখন এমন করা করে যে, বিশ্বাস-যোগ্যতা হারায়। আবার যখন খারাপ মানুষের সমালোচনা করে তখন এমন করা করে যে, ধ্যান-ধারনার বাইরে চলে যায়। সঠিক অর্থাৎ হক কথা বলতে পারাটায় উত্তম চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের লক্ষণ।
০৪. যারা ভালো কথা সহ্য করতে পারে না; তারা খারাপ; এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর যারা মানুষের মঙ্গল-কথা, মানবতার কথা সহ্য করতে পারে না; তারা মনুষ্য-বিদ্বেষী, মানবতা-বিরোধী; এতেও কোন সন্দেহ নেই।
০৫. আপনি বয়সে বড় হতে পারেন; কিন্তু, আপনার কর্ম যদি অন্যায় এবং অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে আপনার বড়ত্বের মাপকাঠিতে মাপাটা ভুল হবে। আপনি দাবিও করতে পারেন না। দাবি করাটাও ভুল হবে।
০৬. আপনি যেমন অন্য মানুষকে ঠিক তেমনটা দেখতে চাওয়া চরম বোকামী! কারন, পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত। এ হিসেবে, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটা স্বাভাবিক।
০৭. সন্তান খারাপ হলে প্রথমে দোষ হয় মা'র। সর্বোপরি মা-বাবার দোষ। কারন, সন্তান মা-বাবার দায়িত্ব-কর্তব্যের আওতায় থাকে। মা-বাবার দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার জেরে সন্তান খারাপ হয়ে যায়। দায়ভার সন্তানের ঘাড়ে চাপানো, 'উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো'র মত হয়ে যায়।
০৮. দেখা যায়, অনেক সময় অনেক মানুষকে আদিখ্যেতা করতে। এটা আসলে চরম মাত্রার একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির নাম। আদিখ্যেতা করা যাবে না। এটা অন্যকে বিব্রত করে। অনেক ক্ষেত্রে এটা ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। যে কেউ যে কোন বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা করতে পারে। আদিখ্যেতা করা খুবই খারাপ! এটা একজন ব্যক্তির দূর্বল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। চরিত্রের মাখামাখি এবং জগাখিচূড়ী মার্কা অবস্থার কারনে মানুষ আদিখ্যেতা করে নিজেকে অন্য বিষয়ে আড়াল করার চেষ্টা করে।
০৯. আমি নিজের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখি। নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। কারন, নিজের প্রতি আস্থা না থাকলে, নিজেকে ভালোবাসতে না জানলে অন্যের প্রতি আস্থা রাখা যায় না, অন্যকে ভালোবাসা যায় না।
১০. ভালো মানুষ হওয়ার জন্য আপনার ইচ্ছায় যথেষ্ট। একজন মানুষকে কোন রকম লাভ ছাড়ায় সাহায্য করুন। দেখবেন, নিজের ভেতর অন্য রকম শান্তি অনুভব করবেন। এটাই তো একজন ভালো মানুষের অন্যতম গুন।
১১. কঠোর পরিশ্রমের পর যে ফলটা অাসে ওটাই মেধার পরিচয়। আসলে মেধা বলে তেমন কিছু নেই। কঠোর পরিশ্রম আর মনে রাখার শক্তিই আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
১২. জীবনে চলার জন্য টাকার প্রয়োজন আছে; এটা ঠিক। কিন্তু, টাকা দিয়ে মানুষের জ্ঞান বা প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে না। জ্ঞান জিনিসটা মানুষের চিন্তা-চেতনার উন্নতি ও বিকাশ ঘটায়। আর টাকা অনেক সময় মানুষকে হিংস্র জন্তু জানোয়ারে পরিনত করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন জিনিসই ভালো ফল দেয় না; একমাত্র জ্ঞান ছাড়া।
১৩. দুধ লাথি মারা গরুতেও দেয় আবার শান্ত-শিষ্ট গরুতেও দেয়। এখন কথা হচ্ছে, লাথি মারা গরু ১০ কেজি দুধ দিলেও তা নেয়া বড়ই কষ্ট-সাধ্য। আর শান্ত-শিষ্ট গরু ১ কেজি দিলেও তা অনায়াসে নেয়া যায়।
১৪. আমি মনে করি, আস্তিকতা এবং নাস্তিকতা দুটোই কৌশলগত সামাজিক শ্রেণীকরণ। আর যে কোন ধরনের শ্রেণীকরণই মানুষের জন্য অমঙ্গলদায়ক। একমাত্র মানবতাবোধই মানুষের জন্য মঙ্গলদায়ক বিষয়। অর্থাৎ, মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায় যে বোধ সেটাই। রক্ত-মাংস, প্রাণের অধিকারী মানুষের একটাই শ্রেণীকরণ হতে পারে সেটা হচ্ছে, আমরা মানবজাতি।
১৫. ভালো কাজ করলে একদিন তার ফল পাবেন। মৃত্যুর পর মানুষ দুনিয়ায় আপনার সৎকর্মের জয়গান গেয়ে যাবে।