ধর্মীয় রাজনীতি ও উন্নয়নের রাজনীতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, পিছুটান ছাড়ে না ধর্মীয় রাজনীতি। আর উন্নয়নের রাজনীতি সামনে এগিয়ে চলায় তার কাজ। পেছন ফিরে তাকানোর কোন সুযোগই নেই এখানে। নতুনত্ব সৃষ্টি এবং বাস্তবে রূপদান করাই উন্নয়নের রাজনীতির সার-কথা। এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধে। কারন, ধর্মীয় রাজনীতি পুরাতন নীতি-তত্ত্ব বাস্তবায়নকে অগ্রাধীকার দেয়; উন্নয়নের চাইতে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বড় অংশই ধর্মীয় রাজনীতির জাতাকলে পিষ্ট। বর্তমানের চেয়ে তারা না-পাওয়ার অতীতকে হতাশায় জর্জরিত মানুষের সামনে তুলে ধরে। নতুনত্বকে তারা ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের কাতারে ঠেলে দেয়। নতুনত্ব গ্রহনে সাধারন মানুষকে নিরুৎসাহিত করে তারা। কিন্তু, তারা একটু পরেই সেটা গ্রহন করে সাধারনের থেকে এগিয়ে থাকে বা চেষ্টা করে। চরম মাত্রার ভণ্ডামী যাকে বলে।
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, একেবারে যারা সাধারন জীবন-যাপন করে তাদের কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন পড়ে না। তারা সকালে উঠে কাজ করতে যায়, তিনবেলা খাওয়া এবং সন্তান লালন-পালন অর্থাৎ ছা-পোষা যাকে বলে। তাদের ধর্ম, রাজনীতি এসব নিয়ে ভাববার সময় নেই। যদিও বিষয়গুলো সবার সাথে আষ্টে-পিষ্টে জড়িয়ে গেছে। তবুও, তারা তাদের নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর প্রতি জোর দেয়। সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট হওয়ার চেষ্টা যাকে বলে। মধ্য যুগে আমাদের গ্রামগুলো এরকম সেল্ফ সাফিসিয়েন্ট ভিলেজ সিস্টেমে চলতো। সেটাকে প্রথমে ধর্ম দিয়ে, তারপর রাজনীতির কূটচাল দিয়ে থামিয়ে দেয়া হলো। ঐটার ভিতর দিয়ে আমার মনে হয় আরো ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব ছিলো। স্বয়ংসম্পূর্ন আত্মনির্ভরশীল মানুষ কখনো দেশের বোঝা হতে পারে না। বরং তারা দেশের সম্পদরূপে পরিগনিত হয়। এখন সিস্টেমটাকে ধর্ম আর রাজনীতির যাঁতাকলে ফেলে আটকিয়ে দিয়ে বেকার পরনির্ভরশীল মানুষ বৃদ্ধি করা হচ্ছে দিনদিন।
যেহেতু সিষ্টেম লস হয়ে গেছে সেহেতু ওটা নিয়ে কাঁন্নাকাটি না করে এখন শুধু উন্নয়ন আর আত্মনির্ভরশীল মানুষ গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তার জন্য ধর্মীয় রাজনীতির পুরাতন চিন্তা-চেতনাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে উন্নয়নাভীমূখী রাজনীতির চর্চা করতে হবে। তার জন্য মানুষের যে মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বিনোদন এগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন দরকার সর্বাগ্রে।