আস্থা, ভালোবাসা এবং মানবিক সম্পর্কের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। গঠন-কাঠামোগতভাবে এগুলো ধীরে ধীরে তৈরি হয়, গড়ে ওঠে। আবার ধীরে ধীরে মলিন হতে হতে হারিয়ে যায়। সম্পর্ক ক্লাইমেক্সে পৌছানোর পর পতন শুরু হয়। সম্পর্ক যখন চূড়া অভিমূখী থাকে তখন ধীরে আগায়। আর যখন চূড়া থেকে নিম্নগামী হয় তখন দ্রুত গতিতে পতন হয়। একটা সময় প্রিয় মানুষের প্রিয়মূখগুলো মানুষের মস্তিষ্ক থেকে হারিয়ে যায়। সুন্দর ইতিবাচক সম্পর্ক গড়া যথেষ্ট কষ্টসাধ্য; পতন রোধ করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসাধ্য হয়ে পড়ে।
হঠাৎ করে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো চূড়ায় পৌছানোর আগেই হঠাৎ ইউটার্ন নেয়। যে কারনে এ ধরনের সম্পর্ক দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। যে সম্পর্কের মধ্যে শুধু আবেগ থাকে সে সম্পর্কগুলো দ্রুতই ইউটার্ন নেয়। আবেগ এবং বাস্তবতার রসায়ন মানবীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গঠনে সহায়তা করে। শুধু আবেগ থাকলে সম্পর্কটা হঠাৎ করে অমানবিক হয়ে ওঠে। আর শুধু বাস্তবতা থাকলে সম্পর্কটা জড়-পদার্থের মত অনুভূতিহীন কড়চায় পরিনত হয়।
পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার, পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষের মানসিক গঠন ভিন্ন ভিন্ন। অন্যের মত-পথ গ্রহণ করতে না পারলেও, সম্মান-শ্রদ্ধা করতে হবে। এতে করে পারস্পরিক সম্পর্কটা সুন্দর হবে। মত-পথ মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিছুটা সামাজিকও বঁটে! তবে অধিকাংশটাই ব্যক্তিগত।
আবেগও একটি বাস্তবতা। প্রেম হচ্ছে একটি আবেগীয় বাস্তবতা। রিয়েল লাভ। যেখানে আবেগের সাথে বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় অন্য রকম এক রসায়ন। ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকবে এখানে; তবে, তার ছেড়া সুর উঠে না। আর বাস্তবতাহীন আবেগীয় প্রেমের সম্পর্কে আবেগীয় উচ্ছ্বাসটা বেশিই থাকে। এ কারনে একপক্ষীয়ভাবে প্রেমের ভুল-চুকের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো ভোগে। দ্বিপক্ষীয় ভোগ নিতান্তই কম।
ইতিবাচক চিন্তা-শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো সুন্দর করতে পারি। পৃথিবীকে উত্তমরূপে বাসযোগ্য করতে পারি। আসুন, মানবিক সম্পর্ক গঠনে আমরা আমাদের অপরীসিম ইতিবাচক চিন্তা-শক্তিকে কাজে লাগায়।