সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারী শিক্ষাঃ একটি মৌলিক মানবাধিকার

একটা বিষয় খুব অবাক লাগে! দেশে সন্তানের অভিভাবকেরা মেয়েদের পড়ালেখা বা আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে যতটা না ভাবে, তার থেকে বেশি ভাবে তাদের বিয়ে নিয়ে। মেয়েরা যেনো পাঁপের বোঝা তাদের কাছে! সমাজ ব্যবস্থা এমন এক কাঠামোর উপর দাড়িয়ে রয়েছে, যেখান থেকে বাহির না হতে পারলে ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ! ভুক্তভুগীকে দোষারোপ করে আমরা পার পাওয়ার চেষ্টা করি। খুবই জঘন্য ব্যাপার! মাথা ব্যাথা বলে মাথা কেঁটে ফেললে তো আর সমাধান পাওয়া যাবে না! পথ্যের ব্যবস্থা করাই সমীচীন বোধ করি। মাথা কেঁটে ফেলা যেমন মাথা ব্যাথার ঔষধ হতে পারে না; তেমনি বিয়েও নারীর শিক্ষা বা আত্মনির্ভরশীলতার বিকল্প নয়। আর নারীদের বোঝা মনে করা একটি সামাজিক ব্যাধি। এর প্রতিকার সম্ভব একমাত্র নারীর শিক্ষা এবং আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে। সুন্দর একটি জাতি বিনির্মানে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই।

অনেকে নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলে। অর্থাৎ, তারা নিজেদেরকে নারী বিদ্ধেষী হিসেবে উপস্থাপন করে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। নারী-পুরুষ নিজস্ব অঙ্গনের বাইরে আমরা সবাই মানুষ। আর শিক্ষা প্রত্যেকটা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর বিশেষ করে নারীর শিক্ষার উপর নির্ভর করে সুন্দর জাতি গঠন।

প্রত্যেকটা মানুষের (নারী-পুরুষ) আলাদা আলাদা অঙ্গন থাকে। সেই বিষয়গুলো টেনে অনেক সময় অনেকে নারীর অধিকার ও নারী শিক্ষার বিরোধীতা করে। এটা নিরেট বোকামী! প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গন অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে সম-অধিকারের দাবিদার। এটা তার অবশ্য-প্রাপ্য।

প্রত্যেকটা নারী একজন মা। এটা সবারই মনে রাখা উচিৎ। নারী শব্দটাকে অপমানিত, লাঞ্ছিত, নেতিবাচকভাবে প্রয়োগ করার আগে ভাবুন। কারন, নারীরা মায়ের জাতি। অনেকে বলে সবাই যদি মা হয়, বউ হবে কে! আরে গাঁধা, তোর বউও একজন মা। তোর সন্তানের মা। সুতরাং, মায়ের জাতকে আর গালি দিস না, বোকারা! মরা অজুহাতে, বঞ্চিত করিস না শিক্ষা থেকে।

নেপোলিয়ন যুদ্ধের ময়দানে বসে নারী শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তিনি বলেন, তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও; আমি তোমাদেরকে শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।

এটা নিতান্তই সাধারন জ্ঞান যে, মা যদি শিক্ষিত, জ্ঞানী হয় তাহলে সন্তানও সুন্দর মানুষ হবে; অন্তত অ-মানুষ হবে না; এতে কোন সন্দেহ নেই। ভাংড়ি জিনিস দিয়ে ভালো কিছু প্রত্যাশা করাটা বোকামী।

সন্তানের উপর, বিশেষ করে শৈশব এবং কৈশোরে মায়ের প্রভাব বেশি থাকে। মায়ের কাছ থেকে সন্তান তার ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি পেয়ে থাকে। আর বাবা সেটাতে চুন-কাম করে সৌন্দর্য-বর্ধন করে।

সন্তান জন্মদান থেকে শুরু করে লালন-পালনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষিত, জ্ঞানী মা তার সন্তানকে যেভাবে লালন-পালন করবে, অশিক্ষিত মায়ের পক্ষে সেটা অসম্ভব। এজন্য মায়ের শিক্ষার গুরুত্ব অপরীসিম।

জ্ঞান হচ্ছে দু'রকমের। এক. দিব্যজ্ঞান। দুই. কাণ্ডজ্ঞান। আমরা সচরাচার জীবন ধারনের জন্য যে সকল বিষয় চর্চা করি সেগুলো দিব্যজ্ঞানের আওতাভুক্ত। আর এ বিষয়গুলোকে যুক্তি, বিচার-বিবেচনা, ইতিবাচক চিন্তা-শক্তি দ্বারা উপলব্ধি করে শ্রীবৃদ্ধি করাকে কাণ্ডজ্ঞান বলে। নারী শিক্ষার বিষয়টি উপলব্ধি করা কাণ্ডজ্ঞানের আওতাভুক্ত বলে বোধ করি। যারা এটা উপলব্ধি করতে পারে না, তারা কাণ্ডজ্ঞানহীন; এতে কোন সন্দেহ নেই।

শিক্ষিত মা, সুন্দর আগামী গঠনে অপরীহার্য। আসুন, প্রত্যেক নর-নারীর মৌলিক অধিকার শিক্ষাকে নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হই। সুন্দর আগামী গঠন করি।