সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাণী কাঞ্চণ

০১. আমি লেখালেখি করি। এগুলো আপনার-আমার, সবার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা বাস্তব এবং চুলচেরা বিশ্লেষণমূলক কথা। হয়তোবা একটু মডিফাই করি। তাছাড়া কিছু নয়। কাউকে ইন্ডিকেট করা হয় না এখানে। সর্বজনীন কথা। মিল-অমিলের খতিয়ানে কাঁকতালীয়। তবে, মঙ্গলদায়ক; এতে কোন সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। যেহেতু বাস্তববাদী লেখা সেহেতু আবেগ-পরায়ণ যে কেউ অনেক সময় আঘাত পেতে পারেন। কিন্তু, বাস্তবতা তো তার আপন গতিতে চলে। আমি শুধু সেটাকে ধরে ধরে লেখায় রুপদান করি।

০২. যে বোঝে তার যুদ্ধ করা লাগে না। কৌশল এবং বুদ্ধিমত্তার জোরেই সে উত্তীর্ণ হয়।

০৩. আপনি লিখতে চাইলে লিখতে পারেন। কিন্তু, সব কিছু প্রকাশ করবেন না বা পারবেন না। আপনার বিবেক সায় দিবে না; নতুবা, আপনি পরিস্থিতির স্বীকার।

০৪. ভদ্র আর অভদ্র এবং বেয়াদব ও আদবের মধ্যে পার্থক্য তার আচার-ব্যবহারে। আর আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করে মানুষের চিন্তা-চেতনা। মানুষের আচারনগত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

০৫. বুদ্ধির খেলায় সেই জয়ী হয়; যে ঘটমানের নীরব দর্শনে উপলব্ধি পেয়ে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপন্থা গ্রহন করে কর্ম সম্পাদন করতে পারে।

০৬. পূরুষের প্রেম বহির্মূখী; নারীর প্রেম অন্তর্মূখী।

০৭. পরিকল্পনা যত মার্জিত, রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন এবং কৌশলপূর্ণ হবে কর্মও তত সুন্দর হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।

০৮. যুক্তি খন্ডন করা গেলেও বাস্তবতা খন্ডন করা যায় না। এমনকি যুক্তি দিয়েও বাস্তবতাকে খন্ডন করা যায় না।

০৯. আবেগও একটি বাস্তবতা। আর প্রেম হচ্ছে একটি আবেগীয় বাস্তবতা।

১০. আমি মানুষ। এটাই আমার প্রথম এবং শেষ পরিচয়। মানুষ হয়ে জন্মেছি। মরতেও চাই মানুষ হয়ে। আমি কোন বাদ বা ইজম দ্বারা আসক্ত নই। আমি মানুষ। এই বোধই আমাকে পরিচালিত করে। মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুনাবলি অর্জন করতে হয়। ধার্মিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারন, ধর্ম অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবিক গুনাবলি অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই!

১১. মানুষ যখন ভুল করে তখন সে বুঝতে পারে না। তাই সে ভুল করে।

১২. মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে যাও, কোন কষ্ট থাকবে না জীবনে। জীবন হবে জীবনের মত।

১৩. বর্ণ এবং ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদই পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি, মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি, মানুষ হত্যা এবং গণহত্যার অন্যতম প্রধাণ কারণ।

১৪. মানুষ হিসেবে কেউ পরিপূর্ণ নয়। এজন্য, কাউকে আপনি এককভাবে ভালো বা খারাপ বলতে পারেন না।

১৫. একটি বিষয় ভেবে দেখলাম; যারা অপরাধ করে এবং কোন বিষয়ে এডিক্টেড থাকে তাদেরকে আসলে শাস্তি দিয়ে লাভ হয় না। বরং, তারা আরো বেশি ঐ বিষয়ের প্রতি  ঝুঁকে পড়ে। কেননা, শাস্তি মানুষকে আসক্তি বা অপরাধ থেকে রক্ষা করে না। কৌতুহলই মানুষকে এডিকশনের দিকে ঠেলে দেয়। এজন্য, কাউন্সেলিং বা সংশোধনই মানুষকে অপরাধ বা আসক্তির কবল থেকে রক্ষা করতে পারে।

১৬. এখানে প্রতিভার চেয়ে বয়সের সম্মান বেশি। এ কারনে উন্নয়ন বয়সের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সরু হয় আসে।

১৭. রাগ, দুঃখ, ক্ষোভ ইত্যকার বিষয়গুলো ভয়ংকর ক্ষতিকারক অনুভূতি নামক ভাইরাস। ভাইরাস ক্ষতিকারক হলেও বর্তমান।

১৮. সৃজনী শক্তির দাপটটা বেশি হওয়া জরুরি। বুদ্ধির প্রয়োজন আছে। খারাপ বা ভালো বিচক্ষন করার জন্য। ঠিক তো বলি। কিন্তু, সময় যখন বাস্তবতার কাঁটায় দোঁল খায় তখন বোকা হয়ে বসে থাকতে হয়। কিছুই করার থাকে না। তবে, সৃজনী শক্তি আর ইতিবাচক বুদ্ধি থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

১৯. সব মানুষেরই কিছু সুপ্ত প্রতিভা থাকে। এটাকে উপ্ত করার জন্য আনুষঙ্গিক কিছু বিষয় থাকে; যা নিজেকেই বুঝে নিতে হয়।

২০. দু'পাঁচজন মানুষকে বোকা বানানো সহজ। কিন্তু, সব মানুষকে বোকা, পাগল ভাবাটা নিরেট বোকামী! যে ভাবে, সেই আসলে বড় বোকা।

২১. না হলে; বিকল্প থাকে। অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে খুজুন। হয়তোবা, এর থেকে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বিপরীতও হতে পারে। তবে, আপনার বোধ-বুদ্ধি দিয়ে সেটা এড়িয়ে যেতে পারেন।

২২. 'আপন' বা 'পর' শব্দ দুটি প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হয়। এ দুটো নিত্য পরিবর্তনশীল শব্দ।

২৩. যখন আমি বলি, আমি মুসলমান বা হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান বা অন্যান্য। তখন বিভেদের একটা সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম সূচক এসে যায়। কিন্তু, যখন বলি 'আমি মানুষ' তখন মানুষে মানুষে আর কোন বিভেদ থাকে না। এক সাথে সুখে-দুঃখে আমরা সবাই সবার। এটা সম্ভব একমাত্র মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখার মধ্যে।

২৪. বর্ণচোরা এবং গিরগিটি টাইপের লোকেরা ব্যক্তি-স্বার্থের পিছে ঘোরে। নিজের স্বার্থেই তারা ভোল পাল্টাতে কসূর করে না। আজব এক প্রাণী! উহাদের থেকে সাবধান থাকা উচিৎ। নতুবা, ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। হয়!

২৫. আমরা এখনো মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাঠামো থেকে বাহির হতে পারিনি। আমরা এখনো মধ্যযুগীয় নেতিবাচক চিন্তার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। যে কারনে, আধুনিক, উন্নত সভ্যতার অভ্যন্তরে থেকেও আমরা অসভ্যতাপূর্ণ আচরণ ও কর্ম করে থাকি।

২৬. ঢাকা হচ্ছে কাঁকের শহর। ওখানে কোঁকিল খুজলে ভুল হবে। তাই, নিজে কোঁকিল হলেও কাঁকের বেশ ধারণ করা জরুরি বোধ করি। নাহলে, টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এটাই ঘটে বলে বোধ করি।

২৭. আসলেই, ভালোবাসা মূখের ভাষায় অপ্রকাশিতব্য অন্য রকম এক অনুভূতি! ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা হয় না। কোন ভাষা দিয়েও প্রকাশ করা যায় না। এটাকে আবার প্রেম মনে করবেন না! প্রেমে ভালোবাসা থাকতে পারে। তবে, ভালোবাসায় প্রেম অনুপস্থিত।

২৮. আপনার যদি কারো কথায় বা কাজে অনুভূতিতে আঘাত লাগে; এটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা। সাইকিয়াট্রিস্ট বা ডক্টরের পরামর্শ নিন। নিজের সমস্যার জন্য অন্যের মত-প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেনো হরণ করবেন। এটা তো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। রীতি-মত মানবতা-বিরোধী অপরাধ।

২৯. মেয়েদের মানসিকতায় তাদেরকে অধিকারহীন করে! তারা নিজেরা নিজেদেরকে অধিকারহীন করে রাখতে মনে হয় ভালোবাসে! বিষয়টা আমাকে বিব্রত এবং বিস্মিত করে!

৩০. তবে, একটা বিষয় বুঝেছি। বিপদের বন্ধুই আসল। সুসময়ের বন্ধু আসলে ধান্ধাবাজ, স্বার্থপর হয়।