মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটধারীদের চেয়ে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। কোঁটা আওয়ামী লীগের জন্য কাঁটা হতে সময় নেবে না বলে বোধ করি। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী দেয়া হোক পর্যাপ্ত। কিন্তু, দেশ চালনায় মেধাবীরা অগ্রাধীকার পাক। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঁচিয়ে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বেশি বেশি প্রচার করতে হবে। কোঁটা কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না; এটা বিকল্প নয়। কোঁটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক; পরিপন্থী। বিপুল সংখ্যক বেকারকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিমূখ করবে এই কোঁটা ব্যবস্থা; এতে কোন সন্দেহ নেই। আমি নিজেও চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত থাকুক সব কিছুর উর্ধ্বে। মুক্তিযোদ্ধারা সর্বোচ্চ এবং তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পাক। কিন্তু, মুক্তিযোদ্ধারা যে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলো সে দেশ, আমাদের বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক। বিশ্বের বুকে চির উন্নত মম শির করে দাড়াক। মেধাবীরাই পারে দেশকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে।
ভোটের রাজনীতিতে মুক্তিযোদ্ধারা একটি ইস্যু। এখন তার চেয়ে বড় ইস্যু শিক্ষিত বেকার। বর্তমানে জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনেক কম। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অনেক বেড়ে গেছে। নানান ভাবে তারা মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে কোঁটার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। এটা দলীয় ম্যান্ডেটের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষিত বেকাররা এতে করে আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে।
সহজ একটি হিসাব, অল্প সংখ্যক মানুষ ৫৬ ভাগ কোঁটা সুবিধা পাচ্ছে একটি স্বাধীন দেশে। আর অধিক-সংখ্যক মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। এটা কখনো কাম্য ছিলো না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা করেন পাকিস্তানের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আজ আবার আমরা কেনো সেই বৈষম্যকে ফিরিয়ে আনবো! পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সর্বকর্মে পূর্ব-বাংলার মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানের বৈষম্য থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করেন। দেশকে মুক্ত করেন; স্বাধীন করেন। তাদের সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কেনো আজ ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে? আজ আবার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কেনো বৈষম্যের করাল গ্রাস হাতছানি দিচ্ছে?