সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পতিতাঃ একটি অমানবিক পেশাগত শ্রেণীকরণ


যারা পতিতাবৃত্তি করে তারাও মানুষ। পেশাগত কারনে তাদেরকে আমরা ঘৃনা করি। কিন্তু, মানুষ হিসেবে তাদেরকে দেখতে হবে। কারন, পেশার বাইরে তারা মানুষ এবং সর্বোপরিও তারা মানুষ। যারা তাদের কাছে যায় তারাও তো মানুষ। তাদের কাছে সমাজের উপরতলার লোক পর্যন্ত যায়। শুধু দৈহিক চাহিদা মেটাতে। তারা অল্পের বিনিময়ে নিজের দেহকে বিলিয়ে দেয় পুরুষ নামক নারী খাদকের কাছে।

বিবাহিত পুরুষ, অবিবাহিত পুরুষ, ছেলে-বুড়ো, তরুন-যুবা সবাই যায় তাদের সম্ভোগ করার জন্য। সামান্য অর্থের বিনিময়ে। জারজকে আমরা জন্মগত কারনে সামাজিক শ্রেণীকরণ করে অধিকার বঞ্চিত করেছি। জন্ম যদিও প্রাকৃতিক ব্যাপার। আর পতিতাদের পেশাগত কারনে সামাজিক শ্রেণীকরণ করে অধিকার বঞ্চিত করি। হায়রে মানুষ! এক সময় মানুষই মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করত পেশি-শক্তির জোরে। আর এখন শক্তির জোরে মানুষকে নানান ধরনের শ্রেণীকরণ করে। দাসত্ব যেমন পেশিশক্তির জোরে ব্যক্তি-স্বার্থের, শ্রেণীকরণও তাই।

অধিকাংশ পতিতা তার জৈবিক কারনে নয়, জীবিকা ও জীবনের তাগিদে পতিতাবৃত্তি গ্রহন করে; বিকল্প না থাকায়; স্বভাবে নয়, অভাবে। আমরা পতিতাবৃত্তিকে খারাপ পেশা হিসাবে বিবেচনা করি। কিন্তু, তাদের জীবনের দৈন্যতাকে বিবেচনায় রাখি না। এটা মূর্খতার সামিল। যদি ভালো না লাগে, সেক্ষেত্রে পূনর্বাসন করা আবশ্যক। তা না করে, হাতেও মারবেন, ভাতেও মারবেন। তা কি করে হয়! কথা যদি বলেন, ন্যায়-নীতিবোধ বজায় রেখে বলুন।

খারাপকে ভালো দিয়ে বন্ধ করুন। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকবেন না। সেটা অন্যায় হবে, হবে অবিচার।