সাধারনের একটি কাজ হচ্ছে, যারা ধনী, জ্ঞানী, সমাজের সম্মানিত লোক তাদের নিয়ে অকেজো সমালোচনা করে। আসলে জনাব এটা করে লাভ নাই! তারা আপনার উপরে অবস্থান করছে। আপনি তাদের গায়ে যতই থুথু মারেন না কেনো, সেটা আপনার গায়েই লাগবে।
একবার ভেবে দেখুন তো, সাকিব আল হাসান বা শাকিব খান, এদের নিয়ে সমালোচনা করে আপনার কি হচ্ছে! তারা কিন্তু ঠিকই তাদের অবস্থানে বজায় থাকছে। আর আপনি অযথা নিজের সময় ব্যয় করছেন তাদের রেটিং বাড়াতে। সবই বোকামী! ফালতু কাজ! বাদ দিন এসব! লাভ নাই!
নিজের কথা ভাবুন। পাশের মানুষদের নিয়ে ভাবুন। মিলেমিশে সবার মঙ্গলকর্মে মনোযোগ দিন। দেশ ও দশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন। অন্যের কৃতিত্বে কষ্ট পাওয়া বোকামী। আবার অন্যের কৃতিত্বে নিজে বেশি লাফালাফি করাও বোকাদের কাজ। সময় অপচয় করে শুধু শুধু দেশকে গালি দিবেন না। দয়া করে!
কেউ আপনাকে কিছু দেবে না। আদায় করে নিতে হয়। নিজের অবস্থান নিজে তৈরি করে নিতে হয়। বসে থাকলে সংসার চলে না।
নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করুন। তাতে করে নিজের যেমন মঙ্গল হবে তেমনি দেশ ও জাতি আপনার দ্বারা উপকৃত হবে। তবে সেটা হতে হবে ইতিবাচক উপায়ে।
যদিও সামাজিক জীবনটা কিছুটা জটিল তারপরও সামাজিকভাবে চলাফেরার চেষ্টা করুন। তাতে করে আপনার জীবনটা যেমন সহজ হবে তেমন আপনার পাশের মানুষগুলোরও। মূলত, জীবনকে উপলব্ধির একটি মোক্ষম উপায় সামাজিক মেলামেশা। ছোটবেলা থেকে মানুষের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। শৈশবে যাদের সামাজিকীকরণে সমস্যা দেখা দেয়, মানুষের সঙ্গে মিশতে তাদের সমস্যা হয়। পারিবারিক সমস্যা থাকলে, বাবা-মার মধ্যে সমস্যা থাকলে শিশুর সামাজিকীকরণে সমস্যা দেখা দেয়।
মানুষের আন্ত-সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিলে আলোচনাই সমাধানের উত্তম পন্থা। কেননা, আলোচনা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহিষ্ণুতা, ইতিবাচক বিনিময়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই কল্যানময় করে তোলে জীবনকে। বিচ্ছিন্নতার নীতি কখনো কারো জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে রয়েছে সবার উন্নতি। আবার অ-নমনীয়তা কখনো ভালো ফল দেয় না। এটা সবসময় নেতিবাচকতা প্রকাশ করে। কাজেই, অন্যের মত-পথ, চিন্তা-ভাবনাকে গ্রহণ না করতে পারলেও; শ্রদ্ধা করা ইতিবাচক মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষের বৈশিষ্ট্য।