একটা সময় ছিলো মানুষ বিভিন্ন কারনে মূর্তি তৈরি করে পূঁজা করত। সময়ের তাগিদে পরিবর্তনের ছোয়ায় কিছু মানুষ মূর্তি-পূজা ছেড়ে ব্যক্তি-পূঁজায় মত্ত হয়ে পড়ল। ব্যক্তি-পূঁজায় মূতি-পূঁজার ন্যায় নমস্তে থাকলেও, দৃশ্যমান মূর্তি বা অবয়ব থাকে না। এখানে, অদৃশ্যমান গত ব্যক্তির কর্মের, চিন্তা আর চেতনার পূঁজা-অর্চনা করা হয়। এই ব্যক্তি-পূঁজায় কাল্পনিক সত্তা থাকতেও পারে আবার না থাকতেও পারে।
ধর্মীয় চেতনা মূলত মানুষকে সংঘবদ্ধ চক্রে সংগঠিত করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠির বা ব্যক্তির অধিকতর অর্চনীয় করে তোলে।
আমরা সচরাচার দেখতে পায়, সাধারন মানুষের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ততটুকু, যতটুকু তার প্রয়োজন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিকতার দায় রক্ষার্থে।
এই সুযোগটা একশ্রেণীর ভণ্ড-প্রতারক গ্রহন করে লোপাট চালায়। মানুষকে হেনস্থা করে। অযাচিত, অন্যায় এবং অমানবিক ব্যাপার চাপিয়ে দেয়। তার সমালোচক, সমাজের মঙ্গলাকাঙ্খীদের উপর বর্বর হামলা চালায়; চালানোর আদেশ দেয়। এদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার অশিক্ষিত, মূর্খ মানুষ। এরাই মানুষ অশিক্ষিত রাখার পক্ষে প্রচারনা চালায়। নারী-পুরুষ, উচু-নীচু, ধনী-গরীবের ভেদ টেনে আনে। সাধারন বোধ-বিবেচনাহীন মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলতে এরা চরম উস্তাদ।
মূর্তি-পূঁজা যেমন মানব-সৃষ্ট কাল্পনিক। ঠিক তেমনি, ব্যক্তি-পূঁজাও মানব-সৃষ্ট কাল্পনিক ব্যাপার। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রসারের পূর্বে মানুষের কাছে সবই কাল্পনিক ব্যাপার ছিলো। কারনটা বর্তমান সময়ের মানুষ হিসেবে একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। কাঁকতালীয়-ভাবে দু'একটি বিষয় বিজ্ঞানের সাথে মিলে গেলে তাকে বৈজ্ঞানিক বলাটা বোকামী বৈ কিছু নয়।
যুগে যুগে ব্যক্তি-পূঁজা ধর্ম ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। যে বা যারা এটার সৃষ্টিকর্তা তারাও এটার উপর ভর করে ব্যবসা করে গেছে। তার একান্ত অনুগত নব্য অনুসারীরাও করছে।
আয়োজিত মঞ্চে চলে নব্য ব্যক্তি-পূঁজারীদের ধর্ম ব্যবসা। মূর্তি-পূঁজারী আর ব্যক্তি-পূঁজারীদের মধ্যে মিল একটাই আর তা হলো ধর্ম ব্যবসা।
যেটার সমালোচনা করা যায় না। নিশ্চিত তার মধ্যে খাঁদ রয়েছে। কারন, খাঁদ যদি বের হয়ে যায় তাহলে ভণ্ডামী ধরা পড়ে যাবে। এজন্য, বক-ধার্মিকেরা তাদের অর্চীত বিষয়ের সমালোচনা করতে দেয় না। করতে গেলে তেড়ে মারতে আসে বা হত্যার ন্যায় শাস্তি-যোগ্য অপরাধ করতেও দ্বিধা করে না। তারাই শ্রেষ্ঠ এবং আধুনিক যারা সংকোচ ছাড়ায় সমালোচনা আহ্বান করে।
আধুনিকতার লক্ষণ মানবতা এবং দেশপ্রেম। যারা ধর্ম ব্যবসা করে এদের নিকট গোষ্ঠি-স্বার্থ এবং ব্যক্তি-স্বার্থ প্রধান। এজন্য মানবতা এবং দেশপ্রেম তাদের নিকট অধিকাংশটাই উপেক্ষিত।
যে ব্যক্তির নিকট মানুষের চেয়ে গোষ্ঠি চেতনা এবং ব্যক্তি স্বার্থটা বড় তারা আর যাইহোক মানুষের কাতারে পড়ে না। তারা মনুষত্যহীন আজব প্রাণী।
অনেকে আমার লেখাটির মধ্যে ধর্ম-বিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয়টি দেখতে পাবেন। তবে, সেরকমটা নয়। এটি একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষন মাত্র। এখানে মানুষের সাথে সম্পর্কিত সমাজ এবং সামাজিক-মানব-সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।