মানুষের সঙ্গে না মিশলে মানুষ সম্পর্কে, মানব-সমাজ সম্পর্কে জানা যায় না। আর সামাজিক হতে গেলে অবশ্যই আপনাকে মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। কারন, একে-অন্যের সঙ্গে মেলামেশা, পারস্পরিক সম্পর্কই মানুষকে সামাজিক জীবে পরিনত করেছে। সম্পর্কের মধ্যে, মেলামেশার মধ্যে সমস্যা দেখা দিবে, ত্রুটি-বিচ্যূতি ঘটবে; এটা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার, ঘটবে। কেননা, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের আলাদা আলাদা চিন্তা-ধারা থাকে। যেহেতু মানুষ কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত। এ হিসেবে, মিশতে অবশ্যই সমস্যা হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
আমরা মানুষ যেহেতু সমস্যা উপলব্ধির ক্ষমতা রাখি সেহেতু আমাদের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও রয়েছে। তবে সেটা অপরীসিম। শুধু কাজে লাগানোর দরকার। মানুষের বোধ শক্তি থাকার কারনে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে সম্পূর্ন আলাদা। এমনকি বলা হয়ে থাকে মানুষ জগতের সেরা জীব। আর এই বোধ শক্তিই মানুষকে সেরা জীবে পরিনত করেছে। সেরা জীব কিন্তু সব মানুষই নয়। যারা বোধ শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে তারাই সেরা জীব। বোধ শক্তি যারা কাজে লাগাতে পারে না, তারা বোধহীন বন্যপ্রাণীর চেয়েও খারাপ। প্রমান, তাদের আচার-ব্যবহার। বাকিটা আপনার বোধ শক্তি দিয়ে বুঝে নিন। এই বোধ শক্তি আর কিছুই নয়; সেটা হচ্ছে মানুষের অপরীসিম ইতিবাচক চিন্তা করার শক্তি।
মানুষের আচার-ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করে তার চিন্তা-ভাবনা ও চেতনার জগৎ। এ হিসেবে আমরা বলতে পারি, বোধ সম্পন্ন মানুষই জগতের সেরা মানুষ।
পৃথিবীতে প্রচুর বোধহীন মনুষ্য প্রাণী থাকবে; এটা স্বাভাবিক ঘটনা! অস্বাভাবিক ঘটনা হচ্ছে, বোধ সম্পন্ন বেশিরভাগ মানুষই তাদের বোধ-শক্তিকে অব্যবহার্য করে রাখবে। মুষ্টিমেয় বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ অন্যের মঙ্গল-চিন্তা ও কর্মে বিভোর থাকবে। সেটা হাতে গোনা কয়েকজন। তবে তারা প্রতি পদে পদে স্বার্থান্ধ, ধর্মান্ধ, বোকা আর মূর্খদের দ্বারা আক্রান্ত হবে। তবু তারা আশাবাদী, স্বপ্নচারী, ইতিবাচক মানুষ; এতে কোন সন্দেহ নেই।
বোকা এবং মূর্খ মানুষগুলো সামাজিক মেলামেশা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখে বা চেষ্টা করে। যদিও এটার বেশিরভাগটাই অসম্ভব তারপরও। আর তারা সমস্যাকে জিইয়ে রাখে অযথা। সমাধানের পথে যাত্রা করা তাদের জন্য বে-পরোয়া একটি কাজ। তারা সামাজিক মেলামেশা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বেশি অকেজো সমালোচনা করে। বোকা আর মূর্খ মানুষগুলো স্বার্থান্ধ আর ধর্মান্ধদের দ্বারা ব্যবহারিত হয়। কিন্তু, বোকারা, মূর্খরা বুঝতে পারে না। এদের সবারই বোধে ফিরানোর দায়িত্ব বোধশক্তি সম্পন্ন ইতিবাচক মানুষের। এক প্রকার গুরু দায়িত্বও বঁটে! তার জন্য, সামাজিক মেলামেশাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা এবং সমাধান পদ্ধতিতে।
'যে বোঝে তার বেশি বলা লাগে না।' এটাই বোধ সম্পন্ন মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। এসব আলোচনা করা যদিও বৃথা আস্ফালন। তারপরও মানুষের মঙ্গলচিন্তা খারাপ কিছু নয়; তাই করি।