যদি কেউ প্রচলিত নিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে, প্রচলিত প্রথা-রীতি-নীতি-নিয়মের আবদ্ধতা ডিঙিয়ে ভিন্ন কথা বলে, ভিন্ন মত পোষণ বা প্রকাশ করে; তাহলে সবাই বলে সে নষ্ট হয়ে গেছে, তার মাথায় সমস্যা আছে, পূর্ব-পুরুষের মাথা খাচ্ছে ইত্যাদি।
আসলে কেউ একবারও ভেবে দেখে না বা তার কথা শুনে বোঝার চেষ্টা তো দূরে থাক শুনারই ফুরসাত হয় না কারো। না জেনে, না বুঝে মন্তব্য করাটা আমাদের জাতীয় সমস্যায় পরিনত হয়েছে।
পৃথিবীতে দুটি মহাসত্য রয়েছে। ০১. পরিবর্তন ০২. মৃত্যু বা ধ্বংস। সবকিছুই পরিবর্তনের সুত্র ধরে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। পরিবর্তন নামক মহাসত্যই ভিন্নতার নিয়ামক। কাজেই, মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথ হরন করবেন না। এটা অন্যায়। নিজের মতো করে বাঁচতে দিন। এটা সবারই প্রাপ্য অধিকার।
ভালো-মন্দ বিবেচনার ক্ষমতা আমাদের লোপ পাচ্ছে দিন দিন। পরিত্রানের একমাত্র উপায়, প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে যে অফুরন্ত চিন্তা-শক্তি রয়েছে; তাকে উন্মুক্ত করে দেয়া।
চিন্তা করার শক্তি লোপ পেলে বা চিন্তার স্বাভাবিক বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে মানুষ জড়-পদার্থে পরিনত হয়। স্বাভাবিক কথা বলতে তার মধ্যে জড়তা কাজ করে। তার মধ্যে নানান ধরনের কুসংস্কার, অ-শিক্ষা, কু-শিক্ষা বাঁসা বাঁধে। যেটা সমগ্র মানব জাতির জন্য অমঙ্গলদায়ক বঁটে।
চিন্তা করার পরিবর্তে মানুষ তখন দুশ্চিন্তা করে। যা সময়ের মারাত্মক অপচয়। জীবনবাদী না হয়ে মানুষ ভোগবাদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। যা একটি জাতির ধ্বংস ডেকে আনতে শুরু করে।
প্রত্যেকটা ধর্মের মধ্যে সুক্ষ্ম ভোগবাদের অবস্থান রয়েছে। একটু চাক্ষুস দৃষ্টি দিয়ে তাকালে বুঝতে পারবেন। একটা সময় ধার্মিক মানুষ ভোগবাদী অসাড় মানুষে পরিনত হয়। কারন, তার চিন্তা করার শক্তি খেয়ে ফেলে ধর্মের বিধি-নিষেধের বেড়াজাল।
আর একটি বিষয়, কুসংস্কার বলুন বা অশিক্ষা-কুশিক্ষা সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে মানুষের জীবনে ও মানব সমাজে। কখনো কখনো তা মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। এগুলো মানুষের জীবনকে, চিন্তা করার শক্তিকে সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরিত্রানের উপায় উন্মুক্ত শিক্ষার চর্চা ও উন্মুক্ত চিন্তার চর্চা করা।
আসুন, আমরা কুসংস্কার, অশিক্ষা-কুশিক্ষা মুক্ত জীবন, সমাজ ও পৃথিবী গঠনে উন্মুক্ত জ্ঞান ও চিন্তার চর্চা করি। শুধু ভিন্ন মত ও পথের মানুষ নয়; সমগ্র পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান-শ্রদ্ধা করতে শিখি।