০১. আপনি যত বড় লোকই হোন না কেনো! আপনার অনেক খ্যাতি, ঐশ্চর্য্য, থাকতে পারে সুনাম-জনপ্রীতি; আবার এগুলো নাও থাকতে পারে অনেকের। কিন্তু, আপনি পৃথিবীতে অন্যান্য জীবের মত একটি জীব মাত্র। পৃথিবীতে আপনার দৈহিক অবস্থান সাময়িক; কিন্তু আপনার ইতিবাচক কৃতকর্ম আপনাকে পৃথিবীর বুকে দীর্ঘজীবী করবে। অন্যের নিজস্বতাকে কখনো আঘাত করবেন না। আপনার সাথে সম্পর্কিত অন্যের কোন বিষয়ে সমস্যা ঘটলে বুঝিয়ে বলুন। নাহলে, ত্যাগেই মঙ্গল নিহিত।
০২. 'বিশ্বাস' হলো সস্তা জিনিস। ঠুনকো বিষয়। 'বিশ্বাস' বাজার-ঘাটেও কিনতে পাওয়া যায়। একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন। 'বিশ্বাস' চোখের ভ্রম ছাড়া কিছু নয়। 'আস্থা' ছাড়া বিকল্প নাই।
০৩. কিছু মানুষ রয়েছে যারা অন্যকে সর্বদা জ্ঞান দিতে ভালোবাসে; মানুষের সামনে ভালো কথা বলতে ভালোবাসে। কিন্তু, নিজেরা ভালো কাজে অষ্টরম্ভা। উহারা কীট-পতঙ্গ। অন্যের দেহ খোদায় করতে ভালোবাসে। এদের থেকে সাবধান থাকুন। পাছে বহু নেতিবাচক কর্মকান্ডের পরিচয় মেলে তাদের।
০৪. কতিপয় মানুষ রয়েছে যারা মানুষের সামনে নিজেদেরকে অনেক বড় করে উপস্থাপন করতে ভালোবাসে। ধরা পড়লে কাচুমাচু করে! তবে উহারা অপমানিত হয় কম। কারন, উহারা একই কর্ম (নিজেকে বড় করে তুলে ধরে) বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে উপস্থাপন করে থাকে। এরা সাধারনত বাঁচাল টাইপের লোক। কথা বলার উপাদান না পেয়ে ওটাই করে। কাজ না থাকায়, অকাজ করে।
০৫. যে সমাজে সমালোচনা অগ্রহনযোগ্য, সে সমাজের সমালোচকরা বোকা; তবে অনেক জ্ঞানী। কেননা, অযথা সময়ের অপচয়; উলু বনে মুক্তা ছড়ানো। তবে সমালোচকরা সমাজের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী; এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে, ঐ সমাজের সমালোচনার চেয়ে সমাজ-সেবামূলক কর্মকান্ড অনেক শ্রেয়। যদিও সমাজ-সমালোচনাও একটি সমাজ-সেবামূলক কাজ। কিন্তু ঐ সমাজের লোক তো নালায়েক আদমী! সমালোচনা শুদ্ধতা তৈরি করে। ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে দেয় সমালোচনা।
০৬. প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজস্ব অঙ্গন অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিষয়ের বাইরে সম-অধিকারের দাবিদার। এটা তার অবশ্য-প্রাপ্য।
০৭. মানুষ ততক্ষন পর্যন্ত তার অবস্থান পরিবর্তন করে না যতক্ষন পর্যন্ত সে ঐ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। অযথা, ভালো কথা বলে লাভ হয় না। উপলদ্ধিতে না পৌছালে।
০৮. পৃথিবীতে প্রচুর আপেক্ষিক শব্দ ও বিষয় রয়েছে। এগুলোর কোনটিকে এক্সাক্ট বলা চলে না। কেননা, এগুলো একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে, বিজ্ঞান একদিন এই আপেক্ষিক শব্দ ও বিষয়গুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে আশা করি।
০৯. নিজেকে বা নিজেদের জ্ঞানী দাবি করে যদি মূর্খের মত, বোকার মত কাজ করি তাহলে বিষয়টা হাঁস্যকর হয়ে যায় না!
১০. প্রযুক্তির ছোয়ায় এসে যদি নিজে বোকামী করেন তাহলে সেটা আপনার চিন্তা-চেতনার পিছুটান ছাড়া কিছু নয়। কেননা, প্রযুক্তি মানুষের উন্নত চিন্তা-চেতনা ও আধুনিকতার ফল।
১১. পৃথিবীর মধ্যে আরেক পৃথিবী তার নাম জেলখানা। শাস্তি প্রদান একটি প্রাচীন অমানবিক প্রথা। অপরাধ প্রশমনে কাউন্সেলিং, সংশোধনই আধুনিক, উন্নত মানবিক পদ্ধতি।
১২. যে সব ধর্মীয় আলোচক ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য চুক্তি করে টাকা নেয় তাদেরকে আমি ধর্ম ব্যবসায়ী বলি। আপনি কি বলেন?
১৩. সেই বউমা (ছেলের বউ) ভালো যার শাশুড়ি তাকে ভালো বলে। আর সেই শাশুড়ি ভালো যার বউমা তাকে ভালো বলে।
১৪. একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে সেদেশের শিক্ষা-ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ-ব্যবস্থার উপর।
১৫. স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে। স্বপ্ন দেখা ভুলে গেলে হবে না। আশা থাকতে হবে। আশাহত, নৈরাশ্য হওয়া চলবে না। স্বপ্ন, আশা এগুলো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগায়। স্বপ্ন, আশা থাকলে তবেই এগুলো বাস্তবে রুপ নেয়; না থাকলে অসম্ভব। তবে, স্বপ্ন, আশার সাথে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনামাফিক কর্মযজ্ঞ না থাকলেও অসম্ভব; কিছুই হবে না। দিনশেষে মহাশূন্যের অতল-গহ্বরে হারিয়ে যেতে হবে; এতে কোন সন্দেহ নেই।
১৬. আপনি যদি কোন ঘটনা বলতে চান তাহলে বাস্তব এবং সত্য ঘটনা বলুন; আবেগ প্রকাশ করবেন না। আর যদি কারো কাছ থেকে শোনা কথা হয় তাহলে নির্ভরযোগ্য তথ্যসুত্র দিন; যেটা ঘটনাকে প্রুভ করে। তানাহলে, দরকার নাই বলার। আর যদি মতামত প্রকাশ করতে চান তাহলে যৌক্তিভাবে প্রকাশ করুন; নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন।
১৭. আসলে আমি লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি; বলতে নয়। কেননা, লেখা লিখে এডিট করে প্রকাশ করা যায়; কথা বলার সময় ভেবে বলার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়। তবে, শুনতে বা পারস্পরিক আলোচনা করতে ভালো লাগে। এখান থেকে অনেক ইতিবাচক এবং নতুন কিছু বেরিয়ে আসে।
১৮. টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত মানুষকে মানুষ করে না; মনুষ্যত্ববোধই মানুষকে মানুষ করে। বিজ্ঞানভিত্তিক মানবতাবাদী জ্ঞানের চর্চা মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করে।
১৯. আর দু'তিন প্রজন্ম পরেই পৃথিবীর সকল অশিক্ষা-কুশিক্ষা, মূর্খতা, ধর্ম নামক কুসংস্কারসহ অন্যান্য জঞ্জাল দূর হয়ে যাবে।
২০. মানুষ সম্পর্কে জানতে খুব ভালো লাগে। এটা করতে গিয়ে অনেক সময় বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যদিও কিছু কিছু সময় নিজেই ইচ্ছা করে বিড়ম্বনায় পড়ি। সেটা আমাকে অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা এনে দেয়; মানুষকে জানা সহজ হয়।
২১. কুসংস্কারের মূলে আঘাত না হানলে দূর হবে না। দীর্ঘদিনের জিইয়ে রাখা কুসংস্কার জঞ্জালে পরিনত হয়েছে। পুড়িয়ে ভস্ম করে দিতে হবে উহা। মানুষের চিন্তা চেতনাকে শিকল পরিয়ে রেখেছে। চিন্তাকে মুক্ত করতে হবে; জল্লাদের মুষ্টি থেকে। চিন্তার মুক্তির সাথে নারী মুক্তি ও মানব মুক্তি একসুত্রে গাঁথা।
২২. টাকা ছাড়া ধর্ম-কর্ম কিছুই হয় না। যার টাকা আছে তার ধর্ম-কর্ম সবই হয়।
২৩. জীবনটা একান্তই নিজের। কাজেই নিজের মত করে বাঁচুন। নিজস্বতায় কাউকে ঢুকতে দিবেন না।
২৪. রিয়েল লাভ। যেখানে আবেগের সাথে বাস্তবতার মিশেলে তৈরি হয় অন্য রকম এক রসায়ন। ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকবে এখানে; তবে, তার ছেড়া সুর উঠে না।
২৫. কিছু বিষয় আমাকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। ভেবে হাসিও পায়, দুঃখবোধও জাগ্রত হয়। মানুষের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও বুদ্ধির সামনে হতবুদ্ধি হতে দেখে। স্বাধীন মানুষের পরাধীন চিন্তা-চেতনা দেখে। মানুষ হয়েও মনুষ্য বিদ্বেষী চিন্তা-চেতনা ও কর্ম দেখে।