সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমার আমি


ব্লগে লেখালেখি করার কারনে অনেকে আমাকে বলে আমি নাকি নাস্তিক হয়ে গেছি! আবার অনেকে এটাকে ভিত্তি ধরে বলে, আমি মুসলমানের সন্তান হয়ে কেনো ব্লগিং করি! হাঁস্যকর বঁটে! অনেকে আবার আমার ব্যক্তিগত অঙ্গন নিয়ে জ্ঞান দিতে শুরু করে। হাহাহা! তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, তারা ব্লগ সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানও রাখে না। শুধু ব্লগাররা নাস্তিক এটুকুই জানে! এটা মূলত কিছু মূর্খের অপ-প্রচার ছাড়া কিছুই নয়। স্টেজে বসে নিজেদের ফেস ভ্যালু তৈরি করার নিমিত্তে এই অপ-প্রচার। যতসব নির্বোধের দল! মানুষের কাজ না থাকলে, মানুষ অকাজ করে। সেই রকমটা ঘটেছে।
যারা ব্লগিং সম্পর্কে জানতে চান তারা লিঙ্কের লেখাটা পড়ুনঃ
http://bishleshon.blogspot.com/2017/04/blog-post_66.html
আমি মুসলমান না, নাস্তিক; সবার আগে আমি 'মানুষ'। মূলত, আমি মানুষের শ্রেণীকরণকে মনুষ্য বিদ্বেষ মনে করি। কারন, শ্রেণীকরণ মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে কেঁড়ে নিয়ে অন্য কিছুর দিকে ঠেলে দেয় মানুষকে।
তবে, আমি বাস্তবতাকে ধারন করে লেখালেখি করি। অনেকে এটাকে সহ্য করতে পারে না। আবেগ আছে, স্বার্থ আছে। এগুলোও বাস্তবতা; কিন্তু, ক্ষতি করে। তবে, বাস্তবতাকে প্রাধান্য না দিলে সমস্যা চিহ্নিত করা যায় না। সমাধানও সম্ভব নয়। সর্বোপরি, মানুষকে আমি প্রাধান্য দেয় সব কিছুর উর্ধ্বে। অন্য সব কিছুকে গৌণ মনে করি; মানুষকে কেন্দ্র করে সব। গোষ্ঠী চেতনার ধারক-বাহকরা এটাকে সহ্য করতে না পারায় অপ-প্রচার চালায়।
মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা যদি অন্যায় হয় তাহলে এ অন্যায় বারবার করতে চায়। মানুষের অধিকার হরণ করা মানবতা বিরোধী অপরাধ। মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলা কোন অন্যায় নয়। বরং, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ।
একশ্রেণীর লোক আছে যারা নিজেদের গোষ্ঠী স্বার্থ ক্ষুন্ন হলে মানবাধিকার নিয়ে খুব সোচ্চার হয়। আর যখন অন্যের অধিকার কেউ ক্ষুন্ন করে তখন তারা মজা নেয়। যখন তারা অন্য কারো অধিকার ক্ষুন্ন করে তখন উচিৎ উচিৎ, ঠিক ঠিক বলে চিৎকার করে। অধিকার সবার জন্য, পৃথিবীর সব মানুষের জন্য; কখনো কারো একার বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হতে পারে না। সেটা অন্যায়-অবিচার।
আসলে, গোষ্ঠী স্বার্থের উর্ধ্বে যদি মানবাধিকারের যায়গা না হয় তাহলে অধিকারহীন মানুষের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাবে; এতে কোন সন্দেহ নেই। শ্রেণীকরণ ভুলে মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখবো যে দিন সে দিনই মানুষ তার প্রাপ্য সকল অধিকার ফিরে পাবে। 'সব কিছুর উর্ধ্বে মানুষ।'