সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাণী কাঞ্চণ

০১. ধর্ম কি আর পোশাকে, বাহ্যিক-সৌন্দর্যে! ধর্ম আপনার কথা-বার্তায়, আচার-ব্যবহারে, আপনার কৃতকর্মে।
০২. দৈহিক সংসর্গের আকাঙ্খার অপর নাম প্রেম।
০৩. আপনার সন্তানকে একাডেমিক শিক্ষার সাথে সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করুন। বই পড়লে মানুষের জ্ঞান বাড়ে, আর সহশিক্ষায় বাড়ে কাণ্ডজ্ঞান। বই পড়তে (একাডেমিক বইয়ের বাইরে) উৎসাহিত করুন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে সাহায্য করুন। এগুলো মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়; চিন্তা-চেতনার স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখে।
০৪. নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট আদর্শিক ভাবনা 'গোষ্ঠী চেতনা' প্রকাশ করে। সর্বজনীনতার কোন নিদর্শন সেখানে খুজে পাওয়া যায় না। মানবতাবোধ এবং মানবিক চেতনার  দ্বারাই সর্বজনীনতার প্রকাশ পায়। কেননা, এখানে মানুষই সব; কোন ভেদ বা শ্রেণীকরণ নেই এখানে।
০৫. যন্ত্র-সভ্যতা ও প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে কিন্তু মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও চেতনা কতটুকু উন্নত হয়েছে সেটা ভাববার ও প্রতিকারের সময় এসেছে। কারন, বিজ্ঞানের উন্নত আবিষ্কারের দ্বারা উপকৃত হয়েও মানুষ বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে বা বিজ্ঞানকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। যদিও বিজ্ঞান একটি তথ্য-উপাত্ত, প্রমানভিত্তিক প্রবহমান ধারা। নতুনত্বই যার (বিজ্ঞানের) ভিত্তি। তারপরও মানুষ নির্বোধের মত বিজ্ঞান নিয়ে অযথা বাকওয়াচ করে। দুটোর সমন্বয় না ঘটলে, একই ধারায় প্রবাহিত না হলে মানব সভ্যতা সমূহ ক্ষতির মূখে পতিত হবে। যদিও বর্তমানে আমরা এগুলো ব্যবহার করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেখছি। ভবিষ্যতে সমস্যা আরো প্রকট হয়ে উঠতে পারে; এখনি প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে।
০৬. নির্বোধ, মূর্খ, অজ্ঞ এগুলো মানুষের গাত্রে লেখা থাকে না। মানুষের কথায় এবং আচার-ব্যবহারে প্রকাশ পায়।
০৭. ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা ইতিবাচক ফল দেয়। নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা নেতিবাচক ফল দেয়। এগুলো সরল কিন্তু এর প্রভাব বর্ননাতীত।
০৮. মাথায় কিছু না থাকলে, আঙুলেও আসে না, ঠোঁটও চলে না; ইতিবাচক কর্মও অসম্ভব।
০৯. প্রেমের ক্ষেত্রে আবেগ দু'জনকে একত্রিত করে, আর বাস্তবতা বিচ্ছেদের কবলে ফেলে দেয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, এখনকার ছেলে-মেয়েরা ভালো লাগা আর ভালোবাসাকে এক করে ফেলে।
১০. চাহিদার পর চাহিদা মানুষকে অসুখী করে।
১১. মাথা ব্যাথা করলে মাথা কেটে ফেলা যেমন সমাধান নয় তেমন হত্যা কখনো জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক সত্য এবং যুক্তিকে ধ্বংস করতে পারে না; আর বিজ্ঞানকে তো নয়ই। বিজ্ঞান চলমান এবং চাক্ষুস প্রামানিক বিষয়। বিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানীকে কবরে রাখার পর ৪০০ বছর পরে আবার প্রয়োজনে মানুষ কবর খুড়ে বিজ্ঞানীকে না পেলেও বিজ্ঞানকে হাতড়ে মরে। এটাই বাস্তবতা!
১২. বিজ্ঞানের সংজ্ঞাঃ বিশেষ বিষয়ের তথ্য-উপাত্তভিত্তিক প্রামানিক জ্ঞান। আর বিজ্ঞানীর সংজ্ঞাঃ বিশেষ বিষয়ে যিনি জ্ঞানী।
১৩. পরিশ্রম যদি সৌভাগ্যের কারন হতো তাহলে গাঁধা হতো বনের রাঁজা আর গ্রামের দিনমজুর হতো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী। আসলে কৌশলই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। যার কৌশল যত উন্নত, আধুনিক, কার্যকর, সময়পোযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক তার ততই সার্বিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে; এতে কোন সন্দেহ নেই!
১৪. আমি রাজনীতি করতে চাই না। রাজনীতি শিখতে চাই না। বুঝতে চাই, উপলব্ধি করতে চাই। কারন, রাজনীতি করা আর শেখার জন্য নেতার পিছে তৈল মর্দন করা লাগতে পারে। আর বুঝা এবং উপলব্ধির জন্য বিস্তর পাঠ এবং অভিজ্ঞতার বাণী শ্রবণই যথেষ্ট।
১৫. সভ্যতা পিছুটান মারা শুরু করেছে। যদিও বর্তমান সভ্যতার উপাদানসমূহ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। তবে, মানুষের চিন্তা-চেতনা এখনো মধ্যযুগীয় বর্বরতার কাঠামো থেকে উঠে উন্নত হতে পারেনি।
১৬. নিজের আয়ু না থাকলে যেমন অন্যের আয়ু নিয়ে দীর্ঘজীবী হওয়া যায় না। ঠিক তেমনি, অন্যের সম্পদ-সম্পত্তি, মেধার জেরে ধনী বা জ্ঞানী হওয়া যায় না। নিজের না থাকলে পরের তাতে পোদ্দারী করলে মানুষ বোকা, দালাল বলে।
১৭. যারা মানুষ হত্যার পক্ষে রসালো যুক্তি খাড়া করে তারা মনুষ্য-বিদ্বেষী, মানবতা বিরোধী। সেটা যেকোন ধরনের হত্যাকান্ড। প্রত্যেকটা মানুষের সুস্থ্য-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। পরিবেশগত কতিপয় কারনে হয়তো কেউ কেউ খারাপ মানুষে পরিনত হয়। জন্মের সময় কেউ অপরাধী হয়ে তো জন্মায় না। পরিবেশ-পরিস্থিতি তাকে অপরাধীতে পরিনত করে। আর সাধারন মানুষকে হত্যা তো আরো চরম মাত্রার মানবতা-বিরোধী মনোভাব ও মনুষ্য-বিদ্বেষের পরিচয় বহন করে। পৃথিবীর বড় দুটি মহাসত্য হলো, পরিবর্তন এবং মৃত্যু। পরিবর্তনশীল বিশ্বে মৃত্যুর পর মানুুষের কৃতকর্মই মানুষের মাঝে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। কাজেই, সৎ-কর্ম করুন। পৃথিবী, প্রকৃতি এবং মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করুন।
১৮. সৎ, ইতিবাচক মানুষকে ঠকানো মানে নিজেকে ঠকানো। কারন, এখানে ক্রিয়ার বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়াই কাজ করে।
১৯. ধনী, জ্ঞানী, সম্মানী লোকদের সমালোচনা  হিংসা, বিদ্বেষ ছাড়া কিছুই নয়। এগুলো সাধারনত তারাই করে যাদের ধন, জ্ঞান, সম্মান নেই, ঘাটতি আছে। তিনটা মিলিয়েই ইতিবাচক সৎ-মানুষ। কোন একটি বাদ পড়লে বুঝতে হবে সেখানে সমস্যা রয়েছে।
২০. জ্ঞানী লোকের অর্থ-সম্পদ কম থাকে  কিন্তু সম্মান থাকে পর্যাপ্ত। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দুটোই। যদিও জ্ঞানী লোক অনেক সময় বিদ্বেষের শিকার হয়।
২১. পৃথিবীতে কেউ কারো নয়, কর্মটায় মানুষের।
২২. সন্তান জন্ম দেয়া একটি বিনোদনমূলক কাজ হলেও সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা চরম মাত্রার বহুমূখী একঘেয়েমি কাজ। যে কারনে বেশির ভাগ মানুষই সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। অধিকাংশ মাতা-পিতাই শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়ে ঘৃনাভরে একঘেয়েমিকে ত্যাগ করে। সন্তান মানুষ করা একটি একঘেয়েমিমূলক কাজ হওয়ায় পিতা-মাতার সাথে সন্তানের শেষ-পর্যন্ত চরম আকারের দূরত্ব তৈরি হয়। যা সন্তানকে অ-মানুষে পরিনত করে। একঘেয়েমির কারনে পিতা-মাতা সন্তানের সাথে দূর্ব্যবহার পর্যন্ত করে। যা ঐ সন্তানকে পিতা-মাতা বিদ্বেষী করে তোলে।
২৩. আপনি যখন সামাজিক বা পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি বা গবেষণা করবেন তখন অবশ্যই নিজের ব্যক্তিত্ববোধের দিকে নজর রাখবেন। তানাহলে, আপনার আমও যাবে ছালাও যাবে। আগে ব্যক্তিত্ব তারপর বাকি বিষয়গুলো। কারন, ব্যক্তিত্বহীন লোকের যে কোন কিছুই গ্রহনযোগ্যতা হারায়।
২৪. কিছু মানুষ রয়েছে যারা একজনের কথা অন্যজনের সাথে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এরা পরজীবী। নিজেদের আসলে তেমন কিছু করার নেই। তাই তারা অন্যের বিষয় নিয়ে খারাপভাবে নাড়াচাড়া করতে থাকে। ঐ, কাজ না থাকলে যা হয়! মানুষ অকাজ করে।
২৫.  সম্ভাবনা অসীম কিন্তু আমরা আমাদের সক্ষমতাকে, চিন্তা-শক্তিকে করে ফেলেছি সসীম! যে কারনে আমরা সর্বদা অভাব-বোধের তাড়নায় ভুগে থাকি।