সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দূর্নীতির শিকড়

আমরা দূর্নীতির কবল থেকে এখনো মুক্ত হতে পারলাম না! দূর্নীতি একটি সাধারন ঘটনা। উন্নত সমাজ এবং জাতি গঠনে এর কু-প্রভাব মারত্মক। এর থেকে পরিত্রানের জন্য নতুন করে ভাবতে হবে।
মানুষকে আবদ্ধ করে রাখলে, চিন্তার দরজা বন্ধ করে দিলে দূর্নীতি কমবে না। বরঞ্চ, আরো বাড়বে। সীমাবদ্ধ চিন্তা-ভাবনা মানুষকে সংকীর্ণমনা করে দেয়। যা মানুষকে খারাপ কাজে খুব সহজে প্রলুব্ধ করে। বাঁধা-নিষেধের বেড়াজালও মানুষকে সংকীর্ণমনা করে দেয়, খারাপ কাজ করতে, দূর্নীতি করতে উদ্বুদ্ধ করে সহজে।
তাছাড়া, দূর্নীতি শব্দটা খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়। তারপরও, মানুষ এটা করে। এর শিকড়ের সন্ধানে আজকের লেখাটি।
দূর্নীতি শুরু হয় পরিবার থেকে। একটি শিশু পরিবার থেকেই প্রথম দূর্নীতির পাঠ শিখে থাকে। পরিবারের পিতা-মাতা মিথ্যা কথা বলে। ঐ পরিবারের শিশুরাও মিথ্যা বলবে এটাই স্বাভাবিক। কারন, শিশুরা অবজারভেশন লার্নিং করে। আর এই মিথ্যা কথা দূর্নীতির প্রথম নিয়ামক। পরিবার থেকে যদি শিশুকে কোন কাজ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে সে বিকল্প পন্থায় কাজটি সহজ করার চেষ্টা করে। এটা স্বভাবজাত ব্যাপার। এই বিকল্প পন্থা শিশুকে খারাপের পথে টেনে নিয়ে যায়।
আমাদের দেশের বাবা-মা সন্তানদের সাথে এমন ব্যবহার করে যে, সন্তান তাদের থেকে দূরে সরে যায়। বন্ধু-বান্ধব নির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাতে করে দেখা যায়, খারাপ সঙ্গের প্রভাবে দূর্নীতি খুব সহজে করতে শুরু করে। আপনি ভাবতে পারেন এটা আর এমন কি! কিন্তু কথা হচ্ছে, 'ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালু-কণা, বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে সাগর মহাদেশ অতল।' মা-বাবা যদি সন্তানের বন্ধু না হতে পারে তাহলে সন্তানকে সুসন্তান হিসাবে গড়ে তোলার আশা ক্ষীণ হতে বাধ্য।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিশু দূর্নীতি শিখে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিমান চাপে রাখা হয় শিশুদের তাতে করে তারা শিক্ষাকে মাথার উপর ভারি কোন পদার্থ মনে করে। একটা সময় তারা এটা থেকে পরিত্রানের উপায় খোঁজে এবং নানা ধরনের ছলাকলার আশ্রয় নেয়। যেটা দূর্নীতির শিকড় তৈরি করে।
আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতনের যে হাল-চাল দেশে তাতে করে এ সমস্যা আরো মারাত্মক হবে তাতে সন্দেহ নেই। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের জমদূত মনে করে। এমনও হয় পড়া বুঝতে না পারলে তারা শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নেয়ার জন্য কথাও বলতে পারে না। কারন, পাছে মার খাওয়ার ভয়। কি অবস্থা!
একজন শিক্ষক একই সাথে শিক্ষক এবং বন্ধু। কারন, তিনি পাঠদান করেন তাই তিনি শিক্ষক আর বন্ধুর সাথে সমস্যার কথা খুব সহজে শেয়ার করা যায় তাই তিনি বন্ধু।