সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তর্কে আস্থাবাদীতা

এক ভাইয়ের সাথে আলোচনা হচ্ছিলো। নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে। তার মধ্যে ধর্ম, মানবতা, নিরপেক্ষতা, আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে খাঁটি ঈমানদার মুসলমান বলে পরিচয় দিলেন।
আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কিসে বিশ্বাস করি?"
আমার জবাবটা এমন ছিলো, "আমি বিশ্বাসী নয়; আস্থাবাদী।"
সে আমাকে বললো, আস্থাবাদ আবার কি রকম? কত ইজম বা বাদ শুনলাম কিন্তু আস্থাবাদ এই প্রথম শুনলাম!
আমি বললাম, ভাই আস্থা আর বিশ্বাস দুটোই প্রায় একই অবস্থান প্রকাশ করে। তবে, ভিন্নরুপে, ভিন্ন আঙ্গিকে।
কেমন?
আমি বললাম, তার আগে আপনাকে বিশ্বাস আর আস্থার স্বরুপটা বুঝতে হবে। তার জন্য আপনি আমার ব্লগের এই লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন। তাহলে আরো ক্লিয়ার হতে পারবেন।
http://bishleshon.blogspot.com/2017/10/blog-post_5.html
এক পর্যায়ে, সে আমাকে বলল সবই বুঝলাম। কিন্তু, ধর্ম-টম্ম কি মানো না?
আমি বললাম, ধর্ম মানে বৈশিষ্ট্য। আর একজন মানুষের মধ্যে দুটো বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ০১. পশুত্ববোধ ০২. মনুষ্যত্ববোধ।
এই বিবেচনায়, একজন মানুষের ভালো-মন্দ নির্ভর করে উপরোক্ত দুটো বিষয়ের উপর। এখন আপনি যদি কারো ধর্ম নির্ধারন করতে চান তাহলে এ দুটোকে নিরিখে নিতে হবে। প্রচলিত ধর্মের মধ্যে গেলে বলতে হবে, আপনি সেই ধর্মকে কিসের ভিত্তিতে বিচার করতে চান।
যদি আপনি বলতে চান, প্রচলিত ধর্মের সবই মনুষ্যত্ববোধের আওতায় পড়ে। তাহলে বলতে হবে এগুলোর উপযোগিতা কি?
উপযোগিতা হলো বর্তমানের সাথে সামঞ্জস্য কি না? ঢালাওভাবে সবকিছু ভালো বলাটা বোকামী বৈ কিছু নয়।
তথ্য-প্রমান-সহকারে বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে সেটা। তা'নাহলে, ধোপে টিকবে না। আবার অযথা ধর্মকে বিজ্ঞান বলাও নিজের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করে। বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটো ভিন্নার্থক। কাঁকতালীয়ভাবে কতিপয় বিষয়ে মিল হতেই পারে। তাই বলে, তাল-বাগানে দুটো খেঁজুর গাছ থাকলে তাকে খেজুর-বাগান বলা যায় না।
সময়ের সাথে সবকিছুর উপযোগিতা কমতে কমতে এক সময় তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এজন্য, সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার উপযোগিতা ধরে রাখে।
অবশেষে, বিষয়টি অমিমাংসিত রেখে দু'জন দুদিকে যার কাজে সে চলে গেলাম। এটা আমিই করেছিলাম। কারন, নিজেদের চিন্তার জগতটাকে আরো একটু পোক্ত করার জন্য।