প্রত্যেকটা জিনিসের উপযোগিতা থাকে। একটা সময় এই উপযোগিতা হারিয়ে যায়। তখন মানুষের কাছে বিষয়টা অ-প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তাই বিলিন হয়ে যায়। এটা পৃথিবীর একটি কঠিন বাস্তবতা। কারন, পৃথিবীতে সবকিছুই নশ্বর। অর্থাৎ, ক্ষনস্থায়ী। ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীতে সবই নশ্বর। সবই ধ্বংস হবে একদিন। যার যেদিন উপযোগিতা হারাবে; সেদিন সে ধ্বংস হবে। সেটা যে কোন কিছু হতে পারে। এখানে উপযোগিতা বলতে বোঝানো হয়েছে, টিকে থাকার শক্তি।
আমাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছে তারা পৃথিবীর এই অমোঘ সত্যকে মেনে নিতে পারে না। কারন, তাদের মধ্যে আবেগীয় বাস্তবতা ভর করে আছে। আবেগীয় বাস্তবতা হচ্ছে, আবেগটাই সেখানে মূখ্য বিষয় হয়ে ওঠে। বাস্তবতার বাস্তব রূপটা সেখানে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বোধ শক্তি হারিয়ে যায়।
তাদের মধ্যে এ ধরনের আবেগ থাকাই আরেকটা বিষয় তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। তারা যেটা সঠিক মনে করে সেটাকেই তারা চরম সত্য মনে করে এবং অন্যের উপর সেটাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার জন্য যেকোন কিছুকে তারা বৈধ মনে করে।
মানুষ একটি প্রাণী। কারন, তার প্রাণ আছে। এ কারনে একই সাথে আমরা মানুষ এবং প্রাণী। এটার উপর ভিত্তি করে মানুষের মধ্যে দু'ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ০১. পশুত্ববোধ ০২. মনুষ্যত্ববোধ।
একজন মানুষ প্রথমে প্রাণীর হালাতে থাকে। অথাৎ, তার মধ্যে পশুত্ববোধ কাজ করে। ধীরে ধীরে সে মানবিক-গুনাবলি অর্জনের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ মানুষে রুপান্তরিত হয়। অথাৎ, তার মধ্যে তখন মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়। আমি গুটি-কয়েককে দেখেছি।
প্রাণীর মধ্যে পশুত্ববোধ রয়েছে। কারন, তার মানবিক-গুনাবলি অর্জনের কোন সুযোগ নেই। এটা একমাত্র মানুষের রয়েছে। এ কারনেই মানুষ জগতের সেরা জীব। কিন্তু মানুষ ততক্ষন পর্যন্ত প্রাণী অর্থাৎ পশুত্ববোধের আওতায় থাকে যতক্ষন না তার মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ কাজ করে।
আবেগ মানুষ ও প্রাণী উভয়ের মধ্যে রয়েছে। পার্থক্য শুধু এক যায়গায়। সেটা হচ্ছে, মানুষ তার আবেগকে চাইলে নিয়ন্ত্রন করতে পারে আর পশু-প্রাণীরা পারে না। একমাত্র পরিপূর্ণ মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ তার আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। অথাৎ, যারা এখনো প্রাণীর কাতার থেকে নিজেকে মানুষের কাতারে উঠাতে পারেনি তারা আবেগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না।
প্রাণীর কাতার থেকে মানুষের কাতারে উঠার উপায় হচ্ছে, নিজের চিন্তা-শক্তির দরজাকে খুলে দেয়া। জ্ঞানের উন্মুক্ত চর্চা করা। নিজের মধ্যে সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা করা। অন্যের উপর নিজের মত অন্যায় ভাবে চাপিয়ে না দেয়া বা চেষ্টা না করা।
আসুন, আমরা মানুষ হই।