সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্বার্থের শতরুপ


স্বার্থের শতরুপটাও বিচিত্র। এই দুনিয়ায় স্বার্থবিহীন একপাও কেউ আগায় না। আজকে হয়তোবা আপনি কারো জন্য কোন ভালো কাজ করলেন। তার মানে, এটা আপনি নিজের জন্য করলেন। কিভাবে? ধরুন, আপনি পরোপকারী একজন ব্যক্তি। প্রশ্ন হলো, কেনো আপনি পরোপকার করেন?
আপনি বলবেন, আপনার এটা ভালো লাগে তাই বা এটা ভালো কাজ তাই ইত্যাদি। কিন্তু, আমরা জানি, "মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক"।
আপনি বলতে পারেন, ভালো কাজে স্বার্থ থাকে না বা থাকতে পারে না। কিন্তু, এই কথাটা ভাবনা-চিন্তাহীন, অবিবেচনা-প্রসূত একটি কথা। কারন, ভালো কাজের পেছনে নিম্নতম স্বার্থ হলো মানুষের কাছ থেকে সম্মান এবং বাহবা পাওয়া।
আর এই ইমেজটা আপনার স্বার্থের শতরুপ প্রকাশ করে। কিভাবে?
ধরুন, আপনাকে সবাই ভালো মানুষ বলে জানে। এখন সবাই আপনার উপর আস্থা রাখবে। এটাই স্বাভাবিক। আর যদি আপনার নেতিবাচক ইমেজ থাকে সর্ব-সাধারনের মাঝে তাহলে কেউ আপনার উপর আস্থা রাখবে না। এটাও স্বাভাবিক।
এই আস্থা-অনাস্থার পরিবেশই আপনাকে অনেক কিছু এনে দেয়।
কেউ আপনার পাশে এসে যাচিত-অযাচিত ভালো কথা বললে, বুঝে নেবেন স্বার্থের এই দুনিয়ায় কোন না কোন গুপ্ত বাসনা লুকায়িত রয়েছে তার মধ্যে।
তবে হ্যাঁ, এই স্বার্থবাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে উদ্ভূত হয়েছে শেয়ারিং, কেয়ারিং এর ব্যাপারটি।  কারন, মানুষ সামাজিক জীব। একে-অন্যের সাহায্য ছাড়া তার পক্ষে এই রুক্ষ-পৃথিবীতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। যতই স্বার্থ থাকুক, অন্যের উপর আমরা কোন না কোনভাবে নির্ভরশীল।
এর ভেতর দিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। একটু সচেতনতাই পারে জীবনকে সুন্দর করতে। অন্যের অন্যায় স্বার্থ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।
অন্যের কাজ-কর্মে নিজে দুঃখ-কষ্ট পাওয়া বোকামী। আর যদি এরকমটা ঘটার সম্ভবনা থাকে তবে আগেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারন, এই সময়টা অন্যের জন্য ব্যয় না করে নিজের জন্য ব্যয় করলে দুঃখ-কষ্টের চেয়ে অনেক ভালো কিছু পাওয়া যায়।
আসুন, সতর্কতা-সচেতনতার মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করি। স্বার্থের শতরুপের মাঝে ভালোবাসাটাকে উজ্জিবিত করে রাখি। স্বার্থের মাঝেই জয় হোক ভালোবাসার।