সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আইনের অসামঞ্জস্যতা


আইন কেনো তৈরি করা হয়? নিশ্চয়ই, মানুষ ও সমাজের মঙ্গলের জন্য, ভালোর জন্য। কিন্তু, যে আইন মানুষের কষ্ট দেয়, অধিকার বঞ্চিত করে, সমতা নিশ্চিত করে না। তাকে মঙ্গলদায়ক বলাটা কোন বিবেক-বোধ সম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না।


আইন যদি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ না করে, হরণ করে। সেটা অবশ্যই অমানবিক আইন। একজন অপরাধী, তারও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোন কারনে হয়তোবা আজ সে অপরাধী। প্রচলিত আইন, অপরাধীকে শাস্তি দেয়; অপরাধের মূলোৎপান না করে।


যদি অপরাধ না থাকে, অপরাধী হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা যুগ বদলের গান গায়। কিন্তু, নিজেরা কতটুকু পরিবর্তিত হতে পারলাম। এটা ভাবি না।


বিজ্ঞানের যুগ, তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। আরো কত উন্নত যুগের ধারণা আমরা ধারণ করি। কিন্তু, যুগের উন্নত পরিবর্তনের সাথে নিজেদেরও যে উন্নত পরিবর্তন দরকার সেটা আর হয়ে ওঠে না।


 বিজ্ঞানের যুগ বলি, কিন্তু বিজ্ঞান যেটা বলে সেটা মানি না। বিজ্ঞান নতুনত্বের কথা বললে, আমরা তখন নিজেদের পুরাতন স্বত্ত্বার কাছে আত্মসমার্পন করি। বিজ্ঞান পরিবর্তনের কথা বললে, আমরা নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলি।


বিজ্ঞান, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করে।  মানে বিজ্ঞান চাক্ষুস দেখিয়ে দেয় কোনটা কিভাবে ঘটছে। অথচ আমরা নিজেদের চিন্তা-কর্মের বিরুদ্ধে গেলে, গায়ের জোরে বিজ্ঞানকে ভূয়া-ক্ষতিকর দাবী করি।


এই ঘটনাটা আমাকে হাসতে খুব সাহায্য করেছে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ব্যবহার করে উপকৃত হওয়ার পর বহু মানুষ বিজ্ঞান বিরুদ্ধ কথা বলে, কাজ করে। পুরাতন ব্যবস্থাকে উপযুক্ত বলে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে। এটা ঠিক মাত্রাতিরিক্ত যে কোন জিনিসের ব্যবহার ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। কিন্তু, তার জন্য তো আমাদের পরিমিতিববোধ দরকার। পরিমিতিবোধ তখনই আসবে যখন আমরা নিজেদেরকে স্ব-বিরোধী অবস্থান থেকে বাহির করতে পারবো এবং উক্ত বিষয় গ্রহণে সক্ষম করে তুলতে পারবো।


একটা বিষয় খুব অবাক লাগে, কতিপয় লোক দাবী করে এটা বড় বিজ্ঞান, ওটা বড় বিজ্ঞান। অথচ বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা দূরে থাক, বিজ্ঞানের সংজ্ঞাটাই তারা জানে না।


কোন তত্ত্ব যখন মানব সমাজে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। আগে দেখা হয়, তত্ত্বটি গ্রহণ করার মত সক্ষমতা ঐ সমাজের মানুষের হয়েছে কি না। যদি সক্ষমতা না হওয়া সত্ত্বেও তত্ত্বটি সেখানে প্রয়োগ করা হয়; ফলটা বিপরীমূখী হবে, বলার অপেক্ষা রাখে না।


আমাদের সমস্যাটা এখানে, নিজেদের সক্ষম করার আগেই আমরা গো-গ্রাসে গলাধকরণ করে চলেছি প্রতিনিয়ত। যেটার বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়া আমাদের সর্বদা আক্রমন করছে।


সবাগ্রে, সমস্যার গোড়ায় আঘাত হানতে হবে। তবেই, সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। মাথা ব্যাঁথা করলে যেমন মাথা কেঁটে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না। হিতে-বিপরীত ঘটে। অপরাধের মূলোৎপাটন না করে, অপরাধীকে শাস্তি দিলে ঠিক তেমনটাই হয়। ঠিক তেমনি সময়ের সাথে নিজেদেরও পরিবর্ত না করলে। হিতে-বিপরীত ঘটবে। একটু কষ্ট করে, নিজের চিন্তা-শক্তি খরচ করলে, আশে-পাশে এর প্রমাণ পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।


বিজ্ঞানের যুগে, তথ্য-প্রযুক্তির যুগে আইন হতে হবে বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক আইন। এটাই সময়োপযোগী ধারণা। একশো বছর আগের আর বর্তমান সময়ে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। এখান থেকে ১০ বছর আগেও মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিলো না। এখন আছে। কাজেই, নতুন-পুরাতন চিন্তা-ভাবনা কখনো এক নয়। এটা বোঝার জন্য সাধারন বোধই যথেষ্ট।


আসুন, নিজের অবস্থান থেকেই পরিবর্তনের দিন শুরু করি। মানুষের জন্য মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি।