সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিজয়টা সবার! কিন্তু যুদ্ধটা কার?

একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধ/মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন তো একটা রয়েছে। যেটা এপার-ওপার কেউ ভেবে দেখছে না।

প্রশ্নটা হচ্ছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধারা যদি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা না করতেন এবং ৮ মাস ধরে এটাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম না হতেন, তাহলে ভারতীয় বাহিনী যুদ্ধ করতো কোথায়?

তার আগে আমরা একটু স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট দেখি।

আমরা আজকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। এটার প্রেক্ষাপট কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের মুক্তি সংগ্রামের ফসল আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

আজকে আমরা বাংলাদেশ নামক যে ভূখন্ডটি দেখতে পাচ্ছি। এটা ১৯৪৭ সালের পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি অঞ্চল ছিলো। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সে সময় প্রচুর আন্দোলন সংগ্রাম হয় এখানে। কিন্তু, হিন্দু-মুসলিম তিক্ততার জেরে ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়ে যায়। নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে পূর্ব-বাংলা পাকিস্তানের অংশে পরিনত হয়। কার্যত, পাকিস্তানের কলোনিয়াল শাসনের অন্তর্ভূক্ত হয়। পাকিস্তানের সাথে বাংলার যে দূরত্ব তাতে করে কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষের পক্ষে এটাকে এক দেশ বলা সঙ্গত নয়। যাহোক, পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্তির পর থেকে শুরু হয় নানান ধরনের শোষন। যার প্রেক্ষিতে শুরু হয় মুক্তি সংগ্রাম। এই মুক্তি সংগ্রাম নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়।

মুক্তি-সংগ্রামের কিছু ঘটনাবলিঃ
০১. ভাষা সংগ্রাম পরিষদ
০২. ভাষা আন্দোলন
০৩. ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
০৪. ১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন
০৫. ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন
০৬. ১৯৬৬ এর ৬ দফা
০৭. ৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান
০৮. ১৯৭০ এর নির্বাচন
০৯. ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়েই ৭১ রচিত হয়।

নয় মাস মা সন্তান গর্ভে ধারণ করে সন্তান জন্ম দেয়। ধাত্রী যদি বলে সন্তান আমার। হাস্যকর বটে!

আগের কথা না বলে ১৩ দিন যুদ্ধ করে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়ে গেলো! মগের মল্লুক নাকি!