পৃথিবীতে সব মানুষই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কারো সাথে কারো কোন মিল নেই। এটা বাস্তব সত্য। এই বোধ যাদের মধ্যে নেই, তারা আর যাইহোক সুস্থ্য-স্বাভাবিক চিন্তার অধিকারী হতে পারে বলে আমার মনে হয় না।
একজন মানুষ সর্বপ্রথম সে মানুষ। এর পরে তাকে নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে শ্রেণীকরণ করা হয়। কিন্তু, একজন মানুষ তো আসলেই মানুষ। তার আর কোন ট্যাগ দিয়ে বন্দি করা অন্যায় বোধের সামিল।
মানুষের দুটো ট্যাগ/বৈশিষ্ট্য আছে জগতে। যেটা স্বভাবিকভাবে গ্রহণীয়। এক. ইতিবাচক মানুষ, দুই. নেতিবাচক মানুষ। যদিও এক এক সমাজে ভালো-মন্দের বিচার একেক রকম। তারপরও সভ্য সমাজের মানুষের বৈশিষ্ট্য এ দুটোই বলে সর্বজন স্বীকৃত। এর বাইরে অন্যকোন ট্যাগ দিয়ে কল্পনা করা, নিজের মত-পথ চাপিয়ে দেয়ার সামিল।
মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখায় যে শিক্ষা সেটাই সর্বজনবিদিত মানবতার শিক্ষা। আসুন আমরা মানবতার শিক্ষায় নিজেকে আলোকিত করি।
সমাজের প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মত-পথ নিয়ে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। শক্তির জোরে অন্যের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেয়া মহা-অন্যায়। নিজের মত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিশৃংখলা সৃষ্টি করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মত প্রকাশ করাও একজন মানুষের অধিকার। এটা আপনারও অধিকার। অনুভূতির আঘাতের নামে মত প্রকাশ করতে না দেয়া অন্যায়। নিজের মত ঠিকই সমাজে জোরে-শোরে প্রকাশ করতেছেন। আর অন্যের ভিন্নমত প্রকাশ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। ন্যায়-নীতিবোধের যায়গা তো দূর্বল করে ফেলেছেন।
যদি কারো কথায়, আপনার অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এটা আপনার সমস্যা। নিজেকেই এর সমাধান করতে হবে। নিজের অনুভূতিগত সমস্যা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায়। অযথা কেনো অন্যকে হেনস্থা করবেন, নিজের সমস্যার জেরে। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেষ্টা করি। মত-পথের অমিল হতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। আমরা তো সবাই, সবার মত।
কোন কাজ করার আগে অন্তত একটু ভাবুন। নিজের যে অফুরন্ত চিন্তা-শক্তি রয়েছে, সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। মতের অমিল হলে, গ্রহন করতে না পারলেও, বিনয় প্রকাশ করুন। এটা আপনার শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।
কথা বলার সময় যুক্তি-প্রমান দিয়ে কথা বলুন। না পারলে, চুপ থাকাটাই উত্তম। উন্নত ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। না জেনে, বুঝে কথা বলতে যাওয়াটা বোকামী এবং ব্যক্তিত্বহীনতার লক্ষণ। অনেককে দেখা যায়, অযথা মেনে না নেওয়া এবং অযৌক্তকভাবে চাপিয়ে দিতে। এটা নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে। আগে বিষয়টি সম্পর্কে জানুন, বুঝুন। তারপর, বলুন।
পৃথিবীতে যত মানুষ রয়েছে, তত রকমের মত-পথ-চিন্তা রয়েছে। কাজেই, সবাইকে সবার মত করে বেঁচে থাকতে দিতে হবে। কথায় বলে, "নানা মুনির, নানা মত; যত মত, তত পথ।"