যার মধ্যে মানবিক সত্তা কাজ করে, সে কখনো মানুষ হত্যার মত চরম অমানবিক কাজ করতে পারে না বা সমর্থন বা সহযোগিতা করতে পারে না। সেটা যেকোন ধরনের হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
প্রথমত, আমি একজন মানুষ। সর্বশেষও, একজন মানুষ। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ হলো আমার মানবিক সত্তার ভিত্তি। আমার বিবেক ও চিন্তাশক্তি আমার ভালোত্ব বা মন্দত্বের বিচার করে। আমি মনে করি, একজন মানুষকে বিবেকের ও চিন্তার স্বাধীনতা দিলে এবং জ্ঞানার্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ দিলে; সে অবশ্যই ইতিবাচক মানুষ হিসাবে গড়ে উঠবে।
একজন মানুষকে অপরাধের জন্য শাস্তি দিলে অপরাধ না কমে, অপরাধের নতুনরূপে আগমন ঘটে। তাই অপরাধ দমনে আগে মানুষের ভেতর থেকে অপরাধ-বোধের মূলোৎপাটন করতে হবে। পৃথিবীতে এখন এ ধরনের উৎকৃষ্ট উদাহরন রয়েছে, যারা অপরাধ দমনে শাস্তি না দিয়ে, অপরাধীকে অপরাধ-প্রবনতা থেকে বাহির হয়ে আসতে সাহায্য করে অপরাধকে নির্মূল বা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই, এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা এখন আর অলীক-ভাবনা নয়। বরং, তাদেরকে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতার ধারক বলে মনে করা হয়।
উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলো থেকে এসব দেশে মানুষ অভিবাসন গ্রহনের জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকে। কারন, এখানকার মানুষের রয়েছে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা। বিশেষ করে মত-প্রকাশ করা থেকে শুরু করে ন্যায়-বিচার লাভ এবং তাদের উচ্চ ও উন্নত জীবন-দর্শনের জন্য।
যে সব দেশে অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে এখনো, সে সব দেশে অপরাধের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে, না কমে। আর যে সব দেশে এটা নেই, সে সব দেশে মানুষের জীবন-প্রত্যাশা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
অপরাধ দমনে শাস্তি প্রদান প্রথা অতীব প্রাচীন ও কোন কোন ক্ষেত্রে তা মধ্যযগীয় বর্বরতার সামিল। এটা বর্তমান আধুনিক ও উন্নত বিশ্ব-চিন্তার সাথে যায় না।
সময়টা এখন মানবতা ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রদানের। কাজেই, খোড়া অজুহাতে, মরা যুক্তি দিয়ে মানুষের অপরিসীম চিন্তা শক্তিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে মহা-অন্যায় ও মানবতার এবং মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।