সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জঙ্গিবাদ ও এর উত্থান নিয়ে তর্ক এবং আমার মত

গত কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুর সাথে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিলো। বিষয়টা ছিলো-জঙ্গিবাদের উত্থান এবং এটা কাদের সৃষ্টি। একপক্ষে আমি। অপরপক্ষে আমার জনৈক বন্ধু। সে বলছিলো এটা ইউরোপ, আমেরিকার সৃষ্টি। তারা তাদের স্বার্থে এটা তৈরি করেছে। আর আমার মত ছিলো এরকম যে, নিজেদের ভেতরকার সমস্যাটাকে স্বীকার না করে; অন্যের উপর দোষটা চাপিয়ে দিচ্ছে। কি রকম?

আমার মত হলো, মুসলমানরা নিজেরা মারামারি করছে এবং আমেরিকা বা অন্যদেশগুলো এটার সুযোগ নিচ্ছে। আর সে বলছে, না তারা মুসলমানদের মধ্য বিভেদ লাগিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার পায়তারা করছে।

এটাতো সহজ হিসাব, আমেরিকা তার স্বার্থে সমস্যাকে জিইয়ে রাখে। শেষ করতে চায় না। কারন, শেষ হলে তার লস। এবং তারা সব সময় সবকিছু ব্যবসায়িক সেন্স থেকে দেখে থাকে। লস প্রজেক্টে কখনো তারা বিনিয়োগ করে না। সেটা হোক সামরিক-বেসামরিক বা ব্যবসায়িক।

আর বেসিক্যালি তারা কখনো নিজেরা এসে যুদ্ধ করতে চায় না। কারন, তারা জানে কিভাবে একটি গুষ্ঠি বা দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ধ লাগিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে হয়। এ হিসাবে আমেরিকা সুযোগটা তৈরি করার আগে পেয়ে গেছে। যেহেতু মুসলমানরা মারামারি করছে সেহেতু নতুন করে বাঁধানোর কিছু নেই।

তাছাড়া সমস্যাটা মুসলমানদের মজ্জাগত হয়ে দাড়িয়েছে। নবীর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচন করার সময় থেকে নিজেদের মধ্যে মারামারির সুত্রপাত। এখনো সেই ক্ষমতার দ্বন্দ্ধ চলছে প্রতিনিয়ত। ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে স্যারগণ আমাদেরকে এগুলো সুন্দর করে পড়িয়েছেন।

না জেনে, না বুঝে আমরা প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে চলেছি। অন্যায়ভাবে আমরা অন্যের উপর নিজের অপরাধের দোষ চাপিয়ে দিচ্ছি অহরহ।

ঠিক আছে, তর্কের খাতিরে অনেক সময় জেতার লক্ষ্যে আমরা অনেক কথা বলি। কিন্তু, মিথ্যাচার করাটাতো অন্যায়। নিজেদের মধ্যকার সমস্যাকে আমলে না নিয়ে, সেটার সমাধান না করে, অন্যকে দোষারোপ করে, নিজেদের সমস্যাটাকে জিইয়ে রেখে, অন্যদেরকে সুযোগটা হাতে তুলে দিচ্ছি। আর ইয়া রব, ইয়া রব বলে হাহুতাশ করছি!

১৪০০ বছর ধরে যে সমস্যাটা চলছে চাইলেই কি একদিনে সমাধান করাটা সম্ভব? না। এটার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তবায়নমূখী পরিকল্পনা দরকার। সেক্যূলার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। যেখানে কোন রকমের বৈষম্যের বাণী থাকবে না। থাকবে শুধু মানবতার জয়গান। যেখানে মানুষ মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখবে।

বৈষম্যহীন এক নতুন, সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি।