০১. আমরা সবাই মানুষ! এই কথাটা যদি কেউ ধারণ করতে পারে। তাহলে তার মধ্যে কোন অহংবোধ, ঘৃনাবোধ, মনুষত্যহীনতা কাজ করতে পারে না।
০২. আমরা সবাই ভালো! এটা কেউ কেউ জানে! আসলে, কেউ কোন ব্যাপারে পরিপূর্ন নয়। আংশিক।
০৫. কিছু মানুষ আছে যারা অযথা ভাব-সাব নিয়ে বেড়ায়। এদের আসলে নিজের সম্পর্কে কোন ধারণায় নেই। যদি থাকত তাহলে নিজের অবস্থান অনুযায়ী চলা-ফেরা করত, কথাবার্তা বলত। নিজের যা নেই সেটা প্রকাশ করতে যাওয়ার মধ্যে কোন কৃতিত্ব বা বাহাদুরি নেই। বরঞ্চ, যাদের থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ করে না; মানুষ তাদেরকেই নমস্তে জানায়।
০৬. আবেগটা ক্ষনস্থায়ী। এজন্য আবেগকে ধরে রাখা যায় না। আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন কাজ করলে তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাস্তবতাকে মেনে নয়, জেনে; সিদ্ধান্ত নেয়া এবং পরিকল্পনা করা উচিত।
০৭. জীবন তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে। শুয়ে থাকুন, বসে থাকুন, চলাচল করুন বা কাজে; জীবন জীবনের গতিতে চলে। পৃথিবীতে সবকিছুই সদা পরিবর্তনশীল। কোন কিছুই থেমে নেই। এজন্য দুনিয়ায় সবই নশ্বর।
০৮. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যটা হলো, মৃত্যু। এটাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা জিনিস তার টিকে থাকার সক্ষমতা হারায়। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা, পাগলের প্রলাপ।
০৯. প্রত্যেকটা মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে। কারো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাটা অন্যায়। স্বাধীনতার মূল্য তারাই বোঝে, যাদের নেই।
১০. শৃংখলার মধ্যে থাকলে মানুষ নাকি মানুষ হয়। আরে, মানুষ তো মানুষই। নতুন করে মানুষ হওয়ার কি আছে! নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন একেবারে ভালোও নয়, আবার পুরোপুরি খারাপও নয়। জীবনকে উপভোগ করার জন্য ক্যাজুয়াল লাইফটাই বেটার মনে হয় আমার। কখনো নিয়মে, কখনোবা অন্য নিয়মে। আর বাস্তবতা হলো, পরিবর্তনময় বিশ্বে সম্পূর্ন নিয়মতান্ত্রিক হওয়া সম্ভব নয়।
১১. অতি শৃংখলাবোধ মানুষের ভেতরকার মানুষটাকে মেরে ফেলে। সে মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে ঘৃনা করতে শেখে। বাস্তবতাবোধ বিবর্জিত হয়ে পড়ে। নিজস্বতা হারিয়ে ফেলে। নিজের আজগুবি চিন্তা-ভাবনা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে উগ্র হয়ে যায়। সব সময় ভয়বোধের ভেতর ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
১২. যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে সামন্যতম মানবিক মূল্যবোধ থাকে। সে কখনো অন্যায়ভাবে কারো উপর কোন কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না। কারো স্বাধীন স্বত্ত্বায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কারো নিজস্বতাকে কুরে কুরে ধ্বংস করতে পারে না। এটা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
১৩. প্রত্যেকটা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং স্বাধীনভাবে। ক্ষমতা এবং জনতার দাপট দেখিয়ে কারো বেঁচে থাকার অধিকার এবং স্বাধীনতাকে হরণ করার কোন অধিকার আপনার নেই। ক্ষমতা এবং জনতা স্বার্থের এবং দুদিনের। অধিকার এবং স্বাধীনতা আজীবনের। গালি এবং অভিশাপটাও চিরদিনের।
১৪. ১৪-২৫, বয়সটা বড়ই রঙিন। এই সময়টাতে চোখে যেন রঙিন চশমা পরানো থাকে। সময়টা কেটে গেলে, চশমা খুলে পড়ে যায়। তখন দুনিয়াটা অন্ধকার হয়ে যায়। পরে, জীবন-প্রদীপ জ্বাঁলাতে বড়ই কষ্ট হয়ে যায়।
১৫. এলাকায় কিছু সিনিয়র এবং মুরুব্বি লোক থাকে যারা বলে, ও তুমি বুঝবা না। বয়স হোক, বুঝবা। আধা বয়সে এসেও একই কথা শোনা লাগে, তাদে র কাছ থেকে। কবে যে বড় হবো! মানে বিষয়টা এমন, তারা নিজেদের মহা-পন্ডিত মনে করে; কিন্তু তারা প্রকাশ করতে চায় না, এমন একটা ভাব। আসলে কিছুই না। হুদাই!
১৬. আপনারাই যদি এমন করেন তাহলে আর কোথায় যাবো! নীতিবাক্য শুনিয়ে নীতিহীন গর্হিত কাজ। তাও আবার অবৈধ, বেআইনি, নীতিহীন, গর্হিত, অসামাজিক। আল্লাহ! তোমার কাছে বিচার দিলাম!
১৭. নীতি নয় ভালো-পরিস্থিতিই মানুষকে ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। খারাপ পরিস্থিতি খারাপ। তবে কিছু ব্যাপার থাকে যা ভালো বা খারাপ কোনটার আওতায় ফেলানো যায় না।
১৮. একজন আদর্শবান শিক্ষকের আদর্শ, ছাত্রদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আর একজন আদর্শহীন শিক্ষকের আদর্শহীনতা, ছাত্রদের বিপুল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়।
১৯. প্রত্যাশাটা এমন করা উচিত যেনো প্রাপ্তিটা যথাযথ হয়।
২০. সে সমাজ আমাদের জন্য আতঙ্কের, যেখানে 'তোমার ভালোর জন্য' এ আশা জাগানিয়া শ্লোগানে দূর্বল করার গোপন মহড়া চলছে।