সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পরীক্ষা একটি প্রাচীন পদ্ধতি

মেধা যাচাইয়ে পরিক্ষা পদ্ধতি বড়ই প্রাচীন হয়ে গেছে। এটাকে আমি মেধা যাচাই বলি না। এটাকে আমার কাছে পারদর্শিতা যাচাই মনে হয়। মেধা বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি। পারদর্শিতা বলতে বুঝি, জানা, না-জানার পার্থক্য নিরূপন। আর মেধা হচ্ছে, সৃজনশীল মেধা-মনন।যেখানে রয়েছে নতুনত্ব, আবিষ্কার, সুস্থ্য চিন্তা করার শক্তি এবং স্বাভাবিক বিকাশ ইত্যাদি।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেকার এবং বিসিএস ক্যাডার তৈরির কারখানায় পরিনত হয়েছে। সৃজনশীল মেধা-মননের বিকাশ দিন দিন বিলুপ্তির পথে। অনেকে আবার বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং করার চেষ্টা করে। তারা আবার বিশ্ববিদ্যালয়েরই! এরকম তো হওয়ার কথা ছিলো না। বিশ্ববিদ্যালয় তো জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের যায়গা।

ভূত বলতে কিছু নেই। তারপরও যদি মানুষের মাথায় ভূতের ভয় ঢোকে, তাহলে অবস্থা শোচনীয় এবং করুন হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মধ্যকার সম্মানিতদের ঠিক এরকমই অবস্থা। মাথায় বিসিএস নামক ভূত ঢুকে পড়েছে। আমি বিসিএসকে খারাপ কিছু ভাবছি না বা বলছি না। শুধু বিসিএস উন্মাদনাকে ক্ষতিকর ভাবছি। যে উন্মাদনা দেশ ও জাতির জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতি ডেকে আনছে তা তো ভূতের বয়ের চেয়েও হাজারগুণ মারাত্মক।

বিসিএস উন্মাদনা দেশের অন্যান্য খাতগুলোকে দক্ষ জনশক্তির অভাব সৃষ্টি করছে। যে কারনে বিসিএস নয়, বিসিএস উন্মাদনা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতি ডেকে আনছে।

অনেকে আছে না জেনে, বুঝে বিসিএস, বিসিএস করে, করে অযথা সময় নষ্ট করে। পরে নিজের দোষে বেকারত্বের ঘানি টেনে সরকার ও দেশকে গালি দিয়ে নিজেকে দেশে ও জাতির বোঝায় পরিনত করে। আমার মনে হয়েছে, নিজের সম্পর্কে এদের কোন ধারনায় নেই। তা যদি থাকতো, তাহলে নিজের চিন্তা-চেতনার সাথে মিল রেখে যোগ্যতানুযায়ী অন্য কোন বিষয় খুজে নিয়ে অযথা সময় অপচয়টা অন্তত রোধ করতে পারতো।

আর এক শ্রেণী আছে যারা এটা নিয়ে ভাবে। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু করে না। শুধু মুখে মুখে বলে বেড়ায় বিসিএস দেবো। এরা আবার শটকার্ট ওয়েতে বিসিএস দেয়ার চেষ্টা করে। শুরু যার শর্টকার্ট দিয়ে, তার কাছ থেকে জাতি বৃহৎ কিছু আশা করতে পারে না। "ভাই, সবার জন্য সবকিছু না"।