বর্তমান সময়ের একটি ডিজিটাল বিড়ম্বনার নাম ভার্চুয়াল মন্তব্য। এটা ঠিক পাবলিক প্লেসে কাঁদার মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার মত বা মাঝে মধ্যে তার থেকেও বড় ধরনের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়। ধরুন,
ফেসবুকে কেউ একটি পোস্ট দিলো। সেখানে ৫০ জন কমেন্ট বা মন্তব্য করল। এর মধ্যে এমন একটি অনাকাঙ্খিত কমেন্ট আসলো। যেটা আদৌ আপনি প্রত্যাশা করেননি।
এমনটা হওয়ার কিছু কারন রয়েছে। আমি মোটামুটি পর্যবেক্ষন করে ব্যক্তিগতভাবে যে কারনগুলো আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি; সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
০১. না ভেবে, না বুঝে পোস্ট বা মন্তব্য করাঃ
বাস্তবের জগতে আমরা যেমন কথা বলার সময় ভেবে বলি; ঠিক তেমনি ভার্চুয়াল মন্তব্য করার সময় ভেবে-চিন্তে করা উচিত। পাবলিক প্লেসে যেমন আপনি হঠাৎ করে কোন বেফাস মন্তব্য বা অযাচিত কথা বলতে পারেন না বা বললে আপনার ইজ্জত যায়। ঠিক তেমনি এটাও একটি ভার্চুয়াল পাবলিক প্লেস। ভেবে-চিন্তে পোস্ট বা মন্তব্য করুন।
০২. ভার্চুয়াল জগতের সঠিক ব্যবহার না জানাঃ
অধিকাংশ মানুষ ভার্চুয়াল জগতের নিয়ম-নীতি বা সঠিক ব্যবহার জানে না। যার ফলে মানুষ প্রতি পদে পদে ভুল করে। সর্বাগ্রে সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। তারপর ব্যবহার করতে হবে।
০৩. ব্যক্তিত্ববোধের অভাবঃ
প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্বতা রয়েছে। আর এই নিজস্বতায় মানুষকে ব্যক্তিস্বত্বার কাঠামো থেকে ব্যক্তিত্ব প্রদান করে। ভার্চুয়াল জগতের আবির্ভাবে মানুষ তার নিজস্বতা হারাতে বসেছে দিন দিন। কোন পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়ায় নিজের সংবাদ অন্যের নিকট পৌছে দেয়ার এক অলিখিত তাগিদ তৈরি হয়েছে। এটা তার ব্যক্তিত্বের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে; সেটা কখনো ভেবে দেখে না। কোনটা সঠিক আর বেঠিক। এটা না বুঝে পরিবেশন করাটা বিড়ম্বনা তৈরি করে।
০৪. মূল্যবোধের হন্তারকঃ
বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভার্চুয়াল জগতকে মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র না বানিয়ে মূল্যবোধের হন্তারকে পরিনত করে ফেলছি। একটাই কারন, সঠিক এবং পরিমানমত ব্যবহার না করতে জানা।
০৫. অতি আবেগঃ
কথা বলার সময়-সুযোগ না পেলে কথা বলা যায় না। আর ভার্চুয়াল জগতে মন্তব্য করার জন্য এটা রেডি থাকে। এজন্য আমরা আবেগ ধরে রাখতে পারি না। না বুঝেই মন্তব্য করে বসি। যেটা আমাদেরকে খুব সহজেই বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়। আবেগকে বস মানাতে হবে।
০৬. সেলিব্রেটি মনোভাবঃ
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যেমগুলোতে খুব সহজেই নিজের মনের কথাগুলো তুলে ধরা যায়। তাই বলে যদি আপনি হাড়ির সব খবর প্রকাশ করতে যান; তাহলে তো মন্তব্য বিড়ম্বনায় আপনাকে পড়তেই হবে। নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবা যায় সহজে, কিন্তু মানুষকে ভাবানো অনেক অনেক কঠিন। নিজেকে সেলিব্রেটির কাতারে উঠাতে গিয়ে; ট্রোলে পরিনত করার কি দরকার!
সবশেষে, ভাবিয়া করিও পোস্ট, করিও মন্তব্য। করিয়া বিড়ম্বনায় পড়িও না।