একটা বিষয় নিয়ে আজকে ভাবছিলাম। সেটা হচ্ছে, অপরাধ দমনে শাস্তি প্রদান প্রথা আসলেই কি অপরাধ কমাতে পারছে নাকি এটা অপরাধ করতে মানুষকে উৎসাহিত করছে নাকি অন্য কোন পদ্ধতি অপরাধ কমাতে পারে।
আমি পড়ালেখা করে, চিন্তা-ভাবনা করে, বাস্তবে দেখলাম শাস্তি প্রদান করে কোন অপরাধ কমছে না। বরঞ্চ, দিন দিন অপরাধ-প্রবনতা বেড়েই চলেছে জ্যামিতিক হারে। এমনকি যারা রক্ষকের ভূমিকায় তারাও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
দেশে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন করার পরও দেশে কিন্তু বহু অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার মত। যেখানে মৃত্যু জেনেও মানুষ অপরাধ করছে। সেটাকে আপনি ঠিক সমাধান বলতে পারেন না। হ্যাঁ এটা ঠিক, চাইলেই আমরা খারাপকে পৃথিবী থেকে বিতাড়িত করতে পারবো না বা চাইলেই সবকিছু ভালো হয়ে যাবে না। তবে আমরা নিয়ন্ত্রন কাঠামোর আওতায় রাখতে পারি। এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকার কথা নয়। সেটা মূর্খতা বৈ কিছু নয়।
যখন কোন ব্যক্তি একটি বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন তার কাছে সেটা কোন পরোয়া মনে হয় না। অনেক সময় সেটা উৎসাহের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। যারা জেলখানায় গেছে তাদের কাছে ওটা ডাল-ভাতের মত মনে হয়। তখন তার কাছে মনে হয় আমাকে তো কয়েকদিন আটকে রাখবে বা মরে তো একদিন যেতে হবে! অপরাধে শাস্তি প্রদান অপরাধীকে অপরাধ করতে উৎসাহিত করে বলে আমার মনে হয়েছে। অপরাধীর অন্তর্নিহিত চিন্তা-ভাবনা খেয়াল করলে বুঝতে সমস্যা হবে না।
অপরাধ দমনে সবার আগে সামগ্রিকভাবে অপরাধ সংঘটনের কারন এবং উৎস খুজে বাহির করতে হবে। যাতে করে সমূলে উৎপাটন করা যায় এবং অপরাধীকে শাস্তি না দিয়ে তার মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কারন, অপরাধ সংঘটনের সাথে মানুষের বিকৃত চিন্তা-ভাবনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কাউন্সেলিং করানো, বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। এতে করে তার মানসিকতার উন্নয়ন হবে। স্বাভাবিক সামাজিক জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হবে। তার ভেতর থেকে অপরাধ-প্রবনতা দূর হতে সাহায্য করবে।
তাছাড়া, একজন অপরাধী একই সাথে একজন মানুষ। মানুষ হিসেবে তার পূর্ন-অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। হয়তোবা, সে পারিপার্শ্বিকতার কোন না কোন কারনে অপরাধীতে পরিনত হয়েছে। সুযোগ পেলে সেও ভালো কিছু করতে পারতো।
সর্বোপরি, শিক্ষার বিকল্প নাই। তবে সেটা হতে হবে সেক্যূলার শিক্ষা-ব্যবস্থা। কেননা, নির্দিষ্ট শিক্ষা মানুষকে গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলে। শাস্তির পরিবর্তে যদি অপরাধীকে সংশোধনের ব্যবস্থা করা যায় আমার মতে সেটা অনেক বেশি কার্যকরী হবে। জেলখানার পরিবর্তে অপরাধী সংশোধনাগার গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে তাদের শিক্ষা, মানসিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত করা গেলে তারা অপরাধের খাঁচা থেকে বাহির হয়ে আসতে পারবে বলে আমার মনে হয়। যারা প্রমান চান তারা ইন্টারনেট ঘেটে দেখে নিতে পারেন। এমন অনেক দেশ রয়েছে সেখানে জেলখানা বলতে কিছু নেই। যা ছিল সব অপ্রয়োজনীয় হয়ে বাজেয়াপ্তের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এমনকি জেলখানার পরিবর্তে যে সংশোধনাগারগুলো গড়ে তুলেছিল সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে অপরাধীর অভাবে।
আজকে এ পর্যন্ত। সবাইকে ধন্যবাদ।