"মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক।" "পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।" এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই 'মানুষ সামাজিক জীব।' তাছাড়া, যারা নীতি বা তত্ত্ব তৈরি করে, তারা নিজেদের চিন্তা-ভাবনা এবং নিজেদের অবস্থানগত পরিবেশের দ্বারা তত্ত্বটিকে প্রভাবিত করে ফেলে। এ কারনে, ঐটার মধ্যে আঞ্চলিক আধিপত্যকামিতা ও শ্রেষ্ঠত্ববোধ গেড়ে বসে। সবাই সবারটা শেষ্ঠ মনে করে। কিন্তু, প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী অঞ্চল বিশেষে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। একেরটা অন্যের উপর চাপিয়ে দিলে সমস্যা তো হবেই। আর যদি একান্তই দরকার হয়, তাহলে ঐ স্থানের পরিবেশের সাথে যেনো যায় এমনভাবে কাস্টমাইজ করে তারপর দেওয়া যায়। তবেই, সমস্যাটা কম হবে। যেমন, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম যারা ইসলাম প্রচার করতে আসে, তারা এখানকার মানুষের সাথে যায় এমনই এক নতুন বাদ, সুফিবাদ তৈরি করেন। পীরতত্ত্ব খাড়া করেন। যদিও পীরতত্ত্ব নিয়ে অনেক নেতিবাচক সমালোচনা রয়েছে বাস্তবে। তারপরও এটা ঐ সময় মানুষকে ইসলামিক ধ্যান-ধারণার প্রতি আকৃষ্ট করে। কারন, এগুলো ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিপরীতে নতুন একটি অবস্থান তৈরি করেছিলো।
আর উগ্রপন্থা যে ক্ষতিকর সেটা আমরা বর্তমান সময়ে স্বচক্ষে দেখি। সেটা যে কোন ধরনের উগ্রপন্থা হতে পারে। ধর্মীয় হোক বা আদর্শিক বা অন্যান্য।
পৃথিবীতে কোন জিনিসই স্থায়ী নয়। সব কিছুই নশ্বর। আমরাও একদিন হারিয়ে যাবো। মহাশূন্যের অতল গহ্বরে। কাজেই, উগ্র হয়ে বদ-মেজাজ দেখিয়ে কি লাভ ভাই। মানুষ যদি মানুষ না বলে।
মানুষের আরেকটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো, সে যেমন সবাইকে ঠিক তেমনটাই মনে করে বা তেমনটা ভাবতে তার ভালোও লাগে বা এর বাইরে সে ভাবতে পারে না। আরে ভাই, আমরা তো সবাই সবার মত। আপনার সাথে সব বিষয়ে আমার মিলবে না। এটাই স্বাভাবিক। সামাজিক কারনে কতিপয় বিষয় আমরা বাধ্য হয়ে মেনে চলি বা সেটা প্রয়োজন বলে। এর বেশি কিছু নয়। এটার উর্দ্ধে উঠতে না পারলে মানুষ আপনাকে মানুষ না ভেবে অন্য কোন প্রাণী ভাবতে পারে।
সর্বাগ্রে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। ভালো-মন্দ মিলিয়েই জীবন।