মানুষের পারস্পরিক যে সম্পর্ক, এখানে বিশ্বাসের একটি যায়গা থাকে বলে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু,বিশ্বাসের সঠিক রুপটি কেউই বুঝতে পারে না। যার কারণে মানুষ ঘাতকের কবলে পড়ে। আসলে এখানে মূল কাহিনী হলো, বিশ্বাস কি জিনিস এবং কিভাবে বিশ্বাসের জন্ম হয়; এই প্রক্রিয়াটা আমরা জানি না। তাই আমরা বিশ্বাস করে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়। আসুন আমরা দেখি, বিশ্বাস কি, এর স্বরুপ এবং এর ক্ষতিকর দিক থেকে বেঁচে থাকার উপায়।
প্রথমত, কোন কিছুর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে তার বিপরীতে কোন কিছু দাড় করাতে হয়। আর আমি আমার চিন্তা-ধারার যায়গা থেকে বিশ্বাসকে ভয়ংকর এবং ক্ষতিকারক মনে করি। সেজন্য এর বিপরীতে আমি আস্থাকে দাড় করিয়েছি, যৌক্তিক ভিত্তির উপর। দুটোর সংজ্ঞা ও স্বরুপঃ
০১. বিশ্বাসের সংজ্ঞা ও স্বরুপঃ বিশ্বাস হলো, দেখা যাক আর না যাক, বাস্তবে ঘটুক বা না ঘটুক এককথায় বিশ্বাস জেনেও হতে পারে আবার না জেনেও হতে পারে। বিশ্বাস অদৃশ্য। আপনি কাউকে না জেনে যদি তার উপর ভরসা করেন, তাহলে সেটা বিশ্বাসের আওতায় পড়ে। বিশ্বাসটা সাধারণত না জেনে হয়। আর বেশিরভাগ বিশ্বাসের ফলটা হয় ঘাতকতার মধ্য দিয়ে। এজন্য বিশ্বাস ভয়ংকর এবং ক্ষতিকারক।
০২. আস্থার সংজ্ঞা ও স্বরুপঃ আস্থা হলো, প্রত্যেকটা বিষয়কে স্বচক্ষে দেখে, বাস্তবে প্রমান সাপেক্ষে, কর্ম বিশ্লেষন করেই আস্থা তৈরি হয়। আস্থা তৈরি হয় ধীরে ধীরে। এ কারণে আস্থা ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে আস্থাহীনতা দেখা দেয়। পক্ষান্তরে, বিশ্বাসের কোন গ্যারেন্টি না থাকা এবং সব বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে তা বিশ্বাস-ঘাতকতায় রুপান্তরিত হয়।
কাজেই, আসুন; আমরা বিচার-বিবেচনার মাধ্যমে সবকিছু দেখে মানুষের উপর আস্থা রাখতে শিখি। আশা করি কাজে লাগবে।