একজন শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। এই কথাটির মর্মার্থ অনেক গভীরে। আমরা সচারাচার বলি। কিন্তু এর ভিতরকার কথা বা কর্মকে উপলব্ধিতে আনতে পারি না। অনেকে আছে শিক্ষকতার মত একটি পবিত্র দায়িত্বকে নিজের প্যাশনের জায়গা থেকে ফ্যাশন মানে লুইচ্চামীর যায়গায় নিয়ে যায়। যারা ভালো, তারা ইহ-পারো সব যায়গায় ভালো। তারা নমস্যি।
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যারা এমন একটি মহান পেশাকে কলুষিত করে। একজন রক্ষক তখনই স্বার্থক যখন তার দায়িত্বের আওতাধীনস্থরা নিরাপধবোধ করে, তার সিকিউরিটির আওতায় থেকে।
কিন্তু আমাদের সমাজ এবং শিক্ষা ব্যবস্থা এমন একটি যায়গায় পড়ে রয়েছে, যেখান থেকে বাহির করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সমাজ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন এবং আধুনিক একটি সমাজ বিনির্মানের দিকে এগিয়ে যেতে পারছি না। কতিপয় বিষয় বা জিনিস টিপে ধরেছে আমাদের কন্ঠনালীকে, যাতে করে আমরা সংস্কার এবং নতুন, আধুনিক একটি সমাজ বিনির্মান করতে না পারি। একটু অগ্রসর হতে চাইলেই কি এক ধো তুলে গো ধরে সমাজপতিরা বসে পড়ে। আর উঠানো যায় না। তাদের আবার দলও ভারি হয়ে থাকে। অবশ্য তারা মানুষকে অন্ধকারে রেখে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করে। আর মানুষের বুঝতে না পারার কারণ 'অন্ধকার'।
এজন্য আলোর দরকার। আর সেটা হলো শিক্ষা এবং মানুষের উন্মুক্ত জ্ঞানের চিন্তা ও চর্চা। আর জ্ঞানার্জনের জন্য চাই বই এবং শিক্ষাগুরু অর্থাৎ শিক্ষক। আর এই শিক্ষাগুরুর হাত ধরেই শুরু হয় অন্ধকার থেকে আলোর পথে নামা। এখন প্রশ্ন হলো, একজন শিক্ষকের আদর্শ বা উদ্দেশ্য কি হওয়া দরকার?
প্রথমত, একজন শিক্ষকের প্রধান ব্রত হলো শিক্ষার্থীদের শেখানো। এ যায়গা থেকে বোঝা যায় শিক্ষকের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সুস্থ্য-স্বাভাবিক পাঠ দান।
দ্বিতীয়ত, এটাই হচ্ছে একজন শিক্ষকের প্রধান আদর্শ। সেটা হচ্ছে, নৈতিক অবস্থান এবং নৈতিক চরিত্র। একজন শিক্ষকের তার ছাত্রদের উপর ব্যাপক প্রভাব থাকে। অনেকটাই পরিবার এবং পরিবেশের মত। এখন এই শিক্ষকের যদি কোন নৈতিক ভিত্তি না থাকে তাহলে তো তার শিক্ষকতা করার কোন কোয়ালিফিকেশনই থাকলো না। ছাত্ররা পাঠ পাবে কিন্তু মানুষ হতে পারবে না। তার কাছ থেকে কি বা শেখার থাকলো। পাঠ দান তো অন্যভাবেও হতে পারে।
আর শিক্ষকের যদি চরিত্র ভালো না হয়, তাহলে তো সে একজন শিক্ষকের মর্যাদা না পেয়ে পাবে লুইচ্চা উপাধী। কারণ, শিক্ষক নামধারী এসকল লোক শিক্ষকতার মত একটি মহান পেশাকে কলুষিত করে। তাই তারা লুইচ্চা।
আমার চোখের সামনে অনেক কিছু হতে দেখেছি। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনি। এখন তো হরহামেশাই প্রতিবাদ করে রুখে দাড়ায়। কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই না। আবার এই ভণ্ডদের কিছু অনুচর থাকে। তারা সব সময় গুরুর কু-কীর্তিকথার প্রশংসায় পঞ্চমূখ। এদের জন্যই সমাজের এই কীটগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমাজের গায়ে এটে থাকতে সক্ষম হচ্ছে। এই অনুচররা আবার আনুগত্যশীল গাঁধার মত। নিজেদের চিন্তা করার ক্ষমতাকে ঘরের চালে গুজে রেখে দিছে। বাহির করার শক্তি আবার গুরুর মহান বাণীতে খেয়ে ফেলেছে।
দেশের আনাচে-কানাচে কতিপয় তথাকথিত শিক্ষক নামধারীদের আকাম-কুকামের কথা ছড়িয়ে রয়েছ। তারপরও সমাজের কাছে সত্য পরাহত। শিক্ষক বলে তাদের সব পাপ মাফ। অথচ সমাজের কথা বললেও সমাজপতিরা সমাজের কথা ভেবেও দেখে না যে, এটা দ্বারা তার এবং তার ভবিষৎ চৌদ্দগোষ্ঠির ক্ষতি করে রেখে যাচ্ছে।
পরিমল মাষ্টার, পান্না মাষ্টার থেকে শুরু করে আরো কত ভণ্ড যে সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তা বলার অপেক্ষা রাখে না! এখানে শুধু ছাত্রী নয়, কওমী মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসাসহ স্কুল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের যৌন নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হতে দেখা যায়। ছাত্রী ধর্ষন, নম্বর বেশি দেয়ার নাম করে ছাত্রীদেন সাথে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হওয়াসহ নানাবিধ আকাম-কুকামের রেকর্ড রয়েছে এসকল ভণ্ডদের আর্কাইভে।
মালালা ইউসুফ জাই। একজন নোবেল বিজয়ী শিশু অধিকার এবং নারী শিক্ষা অধিকার আন্দোলন কর্মী। তিনি বলেছেন, একজন শিক্ষক, একটি কলম আর একটি বই সমাজকে বদলে দিতে পারে।
এরকম হাজারো বর্ণনা আমরা শুনি। কিন্তু, কতটুকু আমরা পরিবর্তনের পথে; ভালোর পথে এগোতে পারলাম, সেটা ভাবার সময় এসেছে। পান্না আর পরিমলদের খুজে মানসিক চিকিৎসা এবং বয়কট করার সময় এসেছে। একবিংশ শতাব্দী অন্য সময় থেকে পুরোটাই ভিন্ন। এখন পৃথিবী দ্রুত বিবর্তনশীল, পরিবর্তনশীল হয়ে পড়েছে। নিজেকে, নিজের সমাজকে, পৃথিবীকে পিছিয়ে রাখার কোন মানেই হয় না। আর যদি কেউ এই অপচেষ্টা করেও থাকে, তাহলে সে হয় বোকা না হয় ভণ্ড।
সম্মানিত শিক্ষকগণই পারেন সমাজ, জাতি এবং পৃথিবীকে নতুন এবং সুন্দর রুপ দিতে। নমস্তে শিক্ষাগুরু।