ভাষার আসলে বাস্তবে কোন ধর্মীয় পরিচয় নেই। এটা আসলে মানুষ বিভাজনের রাজনীতি করতে গিয়ে স্বার্থের খাতিরে তৈরি করেছে। যেমন, আরবের খ্রিষ্টান বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা আরবি ভাষায় কথা বলে। তার মানে তো এটা নয় যে তারা আরবি ভাষায় কথা বলে তাই তারা মুসলমানের ভাষা ব্যবহার করছে। একটা সময় ছিলো মুসলমানদের নবী-রসূলগন হিব্রু ভাষায় কথা বলতেন। তার মানে কি হিব্রু মুসলমানের ভাষা? কখনো না! হিব্রু এখন ইহুদিরা নিজেদের ভাষা করে নিয়েছে। আসল কথা হলো, ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। এটা অঞ্চল বিশেষে পার্থক্য হয়। ধর্ম বিশেষে নয়। তবে হ্যা, এটা সত্য, যে একজন ধর্ম-প্রবর্তক, প্রচারক যে অঞ্চলে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি সে অঞ্চলের ভাষাকে ঐ ধর্মের ভাষা বলে চালিয়ে দেন। এবং ঐ ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেন। এর অবশ্য কারণ রয়েছে, আগের দিনে মানুষ নিজের ভাষার বাইরে অন্য ভাষা জানতেন না বললে অতুক্ত্যি হবে না। আর নিজের মাতৃভাষার প্রতি সব মানুষের মমত্ববোধ কাজ করে সব সময়। যারা আমিত্ববোধকে ছাড়তে পারে না তারা বাদে। তবে, আমি ভিনদেশী ভাষাকে অবজ্ঞা করছি না। বর্তমানে ভিনদেশী ভাষা শিখতে পারা মানে নিজের সামনে হাজারো জ্ঞানের দরজা খুলে যাওয়া। কিন্তু, নিজের মাতুভাষাকে অবশ্যই আগে গুরুত্ব দিয়ে শিখতে হবে।
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।