আধুনিক সভ্যতা যেটা দিতে পারেনি, উত্তোরাধুনিক সভ্যতা সেটা খুব সহজেই দিবে। এখনই তো মানুষ তার অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে না-ভাবতে শুরু করেছে। একটা সময় মানুষের জীবনে অপ্রয়োজনীয় বলে কিছু থাকবে না। মানুষ তখন শুধু প্রয়োজন নিয়ে ভাববে। তারপর, অটোমেটিক্যালি মানুষের প্রয়োজন, অ-প্রয়োজন নিয়ে ভাবা লাগবে না। অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক বিষয়গুলো আপন ইচ্ছায় ধ্বংস হয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে কিছুটা এ পথে মানুষ অগ্রসর হলেও, বেশিদূর আগাতে না পারলেও ভিত্তিটা মজবুত করে ফেলেছে। আর সেটা হলো তথ্য-প্রযুক্তি। তথ্য-প্রযুক্তি মানুষকে কতদূর এগিয়ে দিছে তা বোঝার জন্য নিজের হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটা রেখে একসপ্তাহ ঘুরে বেড়ান, বুঝতে পারবেন। ভার্চুয়ালি মানুষ খুব দ্রুত আপডেটেড হয়ে যাচ্ছে। আগের দিনের মত, মানুষ সামান্য তর্ক থেকে কুকুরে ন্যায় কামড়া-কামড়ি করতেছে না। যদিও অনেকে যুদ্ধ আর কুকুর কামড়া-কামড়িকে এক করে ফেলে। আজকে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে মানুষ নতুন নতুন জ্ঞানের জন্ম দিচ্ছে। তারা নতুনকে আকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরাও। তবে আমাদের সমস্যা হলো আমরা পুরাতনকে, অতীতকে ছাড়তে পারি না। আকড়ে বেঁচে থাকতে চায়। অনুভূতি এখনো আমাদের পীড়া দেয়। এ যায়গা থেকে যদি আমরা না বাহির হতে পারি তাহলে আমরা খুব দ্রুততার সাথে পিছিয়ে পড়তে থাকবো সমগ্র পৃথিবী থেকে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভেতরে অনেক দেশপ্রেমের পাশাপাশি দেশদ্রোহীতা কাজ করে। এখান থেকে বের হতে হবে। আধুনিক পৃথিবী যতদিন তার গ্লামার ধরে রাখতে পারবে ততদিন রাষ্ট্র-ব্যবস্থা টিকে থাকবে। এজন্য নিজের দেশকে সব কিছুর উর্দ্ধে রাখতে হবে। অবশ্য, প্রযুক্তি বিশ্বে দেশ বলে তেমন কিছু নেই। কারনটা হলো, সেখানে কিতাবী কারবার নাই। সেখানে যে কেউ চাইলেই পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই অন্যের দেশ বা বাড়ি গিয়ে ঘুরে আসতে পারে ভার্চুয়ালি।
সেখানে কেউ আপনাকে কোন কিছু দিয়ে আটকে দিবে না বা শারীরিক আঘাত করবে না। মানে আপনি তো সেখানে স্ব-শরীরে নাই।
আপনি আপনার মতামত সেখানে তুলে ধরতে পারেন খুব সহজে ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়ায়। তবে, এ যায়গায় কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা না করাই শ্রেয়। তবে চাইলে, ভণ্ডামী বা রুপকের যেকোন একটির আশ্রয় নিতে পারেন, ডিপ্লোমেসি হিসেবে। অনেকেই নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে করে থাকে। যদি তার মতামত সংখ্যাগুরু উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে হয়।
আজকের প্রযুক্তি বিশ্বে মানুষের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। সবার সাথে নিজের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়া যায়। যদিও আন্তরিকতা নামক জিনিসটা কিছুটা লোপ পেয়েছে। তারপরও, আপনি আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া এক-পা আগাতে পারবেন না।
অনেকে প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলো নিয়ে, প্রযুক্তিকে গালি দেয়। অথচ, দেখা যায় সে প্রযুক্তির ট্রাপে পড়ে আছে।
সময় এসেছে পরিবর্তনের। মনের সুখে নিজের স্বাধীনতা ভোগ করার। অন্যকে স্বাধীনতা দেয়ার। মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখার।
আজ থেকে ২৫০০ বছর আগে জ্ঞানের গুরু সক্রেটিসই প্রথম সমালোচনা করা, প্রশ্ন করা শিখিয়েছিলেন যুব সমাজকে। তার সে পথ ধরে আজকে আমরা এ আধুনিক সভ্যতার গোড়াপত্তন করতে সক্ষম হয়েছি। আরো এগিয়ে নিতে হবে পৃথিবীকে। সবাই সবার অবস্থান থেকে গুরু সক্রেটিসের দেয়া মহান থিওরিকে কাজে লাগিয়ে মানব জাতির কল্যানে আমরা কাজ করবো। মানব জাতিকে কল্যানের পথে এগিয়ে নেবো। এ হোক আমাদের অঙ্গিকার।
সমালোচনা এবং প্রশ্ন নতুন নতুন জ্ঞানের জন্ম দেয়। নতুন আবিষ্কারের সন্ধান দেয়। এক শ্রেণীর লোক আছে যারা নতুন জ্ঞানের পথকে রুদ্ধ করে দিতে চায়। তারা আবার এই নতুন জ্ঞান নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর নিজেদের অংশ করে নেয়, নিজেদের আবিষ্কার বা সে আবিষ্কারের পথ-প্রদর্শক বলে দাবি করে। মানুষের মিথ্যাচারও যে একটা শিল্প হতে পারে, এটা তাদের না দেখলে বোঝানো মুশকিল। আধুনিক ভণ্ডদের অবস্থা আরো বেগতিক। তারা নিজেদেরকে আধুনিক পুরাতনবাদী বলে দাবী করে থাকে। পুরাতন কিভাবে আধুনিক নতুন হয় তা আমার বুঝে আসে না!