সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রসঙ্গঃ স্বাধীনতা

১৯৪৭ সালের আগে যখন ভারতের রাজনীতিবিদগন ভারতের স্বাধীনতার কথা বলতেন তখন তাদের মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। এবং এর উপর ভিত্তি করেই ভারতের স্বাধীনতার প্রস্তাব পাশ হয়। পরে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান ভাগ হলেও নেতারা দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষনা করেন। এবং সংবিধানও প্রণয়ন করেন ধর্মনিরপেক্ষতার উপর। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে। কারণ, পাকিস্তান বাংলাদেশকে ধর্মের দোহায় দিয়ে চরম বাজেভাবে শোষন-শাসন করতে থাকে। কিন্তু, ধর্মনিরপেক্ষতার ধারক-বাহক নেতারা একবারও কি ভেবেছিলেন তারা এই স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে মৌলবাদের অভয়ারণ্য গড়ে রেখে যাচ্ছেন?
প্রত্যেকটা দেশই স্বাধীন হওয়ার কিছু দিন পর সংখ্যাগরিষ্ঠের দৌরত্বে আর ভোটের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার রুপ ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করে। বতর্মানে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ তার ধর্মনিরপেক্ষ রুপ হারিয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে।
অনেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে নাস্তিকতা মনে করে! আমি হাঁসবো না কাঁদবো, মাঝে মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। একটা সহজ বিষয়কে কেনো ত্যাঁনা পেঁচিয়ে, ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এত দুর্বোধ্য করে ফেলা হয়! সামান্য গোষ্ঠি স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে একটি সার্বিক স্বার্থকে কেনো বিসর্জন দিতে হবে? এটা তো কোন সুস্থ্য-স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতে পারে না!
সবাই যদি সবার মত করে একত্রে বসবাস করতে পারে কোন রকম বাঁধা-বিপত্তি ছাড়া।  এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে একটি জাতির জন্য। আর এটার জন্য চায় একটি ধর্মনিরপেক্ষ আইন ও একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।