প্রেম এবং যৌনতা একটি স্বাভাবিক বিষয়। মানুষ বিভিন্ন বাঁধা-নিষেধের বেড়াজালে এটাকে আবদ্ধ করে অস্বাভাবিক করে তুলেছে। প্রকৃতি মানুষকে যৌনতার জন্য উপযুক্ততা দান করে। তার জন্য মানুষ সঙ্গী খুজতে থাকে। শুধু মানুষ নয়, পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও একই অবস্থা বিদ্যমান।
যাহোক, সঙ্গী খোজার জন্য বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। মানুষ উন্নত প্রজাতির প্রাণী হওয়ার কারণে এবং চিন্তা করার শক্তি থাকার কারণে মানুষ একটু উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক। এই লেখার মাধ্যমে বর্তমান সময়ের যৌনতা নিয়ে আলোচনা করব। এজন্য অনেক অপ্রিয় সত্য বাহির হয়ে আসতে পারে। যারা অপ্রিয় সত্য সহ্য করতে পারবেন না তারা এখানেই ক্ষান্ত দেন এটা পড়ায়। এটি সরেজমিনে গবেষণা করে বর্তমান সমাজের হালহকিকতের উপর লেখা।
লেখাটা লিখেছি সম্পূর্ণ সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার জায়গা থেকে। সচেতনতা ও সঠিক যৌন শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্খায়। যারা ব্লগারদের লেখাকে চটি ভাবেন তাদেরকে বলব পুরোটা পড়ে বিচার করবেন এবং ভাববেন নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে যদি এরকমটা ঘটতো!
প্রথমে শুরু করি শৈশবের প্রেম এবং যৌনতা নিয়ে। আমি যেখানে যায় সেখান থেকে কিছু না কিছু শেখার এবং জানার চেষ্টা করি। যার সাথে মেলামেশা বা কথা বলি না কেন আমার প্রথম তার্গেট থাকে তার জীবনের গল্প শোনা। এখান থেকে একটা বড়ধরনের বাস্তবতা বা সত্য যেটাই বলেন না কেন খুজে পায়। সেটা তুলে ধরার একটা প্রয়াস পায়। এই লেখাটার পূর্ণতা দেয়ার জন্য নিজের জীবনের মহামূল্যবান অনেক কিছুই বিসর্জনও দিয়েছি। যাহোক, মূল কথায় আসি।
কৈশোর থেকে শৈশবে যখন মানুষ প্রথম প্রবেশ করে তখন তার ভিতর এক মহা-পরিবর্তন সূচিত হয়। এই সময় তার ভেতর যৌনতার সূচনা ঘটে। যৌনতার প্রাথমিক লেভেলে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। ঐ সময় যৌনতা নিয়ে তার মাথায় কাল্পনিক চিন্তা-ভাবনা গেড়ে বসে। পিতামাতার অসচেতনতা এবং সঠিক যৌনজ্ঞানের অভাবে সে খারাপ যৌন সঙ্গীর সঙ্গে মিশে যায়। উভয় সাধারনত বন্ধু বা দু'তিন বছরের সিনিয়রদের সাথে মিশে এলোমেলো অস্বাস্থ্যকর যৌনাচারের চর্চা করতে থাকে। এই বন্ধু বা অল্প সিনিয়রদের যৌনজ্ঞানও যে উচুমানের তা কিন্তু মোটেও নয়। তাদেরও কাল্পনিক কিছু চিন্তা-ভাবনার দ্বারা অনুপ্রাণিত যৌনাচার। একপর্যায়ে গল্প আর যৌন-রসিকতার মধ্য দিয়ে তারা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যৌনতা অনুভব করে। কিন্তু পাওয়া তো অত সহজ নয়। একদিকে, শৈশব, অপরিপক্ক শরীর, সামাজিক বেড়াজাল অন্যদিকে, অপরিপক্ক, কল্পনাশ্রিত যৌন শিক্ষা। সব মিলিয়ে নিজের ভেতর সে বিকৃত যৌনাচার এর প্রতি আসক্ত হতে থাকে। এতে করে সে পরিবারের ছোট শিশু মেয়ে যাদের এখনো শৈশব আসেনি তাদেরকে ব্যবহার করতে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। এমনকি বলৎকারের ঘটনা অহরহ ঘটে। এটা শিশু মনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেখা যায়, ধরতে পারলে বেশিরভাগ অভিভাবক অপরাধ বা খারাপ কাজ ভেবে দু'চারটা চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেয়। এটা তো প্রকৃতির নির্ধারিত বিষয়। এখানে সে বিকৃত ও কাল্পনিক যৌন শিক্ষার দ্বারা প্রভাবিত। অপরাধ বা খারাপ কাজ ভাবার কিছু নাই। তাকে সংশোধনের ব্যবস্থা করলে এটা সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব। শিশুদের যৌনশিক্ষা দেয়ার অনেক সিস্টেম রয়েছে। ইউটিউব এবং গুগল করলে আপনি খুব সহজে পেয়ে যাবেন। মূর্খ হয়ে বসে থাকার মানে হয় না!
এরপর একটু একটু করে বয়স বাড়তে থাকলে যৌনতাও বাড়তে থাকে। সে বিপরীত লিঙ্গকে সম্মোহিত করতে থাকে। সম্মোহিত করার উপায় হিসেবে প্রেম-ভালবাসা উপস্থাপন করে। প্রেম-ভালবাসা যৌনচারের প্রথম সোপান। অনেক পন্ডিত রয়েছে যারা প্রেম-ভালবাসার মধ্যে যৌনতার কিছু খুজে পায় না। আমার তো মনে হয় তাদের বোধের অভাব রয়েছে।
প্রেমের সংজ্ঞাঃ জৈবিক তাড়নাজাত কারণে পারষ্পারিক মিলিত হওয়ার আকাঙ্খা।
এখান থেকে বোঝা যায়, যৌনতার আকাঙ্খা নিয়েই প্রেমের উপস্থাপন। এখানে কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হলো সামাজিক বাধা-নিষেধের বেড়াজাল এবং যৌন শিক্ষার পরিবেশের অভাব। প্রেমে জড়ানোটা খারাপ কিছু না। সমস্যাটা হলো বিকৃত যৌনাচার এবং যৌন অপরাধ-বোধ। যৌন অপরাধ-বোধ পরবর্তী জীবনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে।
যাহোক, ধীরে ধীরে কৈশোরের মাঝ পথে এসে প্রথম প্রেম হয়। এর আগের গুলো উড়ো প্রেম বা একতরফা প্রেম হয়। এখন এই প্রথম প্রেম টিকে না। মানে স্যাকামাইসিনের শিকার হয়। উভয়ই কোন না কোনভাবে। এরপর শুরু হয় প্রতারণার ফাঁদপাতা। বিশেষ করে ছেলেরা যদি স্যাকা খায়, তাহলে তার ধান্দা থাকে এরপর যে প্রেমগুলো সে করবে সবগুলো মেয়ের সাথে খেলা করে ইনিংস শেষ। আর মেয়েরা খেলার শিকার হয়ে নিজেকে ইনজয়মেন্টের যায়গায় নিয়ে যায়। সেক্সে সমস্যা না সমস্যা হলো, অপরিকল্পিত এবং কাল্পনিক, ক্ষতিকর যৌনতায় গাঁ ভাসিয়ে দেয়া।
যৌনতা একটি স্বাভাবিক বিষয়। প্রাকৃতিক ব্যাপার। মানুষ চাইলেই থামাতে পারবে না। তবে, নিয়ন্ত্রিত যৌনাচার করা সম্ভব। তার জন্য চাই সঠিক যৌনশিক্ষা এবং পরিবেশ।
আমাদের সমাজব্যবস্থায় যৌনতার শুরুতে ভার্জিনিটির একটা প্রাধান্য বিরাজমান রয়েছে। এটা শুধুমাত্র মেয়েদের ক্ষেত্রে ভাবা হয়। কিন্তু, ছেলেদেরও ভার্জিনিটির বিষয় রয়েছে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীকে হেয় করার জন্য এহেন ন্যাক্কারজনক বিষয় জুড়ে দেয়া হয় নারীর মানসে। মানুষকে মানুষ ভাবতে হবে, অন্যকোন ট্যাগ দিয়ে ভাবা অ-মানুষের কু-লক্ষণ। যদিও উন্নত যৌন জীবনে ভার্জিনিটি বলতে কিছু নেই। তারপরও যেহেতু আমাদের সমাজব্যবস্থার মানসে এটা বিরাজমান সেহেতু উঠে আসলো বিষয়টা।
এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে আমাদের সমাজে যে, একটা ছেলে অনেকগুলো মেয়ের সাথে সেক্স করেছে এবং প্রত্যেকটা মেয়ের জীবনে প্রথম। তার মানে এই নয় যে, সে বীরের মত কাজ করেছে। আবার এমনও ঘটনা রয়েছে যে, জীবনে একটাও প্রেম করেনি। সেক্সতো দূরে থাক। বিয়ে করার পরে দেখে যে মেয়ে ভার্জিন নয়। তার মানে কি ছেলেটা কাপুরুষ বা বিয়ের আগে নপূংষক ছিল? মোটেও নয়! তাহলে, মেয়েটি কি খারাপ? মোটেও নয়! যৌবনের তাড়না এবং পাঁতা ফাদের কবলে পড়ে এগুলো ঘটে বা অন্যকোন কারণ থাকতে পারে। আর তারা এগুলো করেছে এ সমাজের একজন হিসেবে। দোষ যদি দিতে হয় আগে দিতে হবে সমাজ এবং সমাজপতিদের। এটা উপরওয়ালার দেওয়া শাস্তি নয়। আর যদি হয়ে থাকে তাহলে আমরা মজলুম!
জীবনে বহু প্রেমের গল্প শুনেছি। যেগুলো আসলে বাস্তব। বর্তমানে একটা ছেলে যদি প্রেম করে তাহলে তার ধান্দা থাকে সেক্স করার। আর থাকবে না কেন? প্রেম তো জৈবিক তাড়নার ফসল। আর যদি ছেলেটা সেক্স করতে পারে তাহলে সে বীরের মত গর্ব করে নিজেকে মহান মনে করতে থাকে।
প্রেম করার কয়েকদিন পর থেকে শুরু হয় সেক্সের জন্য চাপাচাপি। বিশেষ করে ছেলের দিক থেকে চাপটা যায় বলে প্রমাণিত। অনেক প্রেম আছে যা সেক্স করতে রাজি না হওয়ায় ভেঙ্গে যায়। আর যদি কোনভাবে রাজি হয়! ছেলে যেন আকাশ হাতে পায়। এতটা আনন্দ করতে দেখেছি অনেককে। এরপর যায়গা ম্যানেজ করে ম্যাচ শুরু হয়। যে কয়দিন এটা চলে সে কয়দিন ওটা মানে প্রেমও চলে। মানে যৌনতা শেষ, প্রেমও শেষ। প্রেমের মধ্যে ভালবাসা বলতে যা বোঝায় তা হলো সেক্স আর বাদবাকিটা আবেগ নির্ভর যৌনতা। কিছু ব্যতিক্রম আছে যা বিয়ের পূর্ববর্তী জীবনের যৌন-জীবনকে বিয়ে পরবর্তী করে। তবে, ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হয় না।
যৌবন থাকলে যৌনতা থাকবে আর যৌনতার কৌশল হিসেবে প্রেম জীবিত থাকবে।
হুদাই, সমাজের ভালো বললে হয় না, সমাজের মঙ্গল কামনা করলে হয় না, সমাজ পরিবর্তনের কথা ভাবলে হয় না। সমাজের ভেতরটা পরোখ করে দেখে পরিবর্তনের কথা ভাবতে হয়, বলতে হয়। সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হয়। মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। জানতে হবে মানুষকে। শুধু জানলে হবে না, বুঝতে হবে মানুষকে। তার জন্য চায় সময় আর মানুষের মঙ্গল-চিন্তা।
আর যদি স্বার্থ ও কূপমূণ্ডকতার উর্ধ্বে না উঠতে পারেন তাহলে বিষয়টা ভিন্ন বা আলাদা! আপনার দিয়ে সমাজের কিছু হবে না। বরঞ্চ, ক্ষতি হবে। কাজেই, বিরত থাকার চেষ্টা করুন।
চিন্তা-চেতনাগত পার্থক্যের কারণে মানুষে মানুষে বৈষম্য হয়। আবার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়।
অনেক পন্ডিত রয়েছে যারা নিজেদের আকাম-কুকাম ঢেকে রাখার জন্য মানুষকে বর্তমান থেকে দূরে রাখার জন্য বর্তমানের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ায়। যেমন, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যার হাতে মোবাইল বা স্মার্টফোন রয়েছে সে পর্নোগ্রাফি দেখেনি একথা চোখে আঙুল দিয়ে বললেও বিশ্বাস করা দূঃসাধ্য! এখন কথা হচ্ছে, পর্নোগ্রাফি দেখা কি খারাপ? হ্যাঁ ধরলাম, খারাপ। এটা তো সবাই জানে। এখন, একজন ব্যক্তি নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখে। দেখার পরও যদি বলে, পর্নোগ্রাফি দেখা গুনাহ। তাহলেতো সেটা ভন্ডামী।
এখানে খারাপ যেটা হয়, আসক্তি। যেকোন আসক্তিই খারাপ। সেটা পর্নোগ্রাফি হোক বা প্রেম বা যৌনতা। সবাই পর্নোগ্রাফি দেখে আবার সবাই বলে এটা খারাপ। আমি হাসবো না কাদবো মাঝে মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়।
প্রেমের ক্ষেত্রে একটা বিষয় দেখেছি, বড় ভাই অনেকগুলো প্রেম করে আর বোনের প্রেমিককে উত্তম-মধ্যম দিয়ে শাসিয়ে আসে প্রেম না করার জন্য। হুজুর পরিবারের মেয়েগুলোকে দেখেছি অবাধ গোপন যৌনতায় মেতে উঠতে। মেয়ে তো গেলো হুজুরগুলোও কম যায় না। আফসোস লাগে তখন, যখন দেখি পবিত্র ধর্মের কথা বলে হুজুরগুলো আকামে লিপ্ত হয়। স্বচক্ষে দেখে খুবই খারাপ লাগে। সত্য কথা টক লাগে তাই না। কিছু করার নেই। সত্য প্রকাশ পাবেই আজ হোক বা কাল। ভন্ডামী বেশিদিন টেকে না। সবাই জানে কমবেশি কে কি করে। শুধু ভয়ে বলতে পারে না। আপোষহীন লোক আসলে সব সত্য বের হবেই হবে। প্রেম করে বিয়ে করার প্রচলন অলরেডি মহামারির রুপ ধারণ করেছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক লক্ষণ। এবং হুজুর ফ্যামিলিগুলোতেও এটা মহামারির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। এটাতে আমি নেতিবাচকতার কিছু দেখি না। তবে, এটা ভাবতে ভালো লাগে যে প্রেম এবং যৌনতা তাদেরকে মৌলবাদীতার যায়গা থেকে অনেকটা নাড়াতে পেরেছে। যদিও এটা নিয়ে তারা ভন্ডামী করে। তারপরও, ইতিবাচকতার লক্ষণ।
বর্তমান সমাজকে যেভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়, সমাজটা ঠিক সেরকম ভালো নয়। এককথায় বলা যায়, মাঁকাল ফলের ন্যায় এ সমাজটা। বাহিরের চাকচিক্য দেখে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। ভেতরটা দেখুন। ভন্ডামীর শতরুপ দেখতে পাবেন। তখন হাহুতাশ করবেন। যদিও লাভ হবে না তখন কেঁদে। কাজেই, সন্তান, পরিবার, সমাজ সর্বোপরি নিজে সচেতন হতে হবে। নিজে ভালো না হলে আপনার চারিপাশটায় খারাপ হবে। বলা বাহুল্য! হেরে-মেরে গাজী হয়ে লাভ নাই। মানুষকে যে বোঁকা ভাবে সে বড় বোঁকা!
সারাজীবন পতিতালয় ঘুরে, এখানে-সেখানে আকাম কুকাম করে শেষ বয়সে এসে ধর্মমূখী হয় বেশিরভাগ বাঙালী। বলে বেড়ায় শেষ বয়সটা আল্লার রাস্তায় ব্যয় করি। মানে ভন্ডামীর চরম সীমা! মুরুব্বী হওয়া কেউ কিছু বলতে পারে না। কি দরকার শেষ বয়সে এত আদিখ্যেতা করার!
প্রেম এবং যৌনতা নিয়ে যারা বেশি কড়াকড়ি আরোপ করে এদের মধ্যে ধর্মীয় গোষ্ঠী বেশি সোচ্চার। যদিও তাদের ভেতরেই যৌন উন্মাদনা বেশি কাজ করে। তারপরও তারা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যৌনতার উপর কড়াকড়ি আরোপ করে। যাহোক, বংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায় মাদ্রাসা। এখানে ধর্ম সংক্রান্ত শিক্ষা দেয়া হয়। এখানে শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরাও এখন প্রেমের জোয়ারে ভাসে। একটা বিষয় খুবই অবাক লাগে! যে মাদ্রাসায় শেখানো হয় অবাধ এবং অবৈধ ভাবে মেলামেশা করা হারাম এবং গুনাহের কাজ। আর এখন শতকরা ৯০ ভাগ মাদ্রাসার ছাত্র কোন না কোনভাবে প্রেমে জড়িত। এমনকি, অবৈধ যৌনতায়ও তারা এগিয়ে চলেছে দূর্বার গতিতে। কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররাও যে প্রেম করে এবং মেয়ে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পারি জমায় তার প্রমানও পেয়েছি বহু আগে।
বাবা-মা প্রেম করে বিয়ে করেছে। অথচ নিজের ছেলে-মেয়ে প্রেম করলে মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলে এমন একটা ভাব। অনেক প্রেমিক যুগল বাবা-মা রয়েছে যারা সন্তান প্রেম করার কারণে সন্তানকে প্রহার পর্যন্ত করে। থামুন, প্রেমতো তার উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত। আপনি কেনো জোর করে তাকে বঞ্চিত করবেন?
এগুলো সমাজের অন্তর্নিহিত রুপ। বোঝার জন্য সমাজের ভেতরটাকে উপলব্ধি করতে হবে।
দেখা গেছে এমনও লোক আছে যারা প্রেমকে খারাপ বলে বা হেয় করে ভেতরে ভেতরে তারা এমন প্রেম করে যা জঘন্যতার পর্যায়ে চলে যায়। মানে নিজেকে সাধু-সন্ত প্রমাণ করতে চান তিনি। এককথায় মহা ভন্ডামী।
প্রেম এক মহান জিনিস। যা অপরিচিত দু'জন নারী পুরুষকে একত্রিত করার এক মহান মাধ্যম। এটাকে যদি কেউ অপবিত্র ঘোষনা করে তাহলে বুঝতে হবে, এর মধ্যে কোন কু-মতলব রয়েছে।
প্রেম কোন খারাপ বিষয় হতে পারে না। কেননা, মজ্জাগতভাবে এটা পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান। প্রেম যৌনতার প্রথম সোপান। এখানে খারাপ বলতে যেটা বোঝায় সেটা হলো ভন্ডামী, আসক্তি, প্রতারণা, অবাধ যৌনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা। এগুলো ঘটে সঠিক যৌন শিক্ষা এবং পরিবেশের অভাবে। কাজেই, মারাধরা বা চাপাচাপি না করে সুন্দর করে বুঝাতে হবে যে প্রেম করা এবং যৌনতা কোন খারাপ নয়। তবে, সেটা যেনো অন্যকোন রুপ ধারণ না করে। আরো বলতে হবে, প্রেম এবং যৌনতা যখন লাগাম ছাড়া হয়ে যায় তখন সেটা নিজের জীবনেরই ক্ষতি ডেকে আনে।
বাধা-নিষেধ আরোপ করে ভালো ফল পাওয়া যায় না। তাতে করে হিতে-বিপরীত হয়।
বর্তমান সময়ে সামিজক পরিবর্তনটা খুবই দ্রুততার সাথে ঘটছে। কাজেই, নিজেকে সমাজের হাল-হকিকত সম্পর্কে আপডেট না রাখলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে।
সন্তান আপনার, তাই বলে আপনি কিন্তু তার সৃষ্টিকর্তা নন। প্রকৃতি আপনাকে সন্তানের মালিকানা দেয়নি। আপনি তাকে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না। সে অধিকার কেউ আপনাকে দেয়নি। সে আপনার দায়িত্ব-কর্তব্যের আওতায়। দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েন না। সন্তানই একদিন আপনাকে কাটগড়ায় দাড় করাবে।
জ্ঞানী পিতামাতা সন্তানের সমস্যা খুজে সমাধান করে। আর মূর্খরা সমস্যা দেখলে, চড়-থাপ্পড় মেরে দায় সেরে ফেলে।
সমাজের ভেতরকার অনেক বাস্তব এবং সত্য গল্প রয়েছে। যেগুলো চাক্ষুষ। সময় এবং পরিবেশ তৈরি হলে তুলে ধরব। এখানে অনেক সত্যকে রুপকাশ্রিত গল্প আকারে তুলে ধরতে পারতাম। কিন্তু, বাস্তবতাকে অনুসরণ করে সেটা করলাম না।