০১. কাঁক এবং কোঁকিল দুটোই কালো পাখি। এখন আমরা যদি কাঁককে কোঁকিল ভাবি তাহলে নিশ্চয়ই সেটা অবাস্তব এবং মহাভুল। কাউয়া তো কাউয়াই। শত ভালোবাসা দিলেও তার মূখ দিয়ে বাঁজখাইনাদ ছাড়া কিছুই বাহির হবে না।
০২. শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার। এর সাথে কোন আপোষ চলবে না, চলতে পারে না। অনেকে শিক্ষা এবং জীবিকাকে একাকার করে ফেলে। এখানে শিক্ষা এক জিনিস আর জীবিকা অন্য জিনিস। চাকরির জন্য চাকরিদাতারা চায় দক্ষতা। আর শিক্ষা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চরিত্র গঠন করে, মানবিক হতে শেখায়।
০৩. সৌন্দয্য উপলব্ধির জন্য সৌন্দয্যবোধ থাকতে হয়। এটা কেউ দেয় না, নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। শিক্ষা এবং জ্ঞানের চর্চাই বোধ তৈরি করে।
০৪. ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকরা ভিন্ন ভিন্ন রুপে আগমন করলেও, বিশ্বাসঘাতকতার স্বরুপ এক ও অভিন্ন।
০৫. মানুষকে জানতে হলে মানুষকে ভালবাসতে হবে, মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে মন খুলে। তাহলে, মানুষ এবং বর্তমান সমাজের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। তবে একটা কথা, পাগলের সাথে কথা বললে কিন্তু পাগল সম্পর্কেই জানতে পারবেন।
০৬. আপনি যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন লোক হোন। তাহলে আপনি প্রত্যেক মানুষকে তার অবস্থান বিবেচনায় নিবেন। নিজের অবস্থান বিবেচনায় নেয়ার প্রশ্নই আসে না।
০৭. পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষই নিজের জীবনের অপ্রিয় সত্যগুলো শুনতে বিব্রতবোধ করে এবং শুনতে চায় না। এবং এগুলো গুম করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। বেশিরভাগ মানুষ একটা সময় গিয়ে এগুলো ভুলে যায়। কতিপয় লোক দীর্ঘদিন মনে রেখে একটা সময় নিজ স্বার্থে অপ্রিয় সত্যগুলো আবার টেনে আনে। যা আগের তুলনায় অনেক বিরক্তিকর এবং যন্ত্রনাদায়ক।
০৮. বিশ্ব-জগত এখন মাঁকাল ফলের জন্ম দিচ্ছে বেশি।
০৯. নিজেকে বোকা বানানো খুব সহজ। যেমনঃ কেউ যদি বলে আমি বুঝি। সে কিন্তু, ইতিমধ্যে বোকা প্রমাণিত। কারণ, বুঝলে সেটা বলা লাগে না।
১০. পরিবর্তনের কারণে বিশ্বাস ক্ষনস্থায়ী। পরিবর্তন মহা-সত্য, বিশ্বাস টলোমলো।
১১. আনুগত্যশীল নয় শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। কেননা, আনুগত্যশীলতা সৃজনশীলতাকে হত্যা করে। আনুগত্যশীলতা মানুষের চিন্তা করার শক্তি খেয়ে ফেলে। শ্রদ্ধাশীলতা মানুষকে মানবিক করে গড়ে তোলে।
১২. বুদ্ধি জিনিসটা প্রায়োগিক। নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবাটা বোকামী।
১৩. যারা নিজেদের ভিতকে শক্ত করতে চাও, তারা দু'হাত ভরে যৌক্তিক সমালোচনা আহবান করো।
১৪. সময়তো আর থেমে থাকে না। এজন্য, নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির বেড়াজালে সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা বোকামী। সময়পোযোগী হয়ে চলতে হয়। তানাহলে, দাড়িয়ে থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়।
১৫. পরিবর্তনের হাল ধরতে শিখতে হবে। তাহলে, উন্নতি। নাহলে, অবনতি।
১৬. কুনো ব্যাঙ হয়ে, নিজেকে হাতি ভাবাটা হাস্যকর, নিরেট বিনোদন!
১৭. সমাজে কিছু হাস্যকর লোক আছে। যারা কৌতুকাভিনেতা নয়। কিন্তু, তারা মানুষের বিনোদনের পাত্র। তারা অভিনয় নয়, তাদের কাজ দ্বারা মানুষকে হাসায়। একদম হুদাই!
১৮. গোড়ামী সম্পন্ন লোক, মানে যারা নির্দিষ্ট বিশ্বাসের বাইরে যেতে পারে না। এরা মানুষ, সমাজ এবং পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর। কারণ, পরিবর্তনকে তারা মানে না, অগ্রাহ্য করে। পুরাতন অকার্যকর প্রথা, বিশ্বাসকে আকড়ে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু, পৃথিবী তো সদা পরিবর্তনশীল। আজকের যে ন্যানো প্রযুক্তি তা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এক সচেতন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ত পরিবর্তনের ফসল। তারা আবার এ পরিবর্তনের ফল ভোগ করেও সদা পরিবর্তনের বিরোধীতা করে। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশই পারে মানুষকে সহনশীল করে গড়ে তুলতে।
১৯. মানুষকে তার ভালো কাজের জন্য অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে, উচিত। তাই বলে প্রশংসার নামে অতিবাচনিক কিছু করা অনুচিত, অন্যায়! কারণ, অতিশায়ন কখনো ভালো ফল দেয় না। ক্ষতি করে। হিতে-বিপরীত হয়।
২০. একজন মানুষ যদি কোন ভুল করে। তবে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। কারণটা খুজে বাহির করতে পারলে ভুল সংশোধন করা সহজ হয়। এটা খুব একটি সাধারণ বোধ। যা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। চিন্তা করলেই পাওয়া যায়। হেস একবার কতিপয় পিতামাতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাদের সন্তান ভুল করলে কি করবেন? জবাবে, শিক্ষিত, রুচিশীল উচ্চবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বলেন, সন্তানের ভুলের কারণটা খুজে বাহির করবেন এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাবা-মায়েরা বলেন, আচ্ছা করে চড়-থাপ্পর মেরে ছেড়ে দেবো।
২১. আমরা চাইলেই পৃথিবী থেকে খারাপকে উৎখাত বা নিশ্চিহ্ন করতে পারবো না। তবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। খারাপ না থাকলে ভালো কি জিনিস সে বোধই মানুষের তৈরি হতো না।
২২. গাঁধা বই বহন করে কিন্তু পড়তে পারে না বা জানেও না। বই তার কাছে নিরেট বোঝা স্বরুপ। বইয়ের জ্ঞান তার কাছে অপাংক্তেয়। তার ধান্দা থাকে বই বহন করলে মনিব কিছু খাবার দেবে।।
২৩. একজন মানুষ আপনার সাথে দূর্ব্যবহার করলো বলে আপনিও যদি তার সাথে অনুরুপ ব্যবহার করেন। তাহলে দু'জনই একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
২৪. মাঁকাল ফল তলায় পড়লে ফেঁটে যায় এবং তার ভেতরকার পঁচা দূর্গন্ধ বাহির হয়ে আসে। তখন তার বাহ্যিক সৌন্দয্য মূল্যহীন হয়ে পড়ে। যতদিন সে উপরে থাকে তার সৌন্দয্য প্রশংসা কুড়ায়। কিন্তু, সময় হলে তো আর সে গাছে থাকতে পারে না। তলায়ই পড়তে হয়।
২৫. নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন লোক খুজে পাওয়া মুশকিল। কারণ, সবাই কোনো না কোনো বিষয়কে আকড়ে বেঁচে থাকে। যখনই আপনি কোনো বিষয়কে স্বীকৃতি দিলেন তথ্য-যুক্তি-প্রমাণ ছাড়ায়, তখনই আপনার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রশ্নবিদ্ধ।