পৃথিবীতে সব কিছুই রাজীতির উপাদান। উপাদান ব্যবহারের জন্য দক্ষতা জরুরি। জ্ঞান রাজ্যে সাতার কাঁটলে স্বচক্ষে একটা একটা করে উপাদান দেখার সৌভাগ্য জোটে। শিক্ষা এবং জ্ঞানের চর্চাই পারে দক্ষ করতে। আপনার জানার পরিধি যত উন্নত হবে, আপনার চিন্তা শক্তি তত উন্নত হবে। আর উন্মুক্ত চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষকে জ্ঞানী এবং দক্ষ করে তোলে। বদ্ধমূল চিন্তা-ভাবনা মানুষকে পেছনে ঠেলে দেয়। আর উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনার মানুষ সময়কে অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। আপনি একটু খেয়াল করলে দেখতে পারবেন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর উন্নতি উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনার ফসল। তারা এগুলোকে উৎসাহিত করে। সারা বিশ্বের উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনাকারীদের নার্সিং করে। তাদের দেশে আমন্ত্রন জানায়। উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতা তারা স্বচক্ষে অবলোকন করেছে। যেসব দেশ চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তারা প্রতি পদে পদে ধরা খেয়েছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হোঁচোট খেয়ে পড়ে গিয়েছে। ইরানের চলচ্চিত্রকারেরা যখন অস্কার, কানের উৎসবে পুরস্কার জেতে তখন সৌদি আরবের সরকার সিনেমা হলের অনুমোদন নিয়ে ভাবতে ভাবতে একযুগ পার করে নিজেরাই হল নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে কেন তারা হল বানাচ্ছে? আল্লা তাদের কিছুটা হলেও বোধ শক্তি জাগ্রত করেছে যে, সময়ের দাবীকে কখনো অস্বীকার করা যায় না। যারা করেছে তারা প্রতিনিয়তই পিছিয়ে পড়েছে। এটা শেষমেষ তারা বুঝেছে। তবে উপলব্ধির পর্যায়ে পৌছতে পারেনি। ঐ পর্যন্ত যেতে হলে সাতঘাটের জল খাওয়া লাগবে তাদের। কারণ, এমনিতে তারা গোড়া তার উপর রাজতন্ত্র। মানে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। প্রত্যেকটা জিনিসেরই দুটো দিক রয়েছে। ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হয় না। যাহোক, ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ধর্মের দোহায় দিয়ে উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনাকে রুদ্ধ করে দেয়া হয়। যারা এটার পক্ষে কাজ করে তাদেরকে হত্যা বা শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। অথচ, তাদের এ বোধটুকু হয় না এসব মানুষই সভ্যতা গড়ার কারিগর। আজকে আধুনিক সভ্যতার যত কল্যাণকর জিনিস তারা ব্যবহার করছে এটা এ সকল লোকের আবিষ্কার। ক্ষমতার দন্দ্বে হোক আর ক্ষমতাকে পাঁক্কা করার জন্য বা ব্যক্তিক অবস্থানকে শক্ত করার জন্য মানুষ উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনার মানুষদের বিরোধীতা করে। কারণ, ভন্ড লোকের রহস্য এরা বা এদের চিন্তা-ভাবনা বা আবিষ্কার উন্মোচন করে দেয়। মানে একটা এন্টি-থট বা এন্টি-গুডওয়ার্ক। তাদের বিপক্ষে চলে যায়, তাদের ব্যক্তি স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় বলে তারা জাতির বৃহৎ স্বার্থের কথা ভূলে গিয়ে নিজের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অনুভূতির দোহায় দিয়ে মুক্ত-চিন্তা-ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। কিন্তু, তারা এটা ভূলে যায় যে, যদি পৃথিবীর সব গাছকে হত্যা করি তাহলে অক্সিজেনের অভাবে সে নিজেও মারা যাবে। এটা সত্য, মানুষ বদ্ধমূল চিন্তা-ভাবনার নিগড়ে আবদ্ধ হলে তার হিতাহিত জ্ঞান শূণ্যের কোটায় গিয়ে দাড়ায়। তাই এসব কথা তাদের কানের পাশ দিয়ে উড়ে চলে যায়। এখানে তারা সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে অত্যান্ত সুচারুরুপে মুক্ত-চিন্তা-ভাবনার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করে। মূলা ঝুলিয়ে ছাগলের নাঁচ দেখা।
হায়রে আমার সস্তা অনুভূতি! তুমি এতই অবুঝ। এটা জানি যে, অশিক্ষা-কুশিক্ষা মানুষকে কত নিচে নামাতে পারে। তবে স্বার্থের দন্দ্ব যে মানুষকে আগুন নিয়ে খেলতে নামায় তা যে না দেখেছে স্বচক্ষে বুঝবে না কখনো। আগুনই তাদের পুড়িয়ে মারে। শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের বোধ শক্তি জাগ্রত করা। এজন্যই মনে হয় ব্যক্তি স্বার্থবাদী লোকেরা সাধারণ মানুষকে অল্প শিক্ষিত মূর্খ বানিয়ে রাখতে চায়। অনেকে আবার রসালো আখাম্বা যুক্তি দিয়ে শিক্ষা-বিরোধী কথা বলে। তারা বলে মানুষ বেশি শিক্ষিত হলে নাস্তিক হয় যায়। তাদের কথা শুনে হাঁসবো না কাঁদবো নিজেই দ্বিধাদন্দ্বে পড়ে যায়। আল্লা কি এদের বোধ-বিবেক একেবারে উঠায় নিছে!
প্রত্যেকটা জিনিসের একটা নিজস্ব ভুল ব্যাখ্যা দাড় করিয়ে মূর্খ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে নিজের মতের পক্ষে অনুভূতি টেনে নিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার। এসব থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় শিক্ষা এবং জ্ঞানের চর্চা। শিক্ষিত মানুষ কখনো এসব ভন্ড লোকের কথা কাজকে সমর্থন করে না বা তারা এদের কথায় কর্ণপাত করে না।