সমাজে কিছু লোক আছে যারা বিচ্ছিন্নতার শিকার। তারা সমাজ এমনকি মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে না। এটা এক ধরণের মানসিক সমস্যা। এটার চিকিৎসাও আছে।
এটা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা বলে আমার মনে হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিক চাপ, সামাজিক অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট, সাংস্কৃতিক অবদমন মানুষকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেয়। আরও কারন থাকতে পারে। তবে এগুলো মোস্ট ওয়ান্টেড। আমি আসলে ব্যক্তিকে নয় সমস্যাকে শত্রু বলে মনে করি। সমস্যা না থাকলে লোকটা খারাপ হতো না। এখানে মানুষ মাধ্যম মাত্র। কেননা, সে এ সমাজের একজন। তার কৃতকর্ম এ সমাজ কতৃক প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত। অশিক্ষা-কুশিক্ষাও মানুষকে সমাজ বিমূখ করে তোলে। মানুষ মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে না। সঠিক এবং সময়োপযোগি শিক্ষা ও জ্ঞানের চর্চাই পারে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ঠেকাতে। অনেক সময় দেখা যায়, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে সমাজ বিরোধী করে তোলে এক শ্রেণীর লোক। উভয়জনই এখানে অসুস্থ মস্তিস্কের লোক। আগে আর পরে। এরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে কখনো মন থেকে মেনে নিতে পারে না। এগুলোকে তারা পাপবোধের জায়গা থেকে নিতে শিখে। বিধায় এগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এগুলোকে পৃথিবী থেকে নির্মূলের চিন্তা করে। কিন্তু, তারা কখনো নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারে না বা ভাবতে দেয়া হয় না সচেতন প্রক্রিয়ায়। তাদের মাথায় পাপবোধ নামক ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া হয় সচেতনভাবে। পাপবোধই তাদের মাথাকে কুরে কুরে খেয়ে শেষ করে দেয়। অবশেষে তারা নিজে এবং সবার মৃত্যুকে শেষ উচিত বলে মনে করে। এবং সুইসাইড ভেস্ট পরে নিজে মরে এবং আরো অনেককে মারে। পাপবোধ এবং লোভ-লালসা তাদেরকে মৃত্যুপুরির দিকে ঠেলে দেয়। যদি সবাই একটু সচেতন হয় বিশেষ করে পিতামাতা বা অভিভাবক শ্রেণীর লোকজন। তাহলে এরকম পরিস্থিতির সম্মূখিন কম হতে হতো। আর যদি সন্তানকে একটু অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখেন তাহলে তার সাথে রিএ্যাক্ট না করে একটু সচেতন প্রক্রিয়ায় তার সংশোধনের পথ বেছে নিন। কাউন্সেলিং করান। ভালো কোন মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।