সত্য বলা যেন মহাপাপ। পারিপার্শ্বিক অবস্থান এতটাই রুক্ষতায় ভরে উঠেছে যে সত্য বলা শুধু দুষ্কর হয়ে পড়েনি, অনেক সময় নিজের নিরাপত্তায় আঘাত হানছে।
সত্য কথার অবস্থা এখন আঙুর ফলের মত। সত্য কথার সাথে এঁটে উঠতে না পেরে শেষে আঙুর ফল টক। নিজেদের সত্যের ধারক-বাহক বলে পরিচয় দেয় অথচ সত্য কথার ধারে কাছেও পাওয়া যায় না। মিথ্যায় জীবন পরিপূর্ণ করে ফেলেছে। প্রতি পদক্ষেপে মিথ্যাচার দিয়ে ভরে ফেলেছে।
ভাবতে অবাক লাগে, মানুষ সামান্য স্বার্থের কারণে কতটা নিচে নামতে পারে। ভন্ডামীর আশ্রয় নিতে পারে। এরা সত্য-মিথ্যার এমন এক রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করে নিয়েছে যে, যখন যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ ব্যবহার করে।
আবার, মিথ্যাকে কিভাবে সত্যে পরিণত করতে হয় তারও সুত্র রয়েছে এদের কাছে। দোয়া পড়ে ফুঁ দিলে সব পাপ মুছে যায়। এজন্য পাপ করা এদের কাছে জায়েজ। তওবা করলে আল্লা মাফ করে দেবে। কি আজব দাবী!
আমরা যারা ব্লগে লেখালেখি করি তারা সাধারণত সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার জায়গা থেকে লিখি। হ্যা এটা ঠিক ধর্ম নিয়ে অনেকে লেখালেখিও করে। তবে সেটা উভয় দিক থেকে। কেউ ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করে। আবার কেউ ধর্মের বিধি-বিধানগুলো তুলে ধরে। যারা সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার যায়গা থেকে লেখে তারা বাস্তববাদী হয়ে যায়। তারা সমাজের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে, কোনটা উচিত কোনটা উচিত না সেটা বলে দেয় বলে যারা খারাপ মানুষ তারা সহ্য করতে পারে না। তারা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারে না। তাই তারা লেখালেখি বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়। হত্যা করে। নির্যাতন চালায়। আর ধর্মের সমালোচনার বিষয়টা থাকবে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যুগযুগ ধরে এটা বহমান। আর সবচাইতে বড় কথা, সমালোচনা পরিশুদ্ধিতার যায়গা তৈরি করে। সমালোচনা না থাকলে মানুষ ভালো-মন্দ বিচার করতে পারতো না। এটা নিয়ে হাহুতাশ করা মানে পাগলের প্রলাপ।
প্রত্যেক ব্লগ লেখকের একটা যৌক্তিক দৃষ্টিকোন তৈরি হয়। সেটা ধার্মিক হোক বা বিরোধী। কারণ, একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হলে রেফারেন্স এবং যুক্তি দিতে হয়। তানাহলে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। অনেক আবাল আছে যারা আসলে নির্বোধ। তারা যুক্তির 'য'ও বোঝে না। তারা এগুলোর বিরোধীতা করে নিজস্ব মন গড়া বক্তব্য উপস্থাপন করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যুক্তির বিপক্ষে এরা নিজেদর দাড় করাতে না পেরে যুক্তি হিসেবে গালি-গালাজ পেশ করে। মাঝে-মধ্যে এদের জন্য খুবই দুঃখবোধে ভুগতে হয় যে, আল্লার দুনিয়ায় এত জ্ঞান থাকতে এরা এত নির্বোধ হলো কিভাবে?