সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মধ্যবিত্তের কড়চা

মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষের জীবন যাত্রা এতটাই বিচিত্র যে বুঝে ওঠা মুশকিল। মধ্যবিত্ত পরিবারে সবচাইতে বেশি সমস্যা অভাববোধ কাজ করে সর্বময়। নাই নাই হাহাকার। এদের চিন্তা-চেতনাও স্থির নয়। দোদ্যূল্যমান। কখনো আম গাছ কখনো তাল গাছ। ভাগ্য এদের নিয়ে পরিহাসের খেলা খেলে। ধরি, একটি ছেলে ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতি করে। এখন রাজনীতিতে এমন অনেক উপাদান থাকে যা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ঢাল-তলোয়ার হিসেবে কাজ করে। রাজনীতিতে নেতা-নেত্রীর পাশাপাশি থাকাটা অপরিহার্য। তাদের আনুকূল্য লাভ বা সুদৃষ্টি লাভের জন্য কিছু উপাদানিক ব্যাপার থাকে। যেমন, একটি ক্যামেরা। ক্যামেরা থাকলে ছবি তুলতে সব নেতা-নেত্রীর কাজে লাগে ক্যামেরাম্যান বিশ্বস্ত কর্মীর। নেতা-নেত্রীর নৈকট্য লাভের সহজ একটি মাধ্যম ক্যামেরা। বাইক থাকলে তো কোন কথায় নেই। স্বল্প সময়ে ছাত্র রাজনীতে পিন্স হওয়া যায়। ত্যাগী হওয়ার দরকার পড়ে না। বাইকই হয়ে উঠে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। আর ক্যামেরা বা বাইক জিনিসটা সুক্ষ একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বা মেয়ের পক্ষে এটা কল্পনাতিত ব্যাপার। কারণ, পরিবারের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। সেখানে রাজনৈতিক বিলাসিতা পাপ।
এবার ধরুন, একটি ছেলে স্বপ্ন দেখে সে চলচ্চিত্রকার হবে। এখন সে যদি মধ্যবিত্ত হয় তাহলে তাকে ধর্মীয় পাপবোধের আখাম্বা যুক্তি দেখিয়ে গতানুগতিক পড়ালেখা করে উচ্চ-শিক্ষিত হয়ে চাকরগিরির পথ দেখানো হয়। বলে দিলেই হয় টাকা নেই। এক ত্যানা প্যাঁচানোর কি দরকার।
এবার ধরুন, একটি ছেলে উচ্চ-শিক্ষিত হয়ে ব্যবসা করবে। এটা মধ্যবিত্ত পরিবারে যেন কল্পনায় করা যায় না! উচ্চ-শিক্ষিত ছেলে ব্যবসা করবে! না না, এটা কেমন দেখায়! তার তো চাকরি করায় লাগবে। বেচারা কি আর করবে গতানুগতিক চাকরিই তার শেষ গন্তব্য। দেশ আর দশের কল্যাণের কথা তার মাথায় আসা মানেই অন্যায়। ওসব কি দরকার নিজেরটা নিজে দেখো। অন্যের চরকায় তেল দেয়ার কি দরকার। মধ্যবিত্তের পরিবেশ তাকে স্বার্থবাদী হতে শেখায়। অনুভূতিহীন ক্রিয়াকলাপে বাধ্য করে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের যেন স্বপ্ন দেখা প্রাকৃতিকভাবে নিষিদ্ধ।