সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মানুষকে অ-মানুষ ভাবতে শেখা ইতর বিশেষ লোকের কাজ

মানুষকে মানুষ ভাবতে শেখা মানুষকে মানবিক করে তোলে। আর মানুষকে অ-মানুষ ভাবতে শেখায় যে শিক্ষা সেটা আসলে বর্বরতার শিক্ষা এবং বর্বর মানুষ তৈরির শিক্ষা। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ হত্যার শিক্ষা দেয় সেটা বর্বরদের সৃষ্ট প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বর্বর শিক্ষা। মতের অমিল হতেই পারে। তাই বলে তাকে হত্যা করতে হবে! সামান্য মতের অমিল। এর বেশি তো কিছু না। তবে হ্যা, কিছু মানুষ আছে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের কুসংস্কার, অমানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। এটা একেবারে সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা থেকে তারা করে। আর যদি আপনার মনে হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের লোক হিসেবে এটা সে ভুল করছে। তাহলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তাকে বোঝান। আর যদি সে না বোঝে তাহলে তাকে আর বোঝানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এটা উভয়ের দিক থেকে। কারণ, ছাগলকে পিটিয়ে ঘাঁস খাওয়ানো যায় না। আর এটা করতে যাওয়া মানে নির্বোধের কাজ। উভয়ের ভুলও থাকতে পারে কোন না কোন ক্ষেত্রে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। ভুল মেনে নিতে পারে না যে সে একেবারে ইতর থেকে ইতরতর এবং গন্ড-মূর্খ।

সমাজে এ ধরণের নির্বোধের সংখ্যা প্রচুর। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এ ধরণের নির্বোধগুলো ট্রোল, স্যাটায়ারও বোঝে না। আখাম্বা খাড়া-চিন্তার ধারক-বাহক এরা। এদের দিয়ে সমাজের কোন উপকার তো হয় না, বরঞ্চ সমাজের বিশৃংখলা সৃষ্টির উস্তাদ এরা।

আমরা যারা ব্লগে লেখালেখি করি তারা কিন্তু যুক্তি-প্রমান সহকারে সব কিছু উপস্থাপন করি। কাজেই, এটার বিপক্ষে কোন কিছু দাড় করাতে হলে আপনাকে আরো বেশি শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে হবে। তানাহলে ধোপে টিকবে না। অযথা আস্ফালন করে লাভ নাই। বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই ভন্ডামীর ষোল-কলা বোঝেন।

মানুষকে মানুষ ভাবতে হবে আগে। ধর্ম দিয়ে বা অন্যকোন শ্রেণীকরণ করে মানুষকে বিভক্ত করার মানে এটা বন্যতা। বনের প্রাণীরা যেমন নিজ গোত্রের বাইরে গেলে তাকে উচ্চপদস্থ দ্বারা হত্যা বা হিংস্রতার শিকার হতে হয়। ঠিক তেমনি, মানুষের মধ্যে বিভক্তির জেরে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের দ্বারা সংখ্যালঘুরা হত্যা বা হিংস্রতার শিকার হয়। বনের প্রাণীর তো বোধ-বিবেক নেই। তাই তারা এমন করে। মানুষের তো বোধ-বিবেক সবই আছে। তাহলে সে কেনো এমন করে? আসল রহস্য হলো মানুষও প্রাথমিক অবস্থায় প্রাণী। এখান থেকে মানুষে রপান্তরিত হওয়ার জন্য তাকে উন্নতমানের আচার-আচরণ, নৈতিকতা-মূল্যবোধের চর্চা করতে হয়। যাদের নাই তাদের আর বন্য-প্রাণীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এভাবে বন্যতা দেখানোর মানে হলো নিজেকে অন্যের ব্যবহারের বস্ততে পরিণত করা। এই বাস্তব সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা যতদিন না হবে মানুষের ততদিন পৃথিবীতে অরাজকতা, হত্যা লেগেই থাকবে। এ জন্য প্রয়োজন ধর্ম-নিরপেক্ষ শিক্ষা-ব্যবস্থা। ধর্ম-নিরপেক্ষতা মানে কিন্তু ধর্মহীনতা নয়। সব ধর্মকে সম্মান করতে শেখায় ধর্ম-নিরপেক্ষতার প্রথম বাণী। অনেক মূর্খ আছে যারা ধর্ম-নিরপেক্ষতার অর্থ না জেনে-বুঝে বলে দেয় যে, ধর্ম-নিরপেক্ষতা মানে নাস্তিকতা বা ধর্মহীনতা। ভাইরে, এভাবে না জেনে-বুঝে মিথ্যাচার করার কি দরকার! সত্যকে চাপা দিয়ে কখনো মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। মিথ্যাচার বন্ধ করুন। মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখুন।