সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইসলামিক কায়দায় ভন্ডামী

যেসকল ভাই-বোনেরা যৌক্তিক সমালোচনা ও বাস্তবতাকে সহ্য করতে পারেন না তাদেরকে অনুরোধ করবো এটা পড়ার দরকার নেই। ইসলামিক কায়দায় ভন্ডামী বলার কারণ, ইসলাম ব্যবহার করে ভন্ডামী করে বলে।
নামাজ পড়ে না, রোজা রাখে না পুরোদস্তুর মুসলমান। ধর্মের হুকুম আহকাম মানে না, আবার রিলিজিয়াস অবস্থান ইসলাম। এটা ঠিক ভন্ডামী ছাড়া আর কিছু নয়। আবার এ ধরনের মুসলমান নিয়ে দাবি করা হয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এটাও ভন্ডামী ও স্বার্থবাদী চিন্তা-ভাবনা। এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, সাধারণ মানুষ ধর্ম পালন করে আনুষ্ঠানিকতার জায়গা থেকে। তাদের ধর্ম পালনের অবস্থান কখনো মৌলবাদী হয় না। তারা শুধু নিজেদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে চিন্তা করে। সামাজিক অবস্থান ঠিক রাখার স্বার্থে ধর্ম পালন করে। বুঝে হোক বা না। কারণ, একজন সাধারণ মানুষ ভয় করে যদি তার সমাজচ্যূত করা হয় তাহলে সে চলাফেরায় নানান সমস্যার সম্মূখিন হবে। আর মৌলবাদী গোষ্ঠি এটাকে খুব সুচারুভাবে ব্যবহার করে মানুষকে যন্ত্রে পরিণত করে। এটা খুবই জঘন্য কাজ। প্রত্যেক মানুষের সম্মানের সাথে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। 
কিছু মানুষ আছে ধর্মের দোহায় দিয়ে  নিজের স্বার্থ হাসিল করে। অন্যায় হলেও। যেমন, একজন মাদ্রাসার হুজুর। সে তার যৌন ক্ষুদা মেটাবার জন্য ছাত্রীদের ফুসলিয়ে ধর্ষন করে। ধরা খেলে বলে এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আসলে, ভাষা হারিয়ে যায়। যখন দেখি মক্তব পড়ুয়া ছোট শিশুকে কোন চোঁদনবাজ হুজুর ধর্ষন করে। কি বলব! ভাই। পত্র-পত্রিকায় যতটুকু আসে ততটুকুই তো আমরা জানতে পারি। আর বেশিরভাগ ঘটনা ধর্ম, সমাজ, ক্ষমতার দাপটে ঢাকা পড়ে যায়। অনেকে বলে, হুজুরে করলে দোষ! আচ্ছা ভাই, আপনারা বলেন, সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে তা কেমন দেখায় বা কাপড় ছেড়া থাকলে আপনি কি বলবেন ভালো কাপড়। তারা নিজেদেরকে ধোয়া তুলসি-পাতা দাবি করে। স্বচ্ছ সাদা কাপড় দাবি করে। আর দাগ লাগিয়ে ফেললে আমরা কি বলব কাপড়ে দাগ লাগেনি। আসলে আমার মাথায় আসে না এ সব চোঁদনবাজ হুজুর কোথা থেকে শিশু ধর্ষনের অনুপ্রেরণা পায়?
অনেকে আছে, হুজুরদের কুকর্মের কথা বললে তেড়ে আসে, মারতে উদ্ধত হয়।  এদের কাছে হুজুর যা করে তা সব ঠিক এবং ছোয়াবের কাজ।  এই সাধারণ বোধটুকু আসে না যে, তারা নবী-রসূল না। তারা আমার আপনার মত সাধারণ পাবলিক। শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে একটু। তাও পুঁজি হিসেবে। ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নয়। আসলে, এদের সমস্যাটা আমি বুঝি। এ জন্য আমি তাদের কাজকে সমর্থন না করলেও কিছু বলি না। কারণ, মূর্খতা, ভন্ডামী এবং গোড়ামী যখন মানুষকে গ্রাস করে তখন কোন কিছু বলে কাজ হয় না। মাঝে মাঝে মনে হয় আল্লা এদের চিন্তা করার শক্তি একেবারে উঠায় নিছে!
আর এক শ্রেণীর লোক আছে, হুজুরদের কুকর্মের কথা বললে তারা না ভেবে ডিরেক্ট নাস্তিক উপাধী দেয়। এটার দ্বারা সে যে হুজুরদের কুকর্মের প্রত্যক্ষ স্বীকৃতি দেয় এবং নতুন নতুন চোঁদনবাজ হাইব্রিড হুজুর তৈরির অনুপ্রেরণা যোগায়, তা বোঝার ক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না। কারণ, সাধারণ বোধ দিয়েও এটা বোঝা যায় যে, খারাপ কাজকে যতই সিস্টেম করে স্বীকৃতি দেয় না কেন কোন লাভ হয় না। বোধসম্পন্ন মানুষকে ভূগোল পড়ানো এত সহজ নয়। তাদের কাছে ভালোকে কখনো খারাপ বলে চালিয়ে দেয়া যায় না।
ধর্মের পোষাক পরলে তা একটু দেখে-শুনে-বুঝে ব্যবহার করতে হয়। যতই শরিয়ত মোতাবেক ভন্ডামী করেন না কেন লাভ হবে না। প্রকৃত ধার্মিক ভাইয়েরা আপনার ভন্ডামীকে ধরতে পারলে খবর আছে। আর আপনার বিশ্বাসে পরকালে অপেক্ষা করতেছে মারাত্বক শাস্তি। ভয় আর লোভ-লালসা খুব খারাপ।
আপনার ধর্মে লেখা আছে অবৈধ বা অবাধ বিচরণ হারাম, আর আপনি একাধিক মেয়ের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছেন। এটার মানে দাড়ায় আপনি একজন স্ববিরোধী লোক। সাবধান হয়ে যান। স্ববিরোধীতার ফল খুবই খারাপ হয়।
অনেকে আছে প্রেম করে বেড়ায় দিদারছে আর অন্যদেরকে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেম থেকে বিরত হওয়ার জন্য চাপাচাপি করে। ভাউ, ভেবে কাজ করুন। ইসলামিক কায়দায় ভন্ডামী ত্যাগ করে সঠিক পথে চলে আসুন।
আমি যখন মাদ্রাসায় পড়তাম তখন আমার অনেক বন্ধু ছিলো যারা বডিংয়ে থাকতো এবং মোবাইল ব্যবহার করতো। হঠাৎ করে একদিন বডিংয়ে তল্লাসি চালিয়ে সবার ফোন কেঁড়ে নিয়ে যায় হুজুর। অথচ এই হুজুর দুটো ফোন ব্যবহার করতো। আর একটা ডেস্কটপ ও একটা ল্যাপটপ ব্যবহার করতো। এখনো করে। ছাত্রদের মিথ্যা অপবাদ দেয়া হলো তারা পর্নোগ্রাফি (X) দেখে। আমি যতদূর জানতাম, হুজুরের ভয়ে সবাই গান পর্যন্ত রাখতো না SD কার্ডে। সেখানে X। এটা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। আর সবচাইতে বড় কথা, নিজে যে কাজটা করি সেটা নিয়ে যদি অন্যের উপর বাঁধা-নিষেধ আরোপ করি, আইন-কানুন তৈরি করি। কোন কাজে দিবে না। মানে আমি ফোন ব্যবহার করে যদি অন্যকে নিষেধ করি সেটাতো ভন্ডামীর শামিল। আর এই অযৌক্তিক নিষেধ সবসময় উপেক্ষিত হয়। যতই নিষেধ করেন না কেন, সবাই পালিয়ে ব্যবহার করবে। কথায় আছে, ভয়-ভীতি কেবল বাইরের শৃংখলা রক্ষার কাজটি করতে পারে। আর প্রত্যেকটা জিনিসের দুটো দিক রয়েছে-ভালো আর খারাপ। এ হিসাবে বোধ সম্পন্ন মানুষের কাজ হচ্ছে ভালো-মন্দ বিবেচনা করে ভালোটা গ্রহণ আর খারাপটা বর্জন করা। আধুনিক সভ্যতার যত আবিষ্কার তার মধ্যে মানুষের একটি নিত্য ব্যবহারের জিনিস হলো এই মোবাইল। এটার যেমন ভালো দিক রয়েছে ঠিক তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। এর ভালো দিকগুলো ধরিয়ে দিলে তো উন্নতি হয়। আর সামনে এমন সময় আসছে যখন পড়ালেখাও এর ভিতরে ঢুকে যাবে সর্বত্র। অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। কাজেই বিরোধীতা করে পিছিয়ে পড়া ছাড়া আর কোন কাজ হবে না।
এভাবে ভন্ডামী করে আধুনিক সভ্যতায় মানুষের অনুভূতিকে নিজের মত-পথে টানা যায় না। মূর্খ-অশিক্ষিত মধ্যযুগীয় বর্বর সমাজে এটা চলতো। এখন আর চলে না।
আরো কত যে ধর্মীয় ভন্ডামী রয়েছে বলে শেষ করা যাবে না। (ধর্ম আর ধর্মীয় ভন্ডামী কিন্তু এক নয়।)