অন্যান্য প্রাণীরা হিংস্র জন্তু দেখলে শুধু ভয় করে এবং প্রাণ হারানোর ভয়ে পালায়। আর মানুষ হিংস্র জন্তুকে শুধু ভয় করে না এর সাথে ঘৃনাও করে। কারণ, মানুষের বিবেক আছে এবং সে চিন্তা করতে পারে। এই চিন্তা করার ফলে মানুষ সব কিছুকে আয়াত্বাধীন করতে পারে। বদ্ধমূল চিন্তার দ্বারা মানুষ একে অন্যের কতৃত্বাধীন হয়ে পড়ে। আর উন্মুক্ত চিন্তার চর্চা মানুষকে স্বাধীন করে। উন্মুক্ত চিন্তার চর্চা মানুষের বিবেকবোধকে শানিত করে। আর বদ্ধমূল চিন্তা মানুষকে জন্তু-জানোয়ারে পরিণত করে। হিংস্রতা তাকে গ্রাস করে। সে স্বাধীন স্বত্তাকে হত্যা করতে উদ্ধত হয়। সাধারনত এটা প্রাচীন পদ্ধতিরই হয়। নতুনত্বকে সে মানসিকভাবে গ্রহন করতে পারে না। যদিও তার শারীরিক অবস্থান বর্তমানে। পুরাতন প্রথাকে আকড়ে বাঁচতে চায়। যখন সে এটাতে শান্তি পায় না তখন সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং নানান ধরনের খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। ব্যক্তিসত্বা হারিয়ে ফেলে। গৎবাধা চিরাচরিত গতানুগতিক পুরাতন বদ্ধমূল চিন্তা তাকে এমন এক জীবনের দিকে ধাবিত করে যেটা মারাত্বক ভয়ঙ্কর। শুধু নিজের জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে সবার উপর এর প্রভাব পড়ে। এটা সর্বজন স্বীকৃত যে, যখন কোন মানুষ অন্য মানুষকে হত্যা করে সে অপরাধী। এখন আপনার মত-পথের বিরোধী হওয়ার কারণে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কাউকে হত্যা করা বা হত্যাকে সমর্থন করলেন। তার মানে আপনি কিন্তু অপরাধী। সমর্থন করাটাও। আপনার সমস্যা হলে দেশে আইন-আদালত আছে, সেবা নিতে পারেন। তারা আপনার সেবাই নিয়োজিত আছে। আপনি নিজের হাতে আইন কেন তুলে নিবেন? এটাতো আরেক অপরাধ। আপনি ন্যায়বিচার পাবেন না বলে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দাড় করানো বাঁতুলতা ছাড়া কিছু নয়। আর আইনের ফাঁক-ফোকরের কথা বলার কোন মানেই হয় না। এটা আপনার মূর্খতাকেই প্রকাশ করে। একটা দেশের আইন তৈরি হয় সেদেশের সামগ্রিক অবস্থান বিবেচনায়। এখন আপনি যদি সামান্য মত প্রকাশের জন্য বা বিরুদ্ধ মত-পথের লোক হওয়ার কারণে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন সেটাতো মূর্খতার শামিল। আইন আপনাকে সে এখতিয়ার দেয়নি। দেশের নাগরিক হলে দেশের আইন মেনে চলা কর্তব্য-দায়িত্ব। একটি দেশ আর একটি মত বা পথের বিধান কখনো এক নয়। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একটি দেশে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোক বসবাস করে। সুতরাং দেশ সর্ব শ্রেণীর লোকের প্রতিনিধিত্ব করে। আর একটি মত বা পথ এক শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার সর্বজন স্বীকৃত। স্বাধীনতা আর স্বেচ্ছারিতাকে গুলিয়ে ফেললে মারাত্বক ভুল হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিতাবী আইন দিয়ে শৃংখলার প্রত্যাশা করা আর পাগলা গারদে বসবাস একই কথা। যে আইন আপনি চান সেটার যৌক্তিক এবং মানবিক ভিত্তি অবশ্যই থাকতে হবে। তানাহলে সেটা জনসমাজে গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। আইন তো মানুষেরই জন্য। আবার সময়কে কখনো উপেক্ষা করা যায় না। পরিবর্তনের সঙ্গে সব কিছু খাপ খাওয়াতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হয়। বদ্ধমূল চিন্তা আর এডজাস্ট প্রব্লেম একসুতায় গাঁথা। মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, প্রকৃতি পরিবর্তনশীল; মানুষের পছন্দ-অপছন্দ বদলায়, মানুষের মন বদলায়—এটিই মানুষের ধর্ম। এ জন্য নতুনকে, ব্যতিক্রমকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকতেই হবে। এগুলো উপেক্ষা করা আর মনুষ্য জন্তু-জানোয়ারে পরিণত হওয়া একই কথা!
দ্বিমত থাকতেই পারে—অবশ্যই দ্বিমতকে শ্রদ্ধা করি। আমি শুধু—আমার মতটুকুই প্রকাশ করি মাত্র। দ্বিমত হলে—সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিন।