সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভন্ডামীর সাতকাহন

আমি একজন বাস্তববাদী লোক হওয়ায় অনেকে আমাকে দেখতে পারে না বা আমাকে ধর্মহীন বা নাস্তিক বলে নিজেকে বীর আখ্যায়িত করতে চায়। কিন্তু ভাই আমি তো তোর মত কাপুরুষের ন্যায় পেছন দিক দিয়ে সমালোচনা করি না। সামনাসামনি আলোচনা করি। গীবত করি না।
আমি কখনো কারো অনুভূতিতে আঘাত করতে চায় না। তবুও কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে তবে তাকে আগেই বলে রাখি ভাই প্রশ্ন করার কি দরকার যদি আমার মত-পথ ভালো না লাগে আমার থেকে দূরে থাকুন। সেটা আপনার আমার সবার ভালো হবে। অযথা হুদাই ক্যাঁচাল বাধিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি নিষ্প্রয়োজন বোধ করি। আর যদি মানুষকে এবং মানুষের মত ও পথকে শ্রদ্ধা করার মত যোগ্যতা থেকে থাকে তাহলে যেকোন প্রশ্ন আপনি করতে পারেন। আমি আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোন থেকে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
আমি মানুষকে আমার মত বা পথে আকৃষ্ট করার জন্য নিকৃষ্ট কোন পন্থা অবলম্বন করি না। আমি কামনা করি সবাই সবার মত করে সুখি-সুন্দর হোক। কারণ, ‘পৃথিবীতে কেউ কারো মত নয়, সবাই যার যার মত।’
আর একজন মানুষ খারাপ বলে আমি কখনো তাকে ঘৃনা করি না। আমি তাকে নয়, তার কর্মকে ঘৃনা করি। কারণ, সে এ সমাজেরই একজন। সে যা কিছু অর্জন করেছে এ সমাজ থেকেই করেছে। কাজেই এ দায় আমার আপনার সবার। কেউ এ দায় এড়াতে পারে না। এজন্য অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে আমি সংশোধনে বিশ্বাসী। শারীরিক বা মানসিক শাস্তিতে বিশ্বাস করি না। কারণ, উন্নত মানব সভ্যতায় এগুলো যায় না। এগুলো প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বর্বর সভ্যতারই অংশবিশেষ।
এগুলো আমার পড়ালেখা, সুক্ষ-পর্যবেক্ষন ও অভিজ্ঞতার আলোকে একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও মতামত। ভালো লাগা না লাগা স্বাভাবিক। তবে, কারো যদি ভালো না লাগে আমার কিছু করার নাই। আর যদি কথাগুলো কারো অনুভূতিকে আঘাত করে থাকে তাহলে বলব, বাস্তবতা যদি আপনার অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে তাহলে যতদ্রুত সম্ভব একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
যাইহোক, যেটা নিয়ে বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হল, একটা সময় দেখতাম যে আলেম সমাজ মিলাদ-মাহফিলে টেলিভিশনের চৌদ্দ গোষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়তো। তারা বলতো, এটা নাকি দেশকে ও সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পরে দেখা গেলো তাদের বাড়ি টিভি-ডিশ ছাড়া সৌন্দয্যবর্ধণ হয়না। সমাজের ভয়ে হোক বা কাঁকতালিয়োভাবে হোক টিভি তাদের ঘরে ঢুকে পড়লো। তখন তারা এই টিভি টেলিভিশনের টকশো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলতে লাগলো। মানে তারা এখন এর ভিতরে ঢুকে গেলো পুরোপুরিভাবে। নায়ক-নায়িকা হয়ে উঠলো তাদের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যদিও তাদের (নায়ক বা নায়িকা) কিছু যায় আসে না। তবুও, নিজেদের বক্তব্যের মাঠ গরম রাখার স্বার্থে তারা এটা করতে লাগলো। জঘণ্য! জ্ঞানের সংকীর্ণতায় পরিপূর্ণ!
অনেক সময় এসব বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারা এতটায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন যে টেবিল-চেয়ার চাপড়াতে চাপড়াতে ভেঙ্গে ফেলেন। ধর্ম যেখানে শান্তির বার্তা বয়ে বেড়ায়। সেখানে এনারা জিহাদী ও অন্যান্য বক্তার নাম ধারণ করে স্টেজ ও ময়দানকে অশান্তিময় ও উত্তেজিত করে তোলেন। শেষপর্যন্ত, জিহাদ শব্দটিকে উগ্র ও সন্ত্রাসী শব্দে রুপান্তরিত করে ফেলেন।
ইদানিংকালে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আবার পূনরায় হুজুরদের টিভি নিয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা মনে পড়ে গেলো। সেগুলো হল, আমি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলাম একসময়। তো ঐ সময় নতুন মোবাইলের প্রচলন ঘটে এলাকায়। আস্তে আস্তে এটার বিস্তার ঘটতে থাকে। তখন তারা এটা নিয়েও সমালোচনা করতে করতে এর চৌদ্দ গোষ্ঠির মাথা মুন্ডু কতল করতে লাগলো। যাহোক কথা খুব বেশি লম্বা করতে চাই না।
মূলত, কিছু দিন আগে ফেসবুকে কয়েকটি রিকুয়েস্ট পায়! দেখে তো আমি পুরায় টাস্কি খেয়ে যায়। যেলোকগুলো একসময় ফেসবুক নিয়ে কঠোর সমালোচনা করত। ফেসবুক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যারা বলেছিল এসব কাফের, মুশরিক, শয়তানের ফাঁদ, ফেসবুকের কল্যানে দেশটা রসাতলে যাচ্ছে, যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের কিভাবে ফেসবুক আইডি হয়। প্রথমে ভাবলাম ফেক আইডি। তাও না! শুনে দেখি ঠিক আছে।
আর একটা কথা, এই সকল লোকের কাছে ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক। তারা ইন্টানেটের বহুমাত্রিক ব্যবহারিক কল্যানের কথা জানেই না। এটা আমি পরীক্ষা করে দেখেছি।
যদিও এখন অনেক উন্নতি হয়েছে দেশের মানুষের মন-মানসিকতার। তারপরও ঐসকল লোকের মধ্যে গোড়ামী রয়েছে অতি-মাত্রায়। তথাকথিত এসকল মূর্খ আলেম সমাজ দিয়ে সমাজের কতটুকু উন্নতি ঘটবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক চিন্তার বিষয়!
এটা থেকে একটা বিষয় উপলব্ধি করলাম, ভন্ড-মানুষ যুগযুগ ধরে নিজের ব্যক্তি অবস্থান ভালো রাখার স্বার্থে অন্যদেরকে কল্যাণকর জিনিস থেকে দূরে রাখতে চায়। যদিও এটা সম্ভব নয়। সেটা সভ্যতার বিবর্তনে হোক বা শোষিত-নিষ্পেষিত মানুষের সংগ্রামে হোক।
তারা একসময় এগুলোকে কাফির, মুশরিক, শয়তানের ফাঁদ বললেও এখন কিন্তু ঠিকই এগুলোর সুফল ভোগ করতেছে। কতিপয় মৌলানা সাহেবের উক্তি দিয়ে শেষ করি, তিনি যথাবিহিত আজ্ঞা প্রদর্শন পূর্বক বলিলেন, আমরা যা করি তোমরা তা করো না, আমরা যা বলি তোমরা তাই করো!