সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
সাতক্ষীরা জেলার উপজেলা গুলো হলো:
প্রশাসন ১৮৬১ সালে যশোর জেলার অধীনে সাতক্ষীরা মহকুমা গঠিত হয়। ১৮৮২ সালে সাতক্ষীরা মহকুমা খুলনা জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে সাতক্ষীরা জেলার মর্যাদা লাভ করে। পৌরসভা গঠন করা হয় ১৮৮৯ সালে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জেলা। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলা সর্ববৃহৎ (১৯৬৮.২৪ বর্গ কিমি) এবং সবচেয়ে ছোট উপজেলা দেবহাটা (১৭৬.৩৩ বর্গ কিমি)।
সাতক্ষীরা জেলার নামকরণের ইতিহাসঃ-
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত সুন্দরবন ঘেঁষা এক প্রাচীন জনপদ আজকের সাতক্ষীরা। এখানকার প্রাচীন ইতিহাস এক প্রকার অন্ধকারাচ্ছন্ন। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় থাকে না। পৃথিবীর সব দেশের মত বাংলা বা বঙ্গ ভুমিতেও বিভিন্ন সময়ে নানা জনপদ ও রাজ্য গড়ে উঠেছিলল। কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়ে সেগুলো আবার নতুন নামে আত্মপ্রকাশও করেছিল। এসবের কালিক ভৌগোলিক পরিচয় সাক্ষ্য প্রমান মিলিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে এখনও সাবস্ত্য করা যায়নি। তবু মোটামুটি একটা হিসেব ঐতিহাসিক ও পুরাতত্ত্ববিদরা দাড় করিয়েছেন।
অন্য মতে, বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী জমিদারী লাভের পূর্বে এখানে সাতঘর ব্রাহ্মন বাস করত, তিনি প্রতিবেশীদের ভালোবেসে এলাকার নাম দেন সাতঘরিয়া। পরে এটা থেকে সাতক্ষীরা হয়েছে।
আবার কারও মতে, বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী জমিদারী লাভের পর স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তার বসতবাড়ির পাশে পাঁচটি মন্দির নির্মান করে উদ্বোধনের দিন সাত রকমের ক্ষির পরিবেশন করেন যা লোক পরম্পরায় ঐ স্থানটি সাতক্ষিরা থেকে সাতক্ষীরা নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬২.৫৬%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৩৩%, শিল্প ১.৫১%, ব্যবসা ১৬.২৩%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.০৩%, নির্মাণ ১.০১%, ধর্মীয় সেবা ০.১৯%, চাকরি ৪.৮৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩৪% এবং অন্যান্য ৫.৯৪%।
সাতক্ষীরা প্রধানত চিংড়ির জন্য বিখ্যাত। এখানকার চিংড়ি পৃথিবীর অনেক জায়গায় রপ্তানি করা হয়ে থাকে। সাতক্ষীরার সন্দেশ অনেক নামকরা। এছারা সাতক্ষীরা আম এবং মাছের জন্য বিখ্যাত। সাতক্ষীরার মাছ ও আম বাংলাদেশের অনেক জেলায় পৌছে দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে জেলাটি অনেক অবদান রেখে চলেছে।
সাতক্ষীরার প্রধান আকর্ষনীয় স্থান হচ্ছে সুন্দরবন যা ইউনেস্কো কতৃক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। মান্দারবাড়ী সমুদ্র সৈকত (শ্যামনগর)। সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরে মান্দারবাড়িয়ায় বন আর তার সম্মুখে বঙ্গোপসাগরের তীর জুড়ে নয়নাভিরাম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত যেন প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে মান্দারবাড়িয়ার বন আর তার সম্মুখে বঙ্গোপসাগরের তীর জুড়ে নয়নাভিরাম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত যেন প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব আনুমানিক ৭৫ কিলোমিটার। এ জেলার এক তৃতীয়াংশ সুন্দরবন (১৪৪৫.১৮বর্গকিমি),যা জেলার মোট আয়তনের ৩৭.৫৩%। এছাড়া জমিদার বাড়ী ও যশোরেশ্বরী মন্দির (শ্যামনগর), নলতা রওজা শরীফ (কালিগঞ্জ), নীলকুঠি (বর্তমান দেবহাটা থানা), মাইচম্পার দরগা, লাপসা (সাতক্ষীরা), বৌদ্ধ মঠ (কলারোয়া), তেঁতুলিয়া মসজিদ (তালা), বর্তমানে মজাফফর গার্ডেন নামে একটি পার্ক বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বনলতা হাউজিং প্রকল্প, বনলতা বাগান এবং নতুন ও মিনি পিকনিকের স্পট-সাত্তার মোড়লের বাড়ী (বন্দকাটি, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা)। দেশের অনেক লোক প্রতিদিন এসব জায়গায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভিড় জমায়।
হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ; সমাজ সেবক, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক। মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ; বিশিষ্ট সাহিত্যিক। সিকান্দার আবু জাফর ; বিশিষ্ট সাহিত্যিক। জাতীয় অধ্যাপক ডা: এম আর খান ; বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। অধ্যাপক ডা: এ এফ এম রুহুল হক ; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অর্থোপেডিক ও মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। এ্যাডভোকেট এম মনসুর আলী ; সাবেক মন্ত্রী, সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ। সৈয়দ দিদার বখত ; সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক। আনিস সিদ্দিকী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক (একুশে পদকপ্রাপ্ত) সৈয়দ জাহাঙ্গীর ; বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী (একুশে পদকপ্রাপ্ত)। জনাব তোয়াব খান ; সাংবাদিক। জনাব আবেদ খান ; সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব। মোঃ সোহরাউদ্দীন (পিএইচডি) ; বিশিষ্ট ব্যাংকার। কাজী আব্দুল মজিদ ; বিশিষ্ট ব্যাংকার। মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ; সাবেক চেয়ারম্যান- জাতীয় রাজস্ব রোর্ড, বিশিষ্ট ব্যাংকার। রানী সরকার ; বিশিষ্ট চলচিত্র অভিনেত্রী। সাবিনা ইয়াসমিন ; প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী। নীলুফার ইয়াসমিন ; বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী। খায়রুল বাশার ; পরিচালক ও অভিনেতা। তারিক আনাম খান ; নাট্যশিল্পী। আফজাল হোসেন ; নাট্যশিল্পী। ফাল্গুণী হামিদ ; নাট্যশিল্পী। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ; আবৃত্তিকার।
প্রধান নদী: যমুনা, কালিন্দী, অর্পণগাছিয়া, মালঞ্চ, কপোতাক্ষ, রায়মঙ্গল, বেত্রবতী (বেতনা), হাড়িয়াভাঙ্গা, ইছামতি। গোপালপুর দিঘি, গোবিন্দপুর দিঘি, ফুলসা দিঘি ও সাগরশাহ দিঘি উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৫.৫২%; পুরুষ ৫১.৮৪%, মহিলা ৩৮.৯১%। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশন ১, কলেজ ৪০, প্রাইমারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৪৩, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩১১, মাদ্রাসা ১৬৮। উলেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: খান বাহাদুর আহসানউলাহ কলেজ (১৯৯৫), সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, বাবুলিয়া জয়মনি শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন (১৮৮৩), খালিশখালী মাগুরা এসসি কলেজিয়েট ইনস্টিটিউশন (১৮৯৯), ধানদিয়া ইনস্টিটিউশন (১৯১৫), দেবহাটা বিবিএমপি ইনস্টিটিউশন (১৯১৯), সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশন, প্রাণনাথ হাইস্কুল (১৮৬২), তালাবিদে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৮), নকীপুর হরিচরণ উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৯), কুমিরা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় (১৯১৪), বুধহাটা বিবিএম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১৫), টাউন শ্রীপুর শরৎচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় (১৯১৬), নলতা হাইস্কুল (১৯১৭), কালীগঞ্জ হাইস্কুল (১৯৩৬), পারুলিয়া এসএস হাইস্কুল (১৯৭৬), শ্রীউলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৮৮১), আশাশুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১১), বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৭), খালিশখালী শৈব বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৮), ইসলামকাটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৯), সাতক্ষীরা পিএনপি কলেজিয়েট স্কুল (১৮৪৬), সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়, নবারুন হাইস্কুল, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়।
সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম পত্র-পত্রিকা গুলো হলো: