সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যুগের সিনেমা-৩

বিভিন্ সময়ে, বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলেছি।
আমার একটি আলাদা বিশেষত্ব হল, যখন কোন মানুষের পাশে যাই তখন তার সম্পর্কে এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তার জ্ঞান ও অভিমত জানার চেষ্টা করি (যেই হোক, যাই হোক)।
নিজের জানা বিষয়গুলো তাদের সাথে শেয়ার করি।

এটি নিজের সম্পর্কেও তাদের কাছ থেকে মোটামুটি একটি স্বচ্ছ ধারণা পেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

যাইহোক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমি সিনেমা এবং পড়ালেখা নিয়েই আলাপ-আলোচনা করি।

তো একদিন, এলাকার এক মুরুব্বির সঙ্গে কথা বলছি।
শিক্ষিত এবং ধার্মিক।
কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি জানতে চাইলেন, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

চিরাচরিত স্টাইলে বললাম।
দেখুন, ছোটবেলা থেকেই যেকোন কারনে পড়ালেখা এবং সিনেমার প্রতি আমার একরকম ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায়।
সেখান থেকে যাই করি পড়ালেখার বাইরে নয়।
আর সিনেমা কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনার বন্যায় আমার মাথা প্লাবিত হয়।

তখন তিনি বললেন, তার মানে তুমি সিনেমার নায়ক হতে চাও!
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সিনেমা মানেই কি নায়ক-নায়িকাতে শেষ?
বললেন, তাইলে কি?
উল্টো প্রশ্ন শুনে, আমি থেমে গিয়ে তাকে সিনেমা সম্পর্কে একটু ধারনা দেয়ার চেষ্টা করলাম।
একটু ধারনা পাওয়ার পর বললেন, বাবা আমি যতটুকু জানি সেখানে ভালো বলে যা আছে তা খুবই কম।
আর যারা ভালো করতে চাই তাদের নাকি সেখানে ঠাই হয় না?
বললাম, দেখুন, আপনার পক্ষে সিনেমা বন্ধ করা সম্ভব না।
এটা বাস্তব।
কিছু বাস্তবতা আপনাকে মেনে নিতেই হবে।
না মানলে এ সমাজ ও সভ্যতা আপনাকে গ্রহন করতে চাবে না।
তো প্রত্যেকটা জিনিসের ক্ষেত্রে এটা হবে।
আর সিনেমা একটি মাধ্যম মাত্র।
এটাকে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাই বড় কথা।
তাছাড়া, সিনেমা একটি যৌগিক মাধ্যম।
একারনে, এটাকে একক ভাবে খারাপ বলার কোন সুযোগ নাই মোটেই।

বেশির ভাগ জিনিস, কল্যানের জন্যই আবিষ্কৃত হয়।
কিন্তু, তার অপব্যবহারের ফলে অকল্যানের যাত্রা শুরু হয়।

এরপর তিনি বললেন, আমার মনে হয় এটা মুসলমানদের জন্য না।
আমার একটু হাসি লাগল।
তারপরও তাকে বুঝিয়ে বললাম।

চাচা, আসলে এটার যাত্রা শুরু হয় আরবীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের হাতে।
প্রথমে আবু আলী আল হাসান’ নামক আরবীয় মুসলিম বিজ্ঞানী এক মহা সুত্র প্রদান করেন।
যার উপর নির্ভর করে আজকের ভিজুয়াল সভ্যতা গড়ে উঠেছে।

সুত্রটা হল “পারসিস্টেন্স অব ভিশন’বা’দৃষ্টির স্থায়িত্ব তত্ত্ব”।

এভাবে যখন বলতে শুরু করলাম তখন বললেন বাবা বুঝতে পেরেছি।
আর বলা লাগবে না।
এরপর, তিনি আমাকে উৎসাহিত করলেন।
আর বললেন, বাবা জীবনে অনেক বড় হতে পারবা।
সেই দোয়া করি।
চেষ্টা কর।

অবশেষে, ধন্যবাদ জানিয়ে চলে আসলাম।