প্রথমে শুরু করি জ্ঞান জগতের গুরু এরিস্টটলের একটি কথা দিয়ে। তিনি এখান থেকে ২৫০০০ বছর আগে বলে গেছেন, "মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই রাজনৈতিক প্রাণী"।
যাহোক, এটা পড়ার পর কথাটার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি মানুষের উপর কিছু পরিক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। সে পরিক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যে বিষয়গুলো আমি পেয়েছি সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করব। তবে যারা এটার মধ্যে মতের মিল পাবেন না। তাদের বলব এটা পরিক্ষা-নিরীক্ষার ফল। দরকার হলে আপনি সরেজমিনে চাষ করে দেখতে পারেন। এটার সাথে চিন্তার মিশ্রন ঘটাতে পারলে নিশ্চিত আপনি গোড়ামী না করলে বুঝতে পারবেন।
প্রথমে ঘরের ভেতর দিয়ে শুরু করি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে রাজনীতি হয় এটার স্বরুপটা চরম! একই সাথে মজাদারও বটে!
নারীরা একটু কতৃত্বপরায়ণ হয়। এটা স্বাভাবিক নিয়ম। আর পুরুষের বড় শত্রু হল নারীর এই কতৃত্বপরায়ণ মনোভাব। পুরুষ চিন্তা করে নারী যাতে তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। যদিও এটা ভুল ধারণা। কেননা, পাশাপাশি থাকলে প্রভাব এড়ানো যায়না। উচিত হলো, দুজনের মধ্যে ভালো উপলব্ধি গড়ে তোলা। একে-অন্যকে বুঝার চেষ্টা করা।
আর নারীরা সাধারনত পুরুষের কাজ নয়, কথাকে বেশি চিন্তায় নেয়। পুরুষ যদি কোনভাবেই একটু নারীর কথার বিরোধীতা করে রেহায় নেই। ছেড়ে দে মা কেদে বাঁচি। কতৃত্ব ফলাতে গিয়ে নারীরা বেশিরভাগ সময় একগুয়ে হয়ে গোড়ামী শুরু করে। এটা ঠিক নয়। সবকিছু বোঝা নয়, বুঝতে হবে।
তার আগে একটু জানিয়ে রাখি। আমি কোন বাদ বা ইজম দ্বারা প্রভাবিত নয়। আমি মিলেমিশে থাকায় বিশ্বাসী। কারণ, আমি একজন সামাজিক জীব। যেখানে নারী-পুরুষের কম্বিনেশন ছাড়া কোন প্রাণীর অস্তিত্বই নেই, সেখানে নারীবাদ-পুরুষবাদ একটি ভ্রান্তধারণার বহিঃপ্রকাশ বৈ আর কিছু নয়। যার যতটুকু প্রাপ্য, তার ততটুকু দিতে হবে। কমবেশি করা যাবে না, সমস্যার সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আরো অনেক ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বহু রাজনীতি হয়। যা খালি চোখে বুঝা যায় না। চোখ-কান, মন-মস্তিষ্ক খোলা রাখার পাশাপাশি কান্ডজ্ঞানের চশমা পরতে হয়।
শিশুকালে যখন মানুষ নিষ্পাপ থাকে তখন থেকেই সে রাজনীতির শিকার হয়। বাবা-মা অথবা অন্য কারো দ্বারা। একটি নিষ্পাপ প্রান রাজনীতির উলোখাগড়া। বাবা-মা যখন নিজের কতৃত্ব ফলাতে গিয়ে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়। তখন শিশুটি উলোখাগড়া বনে যায়। কতৃত্বপরায়ণ মানসিকতা ভোগবাদের দিকে ঠেলে দেয়।
যেসব পরিবারে বাবা-মায়ের মধ্যে সমস্যা থাকে তারা সন্তান নিয়ে টানা -হেচড়া করতে থাকে। এটার দ্বারা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। যখন মানুষের মধ্যে ভোগবাদী চিন্তাভাবনা কাজ করে তখন মানুষ হেদায়েত-জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আপনি সামাজিক জীবনে প্রবেশ করার পর আপনাকে ভোগবাদী চিন্তাভাবনা পরিহার করে ত্যাগী মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পরিবার হলো ত্যাগের যায়গা। এখান থেকে প্রাপ্তির আশা করা ভূল। যদিও আপনি যা পাবেন এখান থেকেই পাবেন।
আমি দেখেছি যে, অনেক মানুষ আছে যারা ছোটদের দিয়ে বিভিন্নভাবে পামপট্টি দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়। লোভ দেখায়। এটি একটি চরম বাজে কাজ। কেননা, ঐ শিশুটির স্বাভাবিক বিকাশের পথে এটি বাঁধার সৃষ্টি করে। এটাও একধরনের রাজনীতি। এটাকে ব্যক্তি স্বার্থে কু-রাজনীতি বলে।
সারাবিশ্ব যেখানে এগিয়ে চলেছে বিরামহীন গতিতে। আমরা সেখানে অশিক্ষা-কুশিক্ষা নিয়ে 'দাড়িয়ে থেকেও পিছিয়ে যাচ্ছি'। তার উপর আবার রয়েছে নানান ধরনের গোড়ামী। যেখানে রয়েছে গোড়ামী, সেখানে নেই কোন উন্নতি। হবে শুধু অবনতি।
শিশুরা হল ভালবাসা ও সহানুভূতির পাত্র। একটি শিশু নরম-কোমল কাদার মত। সে যেমন পরিবেশ পাবে, যেভাবে তাকে গড়ে তোলা হবে, ঠিক তেমনই হবে। এটাই স্বাভাবিক, প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু, আমরা নিজেদের কৃতকর্মের দায়ভার সন্তানের উপর চাপিয়ে দেই। মস্ত ভুল এটি।
আমি আরো দেখেছি যে, মানুষ সন্তান কেন্দ্রিক চিন্তা না করে, সম্পদ কেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা করে।
আমার জীবনে যতগুলো জানাজায় গিয়েছি সবগুলো জানাজায় একই কথা বারবার বলতে শুনেছি, মানুষ যখন মারা যায় তখন তার জন্য পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটা পথ বাদে। এই তিনটার প্রথমটা হল সুসন্তান। এ হিসাবে আমি মনে করি সম্পদ গড়ার চেয়ে সুসন্তান গড়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সবচাইতে বড় রাজনীতি হয় মহিলাদের মধ্যে। একজন আরেকজনকে হেয় করার জন্য সদা প্রস্তুত। দরকার হলে নিজ নিজ স্বামীর সম্পর্কে খারাপ কথা বলতেও কসুর করে না। অনেককে এও বলতে শুনেছি, আগে জানলে আমার বাপ! 'আমাকে ওর হাতে তুলে দিত না।' চরম মিথ্যা কথা। কেননা, প্রত্যেক বাবা-মা জানে ছেলে-মেয়ে বিয়ে দেয়ার ঝক্কি-ঝামেলা কত! সংসার জীবনে ঝামেলা হতেই পারে। তাই বলে একেবারে দোষ ঝেড়ে দেওয়াটা বোকামী। পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাটাই সিস্টেম। এর ব্যতিক্রম করলে সুখ কি জিনিস জীবনেও দেখা মিলবে না।
মহিলারা সাধারনত নিজ ক্ষুদ্র স্বার্থে যা তা করতে পারে। বাস্তব!
ধর্মীয় বিষয়টা সেনসিটিভ হওয়ায় এবং এ বিষয়ে জ্ঞান কম থাকায় এটা আলোচনার না করি!
খাবার রাজনীতি একটি মজাদার ও লজ্জাদায়ক ব্যাপার। এই খাবার জন্যই তো সব কিছু। খাবার প্রয়োজনীয়তা না থাকলে সভ্যতা সৃষ্টি হত কিনা সন্দেহ আছে।
খাবার নিয়ে জাত মারামারি কম হয় না। সামান্য খাওয়া নিয়ে কত বাজে কার্যকলাপই না ঘটে! বলতেও লজ্জা লাগে!
শেখ সাদীর খাওয়ার গল্প তো আমরা জানি।
পেটুক-রসিকতা দারুন মজার বিষয়। কত ভাব-সাব নিয়ে খায়, বেঁচারা।
আর, পেট রাজনীতি চরম বাজে জিনিস। ক্ষুদ্র স্বার্থে মানুষের বড় ক্ষতি করতেও দ্বীধা হয় না।
আসলে মানুষ যা করে, তার সবকিছুতেই রাজনীতির মিশ্রন রয়েছে এবং যা করে তাতে তার স্বার্থ জড়িত। যাহোক, সব বিষয় তো আর আলোচনা করা যায় না। এ পর্যন্ত থাক!
rahimmars.wordpress.com