সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শিক্ষা-ব্যাহত

শিক্ষার প্রধান এবং সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য মানুষের বোধ শক্তি জাগ্রত করা। কে কি বলছে, কোথায় কি হচ্ছে, ঘটনার পরম্পরা, কোনো জিনিস দেখে তার সঠিক রুপ উপলব্ধির বোধ তৈরি করাই শিক্ষার প্রধান এবং সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য ও আদর্শ। 
কিন্তু, আমাদের দেশে এটা খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। মনে হয়, দেশে মানুষের বোধ শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। একজন উচ্চ-শিক্ষিত মানুষ একজন রিক্সাওয়ালার সাথে যে আচার-আচারণ দেখায়, তা অত্যন্ত দুঃখজনক! একটা সময় ছিল যখন শিক্ষিত লোক সমাজের আইডল হিসেবে কাজ করত। তাদেরকে সবাই অনুসরণ-অনুকরণ করত। আর এখন শিক্ষিত লোক দেখলে ভয়ে সাধারণ মানুষ পাশেই যায় না। কি করুণ ব্যাপার! 
আসলে, আমি ব্যক্তিগতগতভাবে যেটা উপলব্ধি করলাম সেটা হলো, শিক্ষিত মানুষ দিনকে-দিন একাডেমিক হয়ে যাচ্ছে। প্রাকটিক্যাল আচার-আচারণ থেকে তারা অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থ-সম্পদের মোহে পড়ে তারা ইহজাগতি-পারলৌকিক ব্যাপার গুলো ভুলে যাচ্ছে। 
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে শিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিত লোকের চেয়ে সাধারণ স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন লোকের আচার-ব্যবহার অনেক অনেক ভালো। 
তাহলে, এই উচ্চ-শিক্ষার মূল্য কোথায়? 
আপনি যেখানে যেভাবেই থাকেন না কেন সেটা বড় কথা নয়, আসল কথা হচ্ছে সেখানে আপনার আচার-ব্যবহারের মাত্রা কেমন। প্রত্যেক মানুষই আপনার আচার-আচারণ দিয়েই আপনার ভালোত্ব বা মন্দত্ব বিচার করবে। এটাই স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক নিয়ম। 
নিয়ম অনুযায়ী, বড়রা ছোটদের স্নেহ করবে, ভালোবাসবে, চলাফেরার দিকনির্দেশনা দিবে, তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করবে না, সমস্যা হলে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলবে। 
ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, মেনে চলবে। বড়দের সাথে বেয়াদবি করবে না। ভুল হয়ে গেলে, বিনয়ের সাথে ক্ষমা চেয়ে নিবে। কোন বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করতে হলে, সেটাও বিনয়ের সাথে করতে হবে। এটাই তো আসল মূল্যবোধের পরিচয়। এগুলো আমাদের দেশের মূল্যবোধ। দেশের সম্পদ। এগুলো বাদ দিয়ে সুন্দর সমাজ ও দেশ কল্পনা করাই মরীচিকা। 
বেশিরভাগ সময় আমাদের ভিতর অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, রেষারেষি ও অযাচিত-আলোচনা দেখা যায়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো একদমই হারাম। অন্যদিকে, স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়গুলো অনায্য। অন্যায়ও বটে! 
কাজেই, আমাদের এগুলো পরিহার করা অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য বলে মনে করি। 
আসুন, আমরা ব্যবহারিক আচার-আচারণের চর্চা করি এবং শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে তরান্বিত করি।